মত প্রকাশের স্বাধীনতা ব্যাহত হলে ৩২ ধারায় উপধারা সংযোজন হবে :আইনমন্ত্রী

ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট পাসের জন্য সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটিতে রয়েছে। আইনটির ৩২ ধারার কারণে মত প্রকাশের স্বাধীনতা বা বাকস্বাধীনতা ব্যাহত হবে বলে যে কথা বলা হচ্ছে, সেক্ষেত্রে যদি প্রয়োজন হয় তবে একটি উপধারা সংযোজন করা হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। মঙ্গলবার (১০ এপ্রিল) রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে নিম্ন আদালতের বিচারকদের এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। বহুল আলোচিত ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের খসড়া সংসদে উত্থাপনের বিষয়ে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘আইনটি পাস হয়নি। আপনাদের আইন পাসের সিস্টেমটা একটু বলি। প্রথমে যে মন্ত্রণালয়ের আইন সে মন্ত্রণালয় আইনের একটি ড্রাফ্ট (খসড়া) করে। পরে তা অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সভায় উপস্থাপন করা হয়। মন্ত্রিপরিষদ যদি নীতিগতভাবে অনুমোদন দেয়, তখন সেটি ভেটিংয়ের (মতামতের) জন্য যায়। এরপর ভেটিং হয়ে গেলে আবারও সেটি মন্ত্রিপরিষদে যায়। তখন সেখানে এটার অনুমোদন হয়। অনুমোদন হওয়ার পরে সেটি সংসদে যায়। এটা গতকাল (৯ এপ্রিল) পার্লামেন্টে যাওয়ার পরে তা হাউজে উত্থাপন করা হয়েছে। হাউজে উত্থাপন করার পরে বলা হয়েছে—এটা এখন পার্লামেন্টের স্ট্যান্ডিং কমিটিতে (স্থায়ী কমিটি) যাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ল রিপোর্টার্স ফোরামের একটা অনুষ্ঠানে ৩২ ধারায় একটা উপধারা সংযোজন করার ব্যাপারে আলাপ-আলোচনা করেছিলাম। গতকাল (৯ এপ্রিল) বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম সাহেব সেটার উল্লেখ করেছেন। আমি আপনাদের বলতে চাই, যখন এটা স্ট্যান্ডিং কমিটিতে যাবে, তখনও কিন্তু আলাপ-আলোচনা করার সময় থাকবে এবং আলাপ-আলোচনা হবে। আলাপ-আলোচনা হয়ে এই যে উপধারার কথা বলা হয়েছে, সেটা যদি প্রয়োজন মনে হয় এবং সেটা করলে যদি এমন দাঁড়ায় যে, ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন (মত প্রকাশের স্বাধীনতা) এবং ফ্রিডম অব স্পিচ (বাকস্বাধীনতা) ব্যাহত হবে বলে যে কথা বলা হচ্ছে, সেক্ষেত্রে ব্যাহত হবে না, এমন জিনিস (ধারা বা উপধারা) নিশ্চয়ই সংযোজন করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘কিন্তু আইনের খসড়া নিয়ে বলা হচ্ছে— সেটা কারও সঙ্গে আলাপ-আলোচনা না করে সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে, কথাটা ঠিক না। আলাপ-আলোচনার জায়গাই হচ্ছে স্ট্যান্ডিং কমিটি। স্ট্যান্ডিং কমিটিতেও আলাপ-আলোচনা করা যায়। যে পর্যায়ে আমি বলেছিলাম সেখানে আলাপ-আলোচনার জায়গা স্ট্যান্ডিং কমিটি ছাড়া অন্য জায়গা ছিল না। তাই বিলটা উত্থাপন করে কারও সঙ্গে আলাপ-আলোচনা না করে উত্থাপন করা হয়েছে, কথাটা ঠিক না। বরং উত্থাপন করে আলাপ-আলোচনার দ্বার উন্মোচন করা হয়েছে।’ ৩২ ধারা নিয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের জন্য উদ্বেগের কোনও কারণ আছে কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি তো বলেছি আপনাদের কোনও উদ্বেগের কারণ হওয়া উচিত না। আমি আরও বিশদভাবে আপনাদের বলবো একসময়, কেন (উদ্বিগ্ন) উচিত না।’ সাইবার ক্রাইমস ট্রাইব্যুনালের এজলাসসহ যেসব অপর্যাপ্ততা রয়েছে সে সম্পর্কে শিগগিরই উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু বিগত দুই বছরেও তা না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘তখন কিন্তু ৫৭ ধারা নিয়ে একটা বাকবিতণ্ডা চলছিল। তখনই কিন্তু বলেছিলাম— এটা নিয়ে একটি নতুন আইন আসছে। এই নতুন আইনটা চূড়ান্ত হোক, সাইবার ক্রাইমস ট্রাইব্যুনাল চলছে, অভিজ্ঞতা অর্জন করছে। আমার বিশ্বাস এটাকে আরও ইনফ্রাস্ট্রাকচারালি (অবকাঠামোগত) এবং প্র্যাকটিক্যালি এটাকে আরও শক্তিশালী করার জন্য যা করা দরকার আমরা করবো।