প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন এরা কারা?

স্টাফ রিপোর্টার : ৫ দফা দাবিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে হামলা সহ সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের ভেতরে তিনটি প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও কোটা সংস্কারের এই আন্দোলনকে ষড়যন্ত্র হিসাবে দেখছেন। তিনি গত রোববার রাতে দলের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় দলের অপর নেতাদের কাছে জানতে চেয়েছেন কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে নামা এরা কারা? এদের পারিবারিক পরিচয় কী? মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বহনকারী পরিবারের কোনও সন্তান এই আন্দোলনে জড়াতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী এদের ব্যাপারে খোঁজখবর নিতে নির্দেশ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টদের।

এদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানের সঙ্গে সকালে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার গভীর রাতে উপাচার্যের বাসভবনে হামলার ঘটনার পর ফোন করে তার খোঁজখবর নেন প্রধানমন্ত্রী। সোমবার সকালে উপাচার্য এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, প্রশিক্ষিত সন্ত্রাসীরাই এধরনের হামলা চালিয়েছে, সাধারণ শিক্ষার্থী বা আন্দোলনকারীরা এ হামলা চালায়নি।

সরকারের সন্দেহগুলোর মধ্যে রয়েছে, প্রথমত বিএনপি-জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির সাধারণ ছাত্রের বেশ ধরে এই আন্দোলনে মিলিত হয়ে উস্কানি দিচ্ছে আন্দোলনে যাতে বেকায়দায় ফেলা যায় সরকারকে। দ্বিতীয়ত গত কয়েক বছরে ছাত্রলীগে যাদের অনুপ্রবেশ ঘটেছে তারাও এই আন্দোলনে জড়িয়েছে সরকারের বিরুদ্ধে। তৃতীয়ত ছাত্রলীগের আসন্ন সম্মেলন বানচাল করতে চায় এমন একটি অংশও চক্রান্তে নেমেছে। এরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্রলীগের মুষ্টিমেয় একটি অংশ বলে মনে করেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের দাবি, এ ধরনের অস্থিরতা থাকলে ছাত্রলীগের একটি অংশ মনে করছে সম্মেলন ঠেকানো সম্ভব হবে। ফলে তারাও কিছু শিক্ষার্থীকে মাঠে নামিয়েছে বলে মনে করে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। সোমবার সকালে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বসতে চাইলেও সে বৈঠক আর হয়নি।

তবে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ব্যাপারে অনমনীয় অবস্থানে রয়েছে সরকার। ঢাকা ছাড়াও রাজশাহী, সিলেট, রংপুর, দিনাজপুর, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীরা এ আন্দোলনের পক্ষে বিক্ষোভ প্রতিবাদ করছে। আন্দোলনকারীদের বুঝিয়ে তাদের এ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ ও সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠকের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা আন্দোলনকারীদের এ পথ থেকে সরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন।