কোটা সংস্কারের দাবিতে সড়ক অবরোধ, রাজধানীতে তীব্র যানজট

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা অবরোধের কারণে যান চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। মঙ্গলবার (১০ এপ্রিল) দুপুর প্রায় দেড়টা থেকে সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। এ কারণে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট। ফলে ভোগান্তিতে পড়তে হয় নগরবাসীদের। বিকালে নতুন করে ধানমন্ডির ২৭ নম্বর সড়কের মোড়ে অবরোধ করেন স্টেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা।  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও কোটা সংস্কারের আন্দোলনে নেমেছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। রাজধানীর সোবহানবাগে ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা, যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে নর্থ-সাউথ (এনএসইউ) ও আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (এআইইউবি) শিক্ষার্থীরা এবং রামপুরা ব্রিজের পূর্বপাশে ইস্টওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন।  বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার গেটে মেইন রোডে শিক্ষার্থীদের অবরোধমঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে শিক্ষার্থীরা মিছিল করে কোটা সংস্কারের দাবি সম্বলিত পোস্টার হাতে নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। এতে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। রাস্তায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের সামনে মানববন্ধনে দাঁড়ায় প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে। এরপর রামপুরা ব্রিজের কাছে রাস্তার দু’পাশ অবরোধ করে তারা স্লোগান দিয়ে কোটা সংস্কারের দাবি জানায়। এ সময় রাস্তায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।  ইউআইটিএস বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আমেরিকান দূতাবাসের সামনের রাস্তায় দাঁড়িয়ে আন্দোলন শুরু করেন। এতে কুড়িল থেকে রামপুরা পর্যন্ত পুরো রাস্তায় গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। রামপুরা ও কুড়িল বিশ্বরোডের বিভিন্ন জায়গায় অবরোধ করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।  বনানী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দেখা গেছে, অনেকেই অপেক্ষা করেছেন বাসসহ অন্যান্য যানবাহনের জন্য।  সাইদুল ইসলাম নামের একজন  বলেন, ‘অনেকক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছি বাসের জন্য। কিন্তু পাইনি। এখন সিএনজি খুঁজেও পাচ্ছি না। অন্যদিকে যানজটের কারণে গাড়িও নড়ছে না। ’  রাজধানীর বনশ্রীতে সড়কে শিক্ষাথীরাএকই অভিযোগ জানালেন মাসউদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘এত বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে, বলার মতো নয়। পথে পথে অবরোধের কারণে অনেক কষ্টে মোহাম্মদপুর থেকে বনানী এসেছি। এখন কাজ শেষ। ফিরে যাবো কিন্তু গাড়ি পাচ্ছি না।  প্রধান সড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে বনানী ও গুলশানের ভেতরের সব রাস্তাও বন্ধ হয়ে যায়। গুলশান-১ নম্বর থেকে বাড্ডা লিঙ্ক রোড পর্যন্ত জ্যামের কারণে রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। গুলশান-১ থেকে গুলশান-২ পর্যন্ত প্রধান সড়কে আস্তে আস্তে গাড়ি চললেও গুলশান-২ এর মাথায় বন্ধ হয়ে যায়। এই মুহূর্তে কোনও গাড়ি বের হতে পারছে না। গুলশান বনানীর ভেতরের সব রাস্তা আস্তে আস্তে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আন্দোলনকারীদের মিছিলধানমন্ডির ২৭ নম্বর সড়ক অবরোধ করেন স্টেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা। এই ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিব  জানিয়েছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঘোষণা না আসা পর্যন্ত আমরা আছি এখানেই। কোটা সংস্কার, অর্থমন্ত্রীর ভ্যাট আরোপের বক্তব্য প্রত্যাহার এবং ‍কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাইতে হবে।  সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পর সচল মিরপুর রোড  কোটা সংস্কারের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে বেলা ১১টা থেকে মিরপুর রোডে অবস্থান নিয়েছিল ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এতে থমকে গিয়েছিল মিরপুর রোডের যান চলাচল।  আসাদগেট থেকে নিউ মার্কেটের দিকে চলাচলকারী যানবাহনকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছিল ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়ক দিয়ে সাত মসজিদ রোডের দিকে। এতে সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল। তবে বিকাল সাড়ে চারটার দিকে সড়কে অবস্থান থেকে সরে এসে ক্যাম্পাসে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা।  আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ফারদিন জানান,  আজকের মতো অবস্থান শেষ। প্রয়োজন হলে আগামীকাল সকাল ১০ টা থেকে আবারও অবস্থান নেবো।  ডিএমপির তেজগাঁও জোনের এসি আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন  বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা রাস্তা ছেড়ে দিচ্ছে। কিছুক্ষণের মধ্যে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যাবে আশা করি।’  সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার অবস্থানে থমকে গিয়েছিল মিরপুর রোড। যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে অনেককে। সোবহানবাগের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম জানান, মেয়েকে নিয়ে যাওয়ার দরকার ছিল ডাক্তারের কাছে। কিন্তু রাস্তা বন্ধ, পুলিশও আছে। কখন কী হয় বলে যায় না। তাই অপেক্ষা করছি।   এছাড়া, বিকাল ৫টা ৩৭ মিনিটের দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার মূল গেট সংলগ্ন কুড়িল বিশ্বরোড থেকে অবরোধ তুলে নেন ওই এলাকার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীরা।