মারাত্মাক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ২৫ হাজার রোহিঙ্গা শিশু

 প্রাণঘাতী এইডস ও ক্যান্সারসহ বিভিন্ন প্রকার স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে রোহিঙ্গারা বসবাস করছে।  অজ্ঞতা, অপরিকল্পিত থাকা-খাওয়ার পরিবেশ ও অপরিচ্ছন্নতার কারণে বয়স্ক রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি শিশুরাও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় ২৫ হাজার রোহিঙ্গা শিশু মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে।  শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের আলোচনায় এ তথ্য জানানো হয়। পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এ আলোচনার আয়োজন করে। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন ড. এম ইসলাম বুলবুল।  তিনি বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংগঠন আইএসজির হিসাব অনুযায়ী গত ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত ৬ লাখ ৮৮ হাজার নতুন রোহিঙ্গাসহ মোট রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ৯ লাখ। রোহিঙ্গাদের মধ্যে অনেকেই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। সাধারণ রোগের মধ্যে ডায়রিয়া, ঠান্ডা-কাশি ও চর্মরোগে আক্রান্ত রোগী রয়েছে।  জাতিসংঘের শিশু সংস্থা ইউনিসেফের মধ্যে গত নভেম্বরের প্রতি সপ্তাহের জরিপে দেখা যায়, প্রায় ২৫ হাজার শিশু প্রাণঘাতী অপুষ্টিতে ভুগছে। যা গত মে মাসের তুলনায় দ্বিগুণ। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রতিদিন গড়ে কমপক্ষে ১৩০টি শিশু জন্ম নেবে।  বাংলা‌দেশ সেভ দ্যা চিল‌ড্রেনে তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে মোট ৪৮ হাজারের মতো রোহিঙ্গা শিশু জন্ম নেবে হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব মতে, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মধ্যে ২২ হাজার গর্ভবতী মা রয়েছেন। যাদের মধ্যে ১৭৮ জন আক্রান্ত। এদিকে প্রসব-পরবর্তী রোহিঙ্গা শিশুরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। কারণ অপরিকল্পিত বসবাস নোংরা পরিবেশ মিয়ানমারে থাকাকালীন তারা চিকিৎসার সুযোগ পায়নি।  রোহিঙ্গা শিবিরে প্রায় প্রতিদিন এক কোটি ৬০ লাখ লিটার পানি প্রয়োজন। প্রতি মাসে ১২ হাজার  ২০০ মেট্রিক টন খাদ্য দরকার এবং ১ লাখ ৪০ হাজার সিঙ্গেল মায়েদের জন্য সুরক্ষা কর্মসূচি নেওয়া দরকার। প্রায় ৫৩ হাজার ২৬৫ জন গর্ভবতী মহিলার জন্য জরায়ু প্রসূতি সেবা দান করা দরকার এবং ৪৩টি প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র এবং ১৪৪টি স্বাস্থ্য পোস্টের ব্যবস্থা করা জরুরি। শূন্য থেকে ৫৯ মাস বয়সি প্রায় ৩০ হাজার ৯৩ জন মারাত্মক তীব্র অপুষ্টিতে এবং ১ লাখ ৩  হাজার ৭৭৩ জন মাঝারি তীব্র অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশু এবং ১২ হাজার ৮২৮ জন গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী মায়েদের জন্য ১০০ পুষ্টি কেন্দ্র স্থাপন করা দরকার।  আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন বারডেম ইব্রাহিম মেমোরিয়াল ডায়াগনস্টিক সেন্টার ঢাকা ল্যাবরেটরি সার্ভিসেসের সাবেক পরিচালক এবং প্রকল্প পরিচালক (ল্যাব) শুভাগত চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণের সাবেক পরিচালক এবং ইউনিসেফের পরামর্শক প্রফেসর ডা. বি নাজির আহমেদ এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।