সিংগাইরে কোনো ভাবেই থামছে না তিন ফসলি জমিতে ইটভাটা নির্মাণ

সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় কোনোভাবেই থামছে না আবাসিক এলাকা ও তিন ফসলি জমিতে ইটভাটা নির্মাণ। এলাকাবাসীর আন্দোলন, প্রশাসনসহ হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে একের পর এক গড়ে উঠেছে ইটভাটা। উপজেলা প্রশাসনের হিসেব অনুযায়ী, ৩২টি ইটভাটার লাইসেন্স থাকলেও গড়ে ওঠেছে প্রায় ৭৫টি ভাটা। নির্মাণাধীন রয়েছে ২০টি। এতে সরকার হচ্ছে রাজস্ব বঞ্চিত। সেই সাথে খাদ্য ঘাটতিসহ পরিবেশের উপর পড়ছে বিরুপ প্রভাব।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, উপজেলার বলধারা ইউনিয়নের খোলাপাড়া চকে অবৈধভাবে গড়ে উঠা এএমবি ইটভাটার বিরুদ্ধে গত বছরের ১৭ জুলাই হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন জনৈক কৃষক জয়নাল আবেদীন। যার নং-৯৭৩৭। ওই রিটের শুনানীতে বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও ইকবাল কবীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের ৩০ দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়। এমনকি ভাটার কার্যক্রম স্থগিতেরও নির্দেশ দেয়া হয়। উচ্চ আদালতের এ নির্দেশ অমান্য করে নাম পাল্টিয়ে ওই ইটভাটার কার্যক্রম চলছে পুরোদমে। উত্তর পাশে নতুন করে আরো একটি ইটভাটার নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে।
সরেজমিনে জানা গেছে, এএবি মালিকানাধীন আব্দুল কুদ্দুস কোম্পানী ও তার সহযোগি ফজল হক, শহিদুল ইসলাম ও রফিকুল ইসলামসহ কতিপয় লোক এ ভাটা নির্মাণ করছেন। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এএবি কোম্পানীর নামে ৪টি লাইসেন্সের অন্তরালে ১২ টি ইটভাটা চালু রয়েছে। এতে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব। এলাকাবাসির অভিযোগ, এ ইটভাটার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে মারধরসহ হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন একাধিক কৃষক। ভুক্তভোগীরা জানান, ভাটা মালিকেরা প্রথমে অল্প পরিমাণ জমি নিয়ে ভেক্যু দিয়ে পাশের জমি ঘেঁষে গভীর করে মাটি কেটে নেয়। এতে সহজেই সংলগ্ন আবাদি জমি ভেঙ্গে চাষাবাদের অযোগ্য হয়ে পড়ে। ফলে জমির মালিকেরা ওই জমি নামমাত্র মূল্যে বিত্রিু করতে বাধ্য হন।
জানা গেছে, এলাবাসির অভিযোগের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমান আদালতে অবৈধ ভাটা মালিকদের জরিমানাও করা হয়েছে একাধিকবার। তারপরও থেমে নেই গণহারে ইটভাটা নির্মাণ কাজ। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় প্রশাসন মোটা অংকের নিয়ে এসব দেখেও না দেখার ভান করছেন। লিখিত অভিযোগগুলো লাল ফিতায় বন্দি হয়ে মৃত্যুর প্রহর গুণছে। এদিকে গত ২৫ মার্চ এলাবাসীর পক্ষ থেকে তেলিখোলা গ্রামের শতাধিক বাসিন্দা স্বাক্ষরিত খোলা পাড়া চকের নির্মানাধীণ ভাটার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দফতরে দাখিল করেছেন। অভিযুক্ত এএবি কোম্পানীর স্বত্ত্বাধিকারী ও ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, লাইসেন্সবিহীন ভাটাগুলো বন্ধ করে দেয়া উচিত। নতুন ইটভাটাগুলো আইন অনুযায়ী স্থাপন করা উচিত।
এ ব্যাপারে সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ যুবায়ের বলেন, লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।