রমজানে পণ্যবাজার সহনীয় রাখতে প্রস্তুত টিসিবি

স্টাফ রিপোর্টার : আসন্ন রমজানে নিত্যপণ্যের বাজার সহনীয় ও স্থিতিশীল রাখতে ভোক্তাদের কাছে ন্যায্যমূল্যে মসুর তেল, ডাল, চিনি, খেজুর ও ছোলা সরবরাহ করবে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। এই পাঁচ ধরণের ৭ হাজার ১০০ টন পণ্য ১৮৭টি ট্রাক ও ২ হাজার ৭৮৪জন ডিলারের মাধ্যমে দেশজুড়ে খোলাবাজারে বিক্রি করবে টিসিবি। সংশ্লিষ্ট সূত্র এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্রমতে, টিসিবির পরিকল্পনা অনুয়ায়ী খোলাবাজারে বিক্রির জন্য এ বছর ১ হাজার মে.টন বা ১০ লাখ ৮৬ হাজার ৯৫৭ লিটার তেল, ১ হাজার ৫শ’ মে.টন মশুর ডাল, ২ হাজার মে.টন চিনি, ১ হাজার ৯৫৫ মে.টন ছোলা এবং ১শ’ মে.টন খেজুর কেনা হবে। এরমধ্যে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে ২ হাজার টন চিনি ও দেড় হাজার টন তেল দরপত্রের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে। আর আন্তর্জাতিক বাজার অর্থাৎ অস্ট্রেলিয়া থেকে কেনা হয়েছে ২ হাজার টন ছোলা ও দেড় হাজার টন মসুর ডাল। এছাড়া অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে ১শ’ টন খেজুর কেনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

টিসিবি সূত্রে জানা গেছে, অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানীকৃত ছোলা ও মশুর ডাল শিগগিরই চট্টগ্রাম বন্দরে আসবে এবং তা খালাস করে টিসিবির আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোতে গুদামজাত করা হবে। এসব পণ্য ভোক্তাসাধারণের কাছে বিক্রয় শুরু হবে রোজার ৭ থেকে ১০দিন আগে। পণ্যগুলো টিসিবির নির্ধারিত বিক্রয়কেন্দ্র, ডিলার ও ট্রাকসেলে পাওয়া যাবে। এ বছর ১৮৭টি ট্রাকসেলের মধ্যে রাজধানীতে ৩৫টি, চট্টগ্রামে ১০টি, অন্য বিভাগীয় শহরে ৫টি এবং প্রতিটি জেলায় ২টি করে ট্রাক থাকবে। পণ্য সরবরাহে এ বছর কোনো সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছে টিসিবি।

টিসিবির তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির বলেন, বাজার সহনীয় রাখতে পণ্য বিক্রির সব ধরণের প্রস্তুতি নিয়েছে টিসিবি। পণ্য শেষ না হওয়া পর্যন্ত ট্রাকের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে। ডিলারদের মাধ্যমে শেষ রমজান পর্যন্ত পণ্য বিক্রি করতে চায় টিসিবি। ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত বিক্রি কার্যক্রম চলবে বলেও জানান তিনি। গত রোজায় কেজিপ্রতি চিনি ৫৫টাকা, মসুর ডাল ৮০টাকা, সয়াবিন তেল ৮৫টাকা, ছোলা ৭০টাকা এবং খেজুর ১২০টাকা দরে বিক্রি করা হয়। ওইবছর একজন ক্রেতার একসঙ্গে সর্বোচ্চ ৪কেজি চিনি, ৩কেজি মসুর ডাল, ৫লিটার সয়াবিন, ৫কেজি ছোলা এবং ১কেজি খেজুর কেনার সুযোগ ছিল। তবে এ বছরের জন্য এখন পর্যন্ত পণ্যের মূল্য ও পরিমাণ নির্ধারণ করেনি টিসিবি। পণ্য বিক্রি শুরু হওয়ার আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে নির্ধারণ করা হবে বলে জানা গেছে।