মেয়ে-জামাইয়ের বিচ্ছেদের খবর নিজেই জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের কন্যা নাদিয়া নন্দিতা ইসলামের বিবাহবিচ্ছেদ বিষয়টি মন্ত্রী নিজেই জানিয়েছেন। সোমবার মন্ত্রিসভা বৈঠকে শেষে মন্ত্রীদের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক আলোচনাকালে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রিসভায় উপস্থিত একাধিক মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।  সূত্র জানায়, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের দিকে তাকিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শাহবাগের ইমরান এইচ সরকার কোটা নিয়ে গুজব ছড়াচ্ছেন। এ সময় অধিকাংশ মন্ত্রীই শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের দিকে তাকান।   প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কোটা নিয়ে কেউ যদি গুজব এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে থাকে, তবে তাকে অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে। শিক্ষামন্ত্রী অন্যান্য মন্ত্রীদের উদ্দেশে আরও বলেন, ইমরান এইচ সরকারের সঙ্গে আমার পরিবারের বর্তমানে কোনো সম্পর্ক নাই। আমার মেয়ের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু গত তিনমাস আগে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে গেছে।  ইমরান এইচ সরকার শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম উদ্যোক্তা সংগঠন ‘ব্লগার অ্যান্ড অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নেটওয়ার্ক’ (বোয়ান) এর মুখপাত্র।  এদিকে ইমরান এইচ সরকারের ফেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে শুরু থেকেই তিনি তার নিজের মনোভাব প্রকাশ করে আসছেন। পাশাপাশি আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীর উপর ভয়াবহ হামলার একাধিক ছবিও প্রকাশ করেছেন।  সোমবার তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লিখেন, ‘আমি এই ছেলেটির নাম দিলাম ‘সাহস’। সে এখন বাংলাদেশের সাহস। ন্যায়ের পক্ষে লড়াই করার সাহস। ন্যায্যতার জন্য এভাবেই সাহসী হতে হয়। সাহসের ছবিটা আমার মতো সবাই নিজের ওয়ালে রেখে দিন। আমাদের সাহসেরা আরও সাহসী হয়ে উঠুক।’  আরেকটি স্ট্যাটাসে লিখেন, ‘সাবাস রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়! কোটা সংস্কারের দাবিতে এভাবেই গর্জে উঠুক সারাদেশ। সব বৈষম্যের বিরুদ্ধে জেগে উঠুক বাংলাদেশ।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ভাইয়েরা আজ রক্তাক্ত। ন্যায্য কথা বলতে এসে আজ তারা আক্রান্ত। এই ভয়াবহ নির্যাতনের খবর ছড়িয়ে দিন সবখানে। প্রতিবাদ করুন, প্রতিরোধ গড়ুন।’  এর আগে গত রোববার এক স্ট্যাটাসে লিখেন, ‘যারা আন্দোলন করছে তাদের আপনি রাজাকার বলেন, বিএনপি-জামায়াত বলেন আর যাই বলেন! আমার চোখে আন্দোলন মূলতঃ ন্যায় আর অন্যায়ের। আর আমি অবশ্যই ন্যায়ের পক্ষে; কোটা সংস্কারের পক্ষে। কে রাজাকার, কে মুক্তিযোদ্ধা সেটা সময়ই বলে দেবে।’  এর আগে তিনি বলেন, ‘একটা ভালো খবর হলো, একজন মারা যাবার যে গুজবটা ছড়িয়ে পড়েছিল এখনও সেটার সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে অনেকের অবস্থা বেশ খারাপ। সবাই দোয়া করবেন আল্লাহ যেনো সবাইকে বাঁচিয়ে রাখেন।’