প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে

 সরকারি চাকরিতে কোটা ৫৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করাসহ ৫ দফা দাবিতে চলমান আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা প্রত্যাহার করেছে আন্দোলনকারীরা।  দ্বিধাবিভক্ত আন্দোলনকারীরা ফের একত্র হয়ে আন্দোলনে নেমেছে। কোটা সংস্কার নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট ঘোষণা, গ্রেফতারকৃত সবার মুক্তি, আহতদের চিকিৎসার দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন তারা।  মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে এ ঘোষণা দেয় শুরু থেকে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়া কমিটি। বাজেটের আগে কোটা সংস্কার নয় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের এমন বক্তব্য এবং ‘আন্দোলনকারীদের রাজাকারের বাচ্চা’ বলে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর দেয়া বক্তব্য প্রত্যাহার না করায় এ ঘোষণা দেয়া হয়।  এতে বলা হয়, আন্দোলন আগের মতোই চলবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন সড়ক অবরোধ এবং সকল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন অব্যাহত থাকবে।  কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা আসতেই হাজার হাজার শিক্ষার্থী ফের রাজু ভাস্কর্যের সামনে জড়ো হতে থাকেন। মিছিল আর স্লোগানে তারা গোটা ক্যাম্পাস মুখরিত করে রেখেছেন।  সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, বৈঠকে সরকারের প্রতিনিধি দলের দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আটক আন্দোলনকারীদের এখনো ছেড়ে দেয়া হয়নি। এছাড়া আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতিও রাখা হয়নি।  এর আগে সোমবার সচিবালয়ে সরকারের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে কোটা সংস্কার পদ্ধতি পরীক্ষা-নিরীক্ষার আশ্বাসে ৭ মে পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিরা। তবে ‘অস্পষ্ট আশ্বাস’ মেনে না নিয়ে কর্মসূচি চালিয়ে যেতে থাকে একাংশ। আজকের ঘোষণার মধ্যদিয়ে এই বিভক্তির অবসান ঘটল।