ধামরাইয়ে চলন্ত বাসে গণধর্ষণকারী ৫ আসামীর ৩ দিনের রিমান্ড  

ধামরাই প্রতিনিধি : ধামরাইয়ে  চলন্ত বাসে পোশাক কারখানার নারী শ্রমিককে গণধর্ষণের ঘটনায় ৫ আসামীর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।  মঙ্গলবার ঢাকার চিফ জ্যুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আতিকুল ইসলাম এ রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন বলে জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধামরাই থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) জাকারিয়া হোসেন।
তিনি জানান, আসামীদের ৭দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে হাজির করা হয়েছিল গত সোমবার। ওইদিন আদালত শুনানি গ্রহণ না করায়  মঙ্গলবার বিচারক আতিকুল ইসলাম তাদের ৩দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে এনে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তারা এর আগেও বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত ছিল কিনা তাও যাচাই করা হবে। এদিকে ধর্ষণের শিকার ওই নারী শ্রমিককে স্বাস্থ্য পরিক্ষার জন্য ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এতে ওই হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগের ডাক্তার সালমা খাতুনের তত্ত্বাবধানের স্বাস্থ্য পরিক্ষা সম্পন্ন করা হয়। এর আগে সোমবার ভুক্তভোগী ওই নারী ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মনিকা খানের খাসকামরায় নারী ও শিশু দমন আইনের ২২ ধারায় জবানবন্দি দেন।
আসামীরা হলেন. বাসচালক চুয়াডাঙ্গা সদর থানার কোর্টপাড়া মহল্লার মৃত শফি মল্লিকের ছেলে বাবু মল্লিক (২৪), নিলফামারী জেলার ডিমলা থানার সরকারপাড়া গ্রামের শ্রী মহন লালের ছেলে বলরাম (২০), ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া থানার মৃত জসিম উদ্দিনের ছেলে আবদুল আজিজ (৩০),ধামরাই থানার দক্ষিন গাওয়াইল গ্রামের কালু বেপারীর ছেলে  মোঃ সোহেল (২০) একই থানার দক্ষিন কেলিয়া গ্রামের রাজু মাতবরের ছেলে মকবুল হোসেন (৩৮)। আসামীদের মধ্যে চালক বাবু মল্লিক ও আবদুল আজিজ ধর্ষণ করে। অন্যরা সহযোগিতা করে।
এদিকে জব্দ করা বাসের দুই হেলপার ধামরাইয়ের জয়পুরা চরপাড়া গ্রামের হানিফ আলীর ছেলে সুমন ( ১৬) ও নিলফামারী জেলার ডিমলা থানার সলেমানী চৌবাতি গ্রামের আবদুল আজিজের ছেলে আমিনুর রহমান (১৬) ওই বাসের ভিতরেই ছিল। তারা মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জানিয়েছে, ধর্ষণের দৃশ্য যাতে তারা না দেখতে পারে এজন্য বাস চালক বাবু মল্লিক ও আবদুল আজিজসহ অন্যরা ভয়ভীতি দেখিয়ে বাসের ভিতরেই উল্টো দিকে তাকিয়ে থাকতে বলে। এর ফাঁকেও তারা দেখেছে ধর্ষণ কে কে করেছে।
গত রবিবার রাত নয়টার দিকে শ্রীরামপুর গ্রাফিকস টেক্সটাইল কারখানার এক নারী অপারেটর অফিস ছুটি হওয়ার পর তার ভাড়াকরা বাসা ধামরাইয়ের ইসলামপুরে ফেরার উদ্দেশ্যে কারখানার সামনে থেকে ঢাকাগামী ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যাত্রীসেবা পরিবহনের একটি বাসে (ঢাকা মেট্রো-জ-১৪-০৮১৫) উঠে। বাসটি কালামপরে আসার পর অন্যান্য যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া হয়। পরে বাসটি ঢাকার দিকে না এসে এদিক ওদিক ঘুরাতে  থাকে। পুনরায় ইসলামপুরের দিকে রওয়ানা দিয়ে কেলিয়া এলাকা থেকে আরো দিনজনকে উঠায় বাসে। এক পর্যায়ে বাসের দরজা বন্ধ করে আসামীরা ওই অপারেটরকে বাসের পিছন দিকে নিয়ে হাত,মুখ ও পা বেধে ফেলে। পরে তারা বাসটি থামিয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের কেলিয়া ব্রীজের পশ্চিম পাশে ওই নারী শ্রমিককে গণধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর বাসটি ইসলামপুরের উদ্দেশে রওনা দেয়। এসময় আকস্মিকভাবে মুখের বাধন খুলে গেলে ডাক চিৎকার দেয় ধর্ষিতা। এসময় টহলরত পুলিশ বাসটি ধাওয়া দিয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের কেলিয়া ব্রীজের পুর্বপাশে বাসসহ ধষণকারীদের আটক করে। এ ব্যাপারে ধামরাই থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং ১৬।
গত বছরের ২৫ আগষ্ট বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ  যাওয়ার পথে বহুজাতিক কোম্পানীর কর্মী রুপা খাতুন চলন্ত বাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন। দুর্র্বৃত্তরা তাকে হত্যা করে টাঙ্গাইলের মধুপুরের বন এলাকায় ফেলে যায়। এ ঘটনায় করা  মামলার রায়ে বাসটির চালক হাবিবুর (৪৫) চালকের সহকারী শামীম (২৬), আক্রাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীরকে ফাঁসির আদেশ দেন। বাসের সুপারভাইজার সফর আলীকে দেন সাত বছরের কারাদন্ড।