মালয়েশিয়াগামী রোহিঙ্গা নৌকার ব্যাপারে অবগত নয় বাংলাদেশ

ফুলকি ডেস্ক : পৃথিবীর সবথেকে বিপন্ন জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ৫৬ শরণার্থী নিয়ে মালয়েশিয়ার পথে থাকা নৌকাটি বাংলাদেশ উপকূল থেকে ছেড়ে যায়নি বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘ শরণার্থী কমিশনের দক্ষিণপূর্বাঞ্চলের একজন মুখপাত্রের বরাতে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, শরণার্থী নৌকার উপকূল ছেড়ে যাওয়ার কোনও তথ্য তাদের কাছে নেই। কক্সবাজার পুলিশ ও কোস্ট গার্ডও  এএফপিকে একই কথা জানিয়েছে। ওই দুই সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, ওই নৌকার ব্যাপারে তদন্ত চলছে। বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের দাবি, এমন কিছু ঘটলে অবশ্যই তাদের নজরে পড়তো।  ইউএনএইচসিআর-এর বাংলাদেশি কার্যালয়ের ধারণা, গত সপ্তাহে নৌকাটি মিয়ানমারের রাখাইন থেকে যাত্রা করেছে।  মিয়ানমারে জাতিগত নিধনের শিকার রোহিঙ্গাদের বড় অংশটি বাংলাদেশে আশ্রয় নিলেও কারও কারও প্রচেষ্টা থাকে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় পাড়ি দেওয়ার। রবিবার (১ এপ্রিল) থাই উপকূলে মালয়েশিয়াগামী এমনই এক রোহিঙ্গাবাহী নৌকা শনাক্ত হওয়ার খবর জানায় ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি। সংশ্লিষ্ট এক থাই কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে এএফপি জানায়, ক্রাবি প্রদেশের উপকূলে স্থানীয় গ্রামবাসী রোহিঙ্গাদের খাবার দিয়েছে এবং পরে নৌকাটি মালয়েশিয়ার দিকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। নৌকাটিতে ৫৬ জন রোহিঙ্গা ছিল বলেও জানিয়েছে থাই কর্তৃপক্ষ। তবে এটি কোন জায়গা থেকে ছেড়ে এসেছে তা তারা জানাতে পারেননি। সোমবার (২ এপ্রিল) এএফপি’র পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুলের কাছে জানতে চাওয়া হয়। জবাবে তিনি বলেন, ‘নৌকাটি বাংলাদেশ থেকে যায়নি। তারপরও এ সংক্রান্ত খবরের আলোকে ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।’     বাংলাদেশের শরণার্থীবিষয়ক কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম বলেন, রোহিঙ্গারা তাদের ভাগ্য পরীক্ষার চেষ্টায় আবারও খোলা সাগরে নামছে ‘এ ধরনের কোনও তথ্য’ স্থানীয় কর্তৃপক্ষের হাতে নেই। তিনি বলেন, ‘কেউ নৌকায় করে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে বাংলাদেশ উপকূল থেকে যাত্রা করেছে বলে কোনও গোয়েন্দা তথ্য আমরা পাইনি।’

কোস্ট গার্ডের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও বাংলাদেশ থেকে নৌকায় করে রোহিঙ্গাদের মালয়েশিয়ার দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, কোস্ট গার্ডের টহলদারদের চোখকে ফাঁকি দিয়ে নৌকাটি চালিয়ে নিয়ে যাওয়া ‘অসম্ভব’। মাদকপাচার ও মানবপাচার ঠেকাতে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এ ধরনের টহল জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। কোস্ট গার্ডের মুখপাত্র আব্দুল্লাহ আল মারুফ এএফপিকে বলেন, ‘নৌকাগুলোকে বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয় না। আমাদের টহলকে ফাঁকি দেওয়া খুব কঠিন। আমি মনে করি না ওই লোকগুলো এখান থেকে গিয়েছে।’ সোমবার (২ এপ্রিল) রয়টার্সের কাছে পাঠানো এক ইমেইলে ইউএনএইচসিআর-এর মুখপাত্র ক্যারোলিন গ্লুক বলেন,গত সপ্তাহে নৌকাটি রাখাইন থেকে রওনা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার ধারণা, ঝড়ো আবহাওয়ার মধ্যে শনিবার সন্ধ্যায় নৌকাটি থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ এলাকায় ভিড়ানো হয়। গ্লুক বলেন,‘বর্তমানে নৌকাটি বৈরি আবহাওয়ার মধ্যে থাই-মালয়েশীয় সীমান্তবর্তী পশ্চিম উপকূলে ভাসমান আছে, নৌকায় থাকা শরণার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। যদি তাদেরকে সংকটাপন্ন অবস্থায় পাওয়া যায়,তবে আশা করি তাদেরকে উদ্ধার করা হবে এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে নৌকাটি তীরে ভিড়ানোর অনুমতি দেওয়া হবে।’ গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় ৭ লাখ মানুষ। মিয়ানমারের সরকারি বাহিনীর রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের ঘটনাকে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন ইতোমধ্যে ‘জাতিগত নির্মূলের পাঠ্যপুস্তকীয় দৃষ্টান্ত’ বলে আখ্যা দিয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব প্রশ্ন তুলেছেন, দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ দেশ ছাড়তে বাধ্য হলে তাকে ‘জাতিগত নিধনযজ্ঞ’ ছাড়া আর কী নামে ডাকা হবে। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণকে রোহিঙ্গা তাড়ানোর অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগও এনেছে জাতিসংঘ।