সিংগাইরের চারিগ্রামে থামছে না সরকারি খাল দখল

মাসুম বাদশাহ, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) থেকে : মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার চারিগ্রাম ইউনিয়নে কোনোভাবেই থামছে না সরকারি খাল দখল। দাসেরহাটি থেকে বালিয়াডাঙ্গি পর্যন্ত বিস্তৃত সরকারি খালটি চলছে দখলের প্রতিযোগিতা। এর একাধিক স্থান মাটি ভরাট করে অবৈধভাবে দখল করে প্রভাবশালীরা গড়ে তুলেছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ি। পানি নিষ্কাশনের একমাত্র মাধ্যম এ খালটি ভরাট হওয়ায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টির পাশাপাশি ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশংকা করছেন আশপাশের একাাধিক গ্রামের মানুষ। একের পর এক খাল দখল অব্যাহত থাকায় ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় এলাকাবাসির মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সংগে কথা বলে জানা গেছে, কালিগঙ্গা নদীর শাখা নূরালী গঙ্গা থেকে ওই ইউনিয়নের দাসেরহাটি-চারিগ্রাম বাজারের পূর্ব পাশ ঘেঁষে বালিয়াডাঙ্গি পর্যন্ত প্রবাহিত ছিল। এক সময় চলাচল করত নৌকা। সময়ের আবর্তে ভূমিখেঁকো প্রভাবশালীদের নজরে পড়ে খালটি। ১৯৯৭ সাল থেকে শুরু হয় বড় চারিগাঁও মৌজার এ খাল দখলের প্রতিযোগিতা।
জানা যায়, শুরুতে এর প্রবেশ পথ অবৈধভাবে ভরাট করে বসতবাড়ি নির্মাণ করে দাশেরহাটি গ্রামের বদু ব্যাপারি। ওই সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিবাদ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সাময়িকভাবে ভরাট কাজ বন্ধ থাকে। পরে পুনরায় শুরু হয় খাল দখলের মহোৎসব। গত কয়েক বছরে ভূমিখেঁকোদের গ্রাসে খালটির অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। চলতি বছরের শুরুতে স্থানীয় জগদীশ চন্দ্র ঘোষ খালের অবৈধ দখলদার অফেল মাস্টারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পূর্ব পাশের একটি অংশ মাটি ভরাট করে দখল করে। এ নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় ফলাও করে সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রশাসনের টনক নড়লে মাটি সরিয়ে ফেলতে ১৫ দিনের সময় বেঁধে দেয়া হলেও তা মানা হচ্ছে না। দখলদার জগদীশের পূর্বপাশে খালে নতুন করে মাটি ভরাট শুরু করেছেন আরেক দখলদার প্রভাবশালী লিটন খান। তিনি খাঁনপাড়া কবর স্থানের পশ্চিম পাশে খালের বড় একটি অংশ জুড়ে প্রকাশ্যে মাটি ভরাটের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন নিরব ভূমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ ওঠেছে ।
রোববার সরেজমিনে দেখা গেছে, ওসমান গণি, রুস্তম মাস্টার, লিটন খাঁন, অফেল মাস্টার ও জেলা পরিষদ সদস্য আব্দুল আলীমের মালিকানাধীন মেসার্স এ এইচ এম ব্রিকস্ অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন ওই খালের বিরাট অংশ দখল করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বসতবাড়ি ও ইটভাটা নির্মাণ করেছে।
স্থানীয় একাধিক ব্যাক্তি অভিযোগ করে বলেন, দখলদারেরা স্থানীয় ভূমি সহকারি কর্মকর্তা কেএম ফিরোজের যোগসাজশেই প্রশাসনের বিভিন্নস্তরকে ম্যানেজ করে সরকারি এ খালটি গ্রাস করছে। প্রতিবাদ করে কোন লাভ হয়না বরং বিপদের মুখে পড়তে হয়। এদিকে,খালটি দখলের কারনে বিভিন্নস্থানে জলাবদ্ধতা ও বিস্তীর্ন ফসলি জমিতে পানি ঢুকতে ও বেরুতে না পারায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। পরিবেশের ওপর নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। এ নিয়ে এলাকাবাসির মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
জানা গেছে, হাইকোর্ট এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে প্রত্যেক জেলায় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে সরকারি খাল রক্ষা ও অবৈধ দখলদারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিলেও উপজেলায় খাল ও নদী রক্ষায় প্রশাসনের কোন মাথাব্যাথা নেই। এতে একদিকে যেমন উচ্চ আদালতের নির্দেশ উপেক্ষিত হচ্ছে, অন্যদিকে ভূমিখেঁকোরা আরো বেপরোয়া হয়ে অব্যাহতভাবে খাল দখল করেই চলছে। ফলে ,প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত লিটন খাঁন বলেন, আমি ভেবেছিলাম এটা সরকারি খাল। কিন্তু দেখি খাল রাস্তা হিসেবে রের্কড হয়ে গেছে। রাস্তার সাথে সাড়ে ৫২ শতাংশ জমি আমার পৈত্রিক সম্পত্তি। খালও আমার নিজের তাই ভরাট করছি। এটা নিয়ে কেউ কিছু করলে আমি তার বিরুদ্ধে মামলা করবো। জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক বাবুরাজ খাঁন, চারিগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ওহাব আলী পোদ্দার ও স্থানীয় (অবঃ) সেনা সদস্য আওলাদ হোসেন সরকারি খাল অবৈধভাবে মাটি ভরাটের কথা স্বীকার করে বলেন, এটা অন্যায় করা হয়েছে। এতে স্থানীয় ভূমি অফিসের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা।
চারিগ্রাম ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তা কে এম ফিরোজ খাল দখলের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ বিষয়ে আমি লিটন খাঁনকে নিষেধ করেছি এবং মাটি সরিয়ে নিতে বলেছি। তিনি এসিল্যান্ড স্যারের সংগে কথা বলবেন জানিয়েছেন। সদ্য দখলদার জগদীশ চন্দ্র ঘোষের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, আমি তাকে নোটিশ করেছিলাম, পরে কি হয়েছে বলতে পারবো না।
এ ব্যাপারে সিংগাইর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোঃ হামিদুর রহমান বলেন, আগের দখলদার জগদীশের মত লিটন খানকেও মাটি সরিয়ে ফেলতে নোটিশ করা হবে। এতে কাজ না হলে দখলদারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদের মামলা দেয়া হবে।

ধামরাইয়ে চলন্ত বাসে গণধর্ষণকারী ৫ আসামীর ৩ দিনের রিমান্ড
ধামরাই প্রতিনিধি : ধামরাইয়ে চলন্ত বাসে পোশাক কারখানার নারী শ্রমিককে গণধর্ষণের ঘটনায় ৫ আসামীর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার চিফ জ্যুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আতিকুল ইসলাম এ রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন বলে জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধামরাই থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) জাকারিয়া হোসেন।
তিনি জানান, আসামীদের ৭দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে হাজির করা হয়েছিল গত সোমবার। ওইদিন আদালত শুনানি গ্রহণ না করায় গতকাল মঙ্গলবার বিচারক আতিকুল ইসলাম তাদের ৩দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে এনে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তারা এর আগেও বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত ছিল কিনা তাও যাচাই করা হবে। এদিকে ধর্ষণের শিকার ওই নারী শ্রমিককে স্বাস্থ্য পরিক্ষার জন্য ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এতে ওই হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগের ডাক্তার সালমা খাতুনের তত্ত্বাবধানের স্বাস্থ্য পরিক্ষা সম্পন্ন করা হয়। এর আগে সোমবার ভুক্তভোগী ওই নারী ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মনিকা খানের খাসকামরায় নারী ও শিশু দমন আইনের ২২ ধারায় জবানবন্দি দেন।
আসামীরা হলেন. বাসচালক চুয়াডাঙ্গা সদর থানার কোর্টপাড়া মহল্লার মৃত শফি মল্লিকের ছেলে বাবু মল্লিক (২৪), নিলফামারী জেলার ডিমলা থানার সরকারপাড়া গ্রামের শ্রী মহন লালের ছেলে বলরাম (২০), ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া থানার মৃত জসিম উদ্দিনের ছেলে আবদুল আজিজ (৩০),ধামরাই থানার দক্ষিন গাওয়াইল গ্রামের কালু বেপারীর ছেলে মোঃ সোহেল (২০) একই থানার দক্ষিন কেলিয়া গ্রামের রাজু মাতবরের ছেলে মকবুল হোসেন (৩৮)। আসামীদের মধ্যে চালক বাবু মল্লিক ও আবদুল আজিজ ধর্ষণ করে। অন্যরা সহযোগিতা করে।
এদিকে জব্দ করা বাসের দুই হেলপার ধামরাইয়ের জয়পুরা চরপাড়া গ্রামের হানিফ আলীর ছেলে সুমন ( ১৬) ও নিলফামারী জেলার ডিমলা থানার সলেমানী চৌবাতি গ্রামের আবদুল আজিজের ছেলে আমিনুর রহমান (১৬) ওই বাসের ভিতরেই ছিল। তারা মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জানিয়েছে, ধর্ষণের দৃশ্য যাতে তারা না দেখতে পারে এজন্য বাস চালক বাবু মল্লিক ও আবদুল আজিজসহ অন্যরা ভয়ভীতি দেখিয়ে বাসের ভিতরেই উল্টো দিকে তাকিয়ে থাকতে বলে। এর ফাঁকেও তারা দেখেছে ধর্ষণ কে কে করেছে।
গত রবিবার রাত নয়টার দিকে শ্রীরামপুর গ্রাফিকস টেক্সটাইল কারখানার এক নারী অপারেটর অফিস ছুটি হওয়ার পর তার ভাড়াকরা বাসা ধামরাইয়ের ইসলামপুরে ফেরার উদ্দেশ্যে কারখানার সামনে থেকে ঢাকাগামী ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যাত্রীসেবা পরিবহনের একটি বাসে (ঢাকা মেট্রো-জ-১৪-০৮১৫) উঠে। বাসটি কালামপরে আসার পর অন্যান্য যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া হয়। পরে বাসটি ঢাকার দিকে না এসে এদিক ওদিক ঘুরাতে থাকে। পুনরায় ইসলামপুরের দিকে রওয়ানা দিয়ে কেলিয়া এলাকা থেকে আরো দিনজনকে উঠায় বাসে। এক পর্যায়ে বাসের দরজা বন্ধ করে আসামীরা ওই অপারেটরকে বাসের পিছন দিকে নিয়ে হাত,মুখ ও পা বেধে ফেলে। পরে তারা বাসটি থামিয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের কেলিয়া ব্রীজের পশ্চিম পাশে ওই নারী শ্রমিককে গণধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর বাসটি ইসলামপুরের উদ্দেশে রওনা দেয়। এসময় আকস্মিকভাবে মুখের বাধন খুলে গেলে ডাক চিৎকার দেয় ধর্ষিতা। এসময় টহলরত পুলিশ বাসটি ধাওয়া দিয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের কেলিয়া ব্রীজের পুর্বপাশে বাসসহ ধষণকারীদের আটক করে। এ ব্যাপারে ধামরাই থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং ১৬।
গত বছরের ২৫ আগষ্ট বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে বহুজাতিক কোম্পানীর কর্মী রুপা খাতুন চলন্ত বাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন। দুর্র্বৃত্তরা তাকে হত্যা করে টাঙ্গাইলের মধুপুরের বন এলাকায় ফেলে যায়। এ ঘটনায় করা মামলার রায়ে বাসটির চালক হাবিবুর (৪৫) চালকের সহকারী শামীম (২৬), আক্রাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীরকে ফাঁসির আদেশ দেন। বাসের সুপারভাইজার সফর আলীকে দেন সাত বছরের কারাদন্ড।
সিংগাইরের চারিগ্রামে থামছে না সরকারি খাল দখল
মাসুম বাদশাহ, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) থেকে : মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার চারিগ্রাম ইউনিয়নে কোনোভাবেই থামছে না সরকারি খাল দখল। দাসেরহাটি থেকে বালিয়াডাঙ্গি পর্যন্ত বিস্তৃত সরকারি খালটি চলছে দখলের প্রতিযোগিতা। এর একাধিক স্থান মাটি ভরাট করে অবৈধভাবে দখল করে প্রভাবশালীরা গড়ে তুলেছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ি। পানি নিষ্কাশনের একমাত্র মাধ্যম এ খালটি ভরাট হওয়ায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টির পাশাপাশি ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশংকা করছেন আশপাশের একাাধিক গ্রামের মানুষ। একের পর এক খাল দখল অব্যাহত থাকায় ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় এলাকাবাসির মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সংগে কথা বলে জানা গেছে, কালিগঙ্গা নদীর শাখা নূরালী গঙ্গা থেকে ওই ইউনিয়নের দাসেরহাটি-চারিগ্রাম বাজারের পূর্ব পাশ ঘেঁষে বালিয়াডাঙ্গি পর্যন্ত প্রবাহিত ছিল। এক সময় চলাচল করত নৌকা। সময়ের আবর্তে ভূমিখেঁকো প্রভাবশালীদের নজরে পড়ে খালটি। ১৯৯৭ সাল থেকে শুরু হয় বড় চারিগাঁও মৌজার এ খাল দখলের প্রতিযোগিতা।
জানা যায়, শুরুতে এর প্রবেশ পথ অবৈধভাবে ভরাট করে বসতবাড়ি নির্মাণ করে দাশেরহাটি গ্রামের বদু ব্যাপারি। ওই সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিবাদ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সাময়িকভাবে ভরাট কাজ বন্ধ থাকে। পরে পুনরায় শুরু হয় খাল দখলের মহোৎসব। গত কয়েক বছরে ভূমিখেঁকোদের গ্রাসে খালটির অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। চলতি বছরের শুরুতে স্থানীয় জগদীশ চন্দ্র ঘোষ খালের অবৈধ দখলদার অফেল মাস্টারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পূর্ব পাশের একটি অংশ মাটি ভরাট করে দখল করে। এ নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় ফলাও করে সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রশাসনের টনক নড়লে মাটি সরিয়ে ফেলতে ১৫ দিনের সময় বেঁধে দেয়া হলেও তা মানা হচ্ছে না। দখলদার জগদীশের পূর্বপাশে খালে নতুন করে মাটি ভরাট শুরু করেছেন আরেক দখলদার প্রভাবশালী লিটন খান। তিনি খাঁনপাড়া কবর স্থানের পশ্চিম পাশে খালের বড় একটি অংশ জুড়ে প্রকাশ্যে মাটি ভরাটের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন নিরব ভূমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ ওঠেছে ।
রোববার সরেজমিনে দেখা গেছে, ওসমান গণি, রুস্তম মাস্টার, লিটন খাঁন, অফেল মাস্টার ও জেলা পরিষদ সদস্য আব্দুল আলীমের মালিকানাধীন মেসার্স এ এইচ এম ব্রিকস্ অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন ওই খালের বিরাট অংশ দখল করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বসতবাড়ি ও ইটভাটা নির্মাণ করেছে।
স্থানীয় একাধিক ব্যাক্তি অভিযোগ করে বলেন, দখলদারেরা স্থানীয় ভূমি সহকারি কর্মকর্তা কেএম ফিরোজের যোগসাজশেই প্রশাসনের বিভিন্নস্তরকে ম্যানেজ করে সরকারি এ খালটি গ্রাস করছে। প্রতিবাদ করে কোন লাভ হয়না বরং বিপদের মুখে পড়তে হয়। এদিকে,খালটি দখলের কারনে বিভিন্নস্থানে জলাবদ্ধতা ও বিস্তীর্ন ফসলি জমিতে পানি ঢুকতে ও বেরুতে না পারায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। পরিবেশের ওপর নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। এ নিয়ে এলাকাবাসির মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
জানা গেছে, হাইকোর্ট এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে প্রত্যেক জেলায় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে সরকারি খাল রক্ষা ও অবৈধ দখলদারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিলেও উপজেলায় খাল ও নদী রক্ষায় প্রশাসনের কোন মাথাব্যাথা নেই। এতে একদিকে যেমন উচ্চ আদালতের নির্দেশ উপেক্ষিত হচ্ছে, অন্যদিকে ভূমিখেঁকোরা আরো বেপরোয়া হয়ে অব্যাহতভাবে খাল দখল করেই চলছে। ফলে ,প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত লিটন খাঁন বলেন, আমি ভেবেছিলাম এটা সরকারি খাল। কিন্তু দেখি খাল রাস্তা হিসেবে রের্কড হয়ে গেছে। রাস্তার সাথে সাড়ে ৫২ শতাংশ জমি আমার পৈত্রিক সম্পত্তি। খালও আমার নিজের তাই ভরাট করছি। এটা নিয়ে কেউ কিছু করলে আমি তার বিরুদ্ধে মামলা করবো। জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক বাবুরাজ খাঁন, চারিগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ওহাব আলী পোদ্দার ও স্থানীয় (অবঃ) সেনা সদস্য আওলাদ হোসেন সরকারি খাল অবৈধভাবে মাটি ভরাটের কথা স্বীকার করে বলেন, এটা অন্যায় করা হয়েছে। এতে স্থানীয় ভূমি অফিসের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা।
চারিগ্রাম ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তা কে এম ফিরোজ খাল দখলের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ বিষয়ে আমি লিটন খাঁনকে নিষেধ করেছি এবং মাটি সরিয়ে নিতে বলেছি। তিনি এসিল্যান্ড স্যারের সংগে কথা বলবেন জানিয়েছেন। সদ্য দখলদার জগদীশ চন্দ্র ঘোষের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, আমি তাকে নোটিশ করেছিলাম, পরে কি হয়েছে বলতে পারবো না।
এ ব্যাপারে সিংগাইর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোঃ হামিদুর রহমান বলেন, আগের দখলদার জগদীশের মত লিটন খানকেও মাটি সরিয়ে ফেলতে নোটিশ করা হবে। এতে কাজ না হলে দখলদারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদের মামলা দেয়া হবে।