পহেলা বৈশাখ তাই, ইলিশের মজুত বাড়াচ্ছেন ব্যবসায়ীরা

স্টাফ রিপোর্টার : পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে এখন থেকেই ইলিশের মজুত বাড়াচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। পহেলা বৈশাখে ইলিশ পরিহারে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে অনেকে সাড়া দিলেও বেশিরভাগই মানুষ এদিন পান্তা-ইলিশ খেতে আগ্রহী। এ সুযোগটাই নেন ব্যবসায়ীরা। পহেলা বৈশাখের ইলিশের চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে দাম। স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি লাভের আশাতেই ব্যবসায়ীরা এখন থেকেই ইলিশ মজুত করছেন। পাইকারি থেকে শুরু করে আড়ৎদার পর্যন্ত সবাই এখন এই কাজে ব্যস্ত বলে জানা গেছে। পহেলা বৈশাখের সপ্তাহখানেক আগে থেকেই এসব মাছ বাজারে ছাড়া হবে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আড়ৎদাররা নদীতে গিয়ে সরাসরি জেলেদের কাছ থেকে মাছ কিনছেন। রাজধানীর বড় বড় সুপারশপগুলো একইভাবে নদীতে জেলেদের কাছ থেকে টাটকা ইলিশ কিনছেন। জেলেরা জানিয়েছেন, নদীতে এখন তাদের বড়ই কদর।    রাজধানীর কাওরানবাজার, শ্যাম বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাজারেই এখন সব ধরনের ইলিশের কদর বেশি। ইলিশ বিক্রেতারা বলছেন, এটাই স্বাভাবিক। অন্যান্য সময়ের তুলনায় বর্তমানে ইলিশের দাম কিছুটা বেশি। পহেলা বৈশাখ যত এগিয়ে আসবে চাহিদা ততই বাড়বে। রাজধানীর কয়েকটি মেগাশপ ঘুরে দেখা গেছে, এক থেকে দেড় হাজার টাকার কমে কোনও ইলিশ মাছ নেই। এগুলোর সাইজ হবে সর্বোচ্চ ৫০০-৬০০ গ্রাম। খিলগাঁও কাঁচাবাজার, শান্তিনগর বাজারসহ রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ৪০০-৫০০ গ্রাম ওজনের প্রতিজোড়া ইলিশ এখন হাজার বারোশ’ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। মগবাজারে ইলিশ মাছ কিনতে আসা হোসেন জাহিদ বলেন,  গত ১০-১১ বছর ধরে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে সন্তানদের জন্য ইলিশ মাছ কেনেন। বছরের একটি দিন বলে টাকার দিকটা বড় করে দেখেন না। এবারও বৈশাখ উপলক্ষে ইলিশ মাছ কিনতে এসেছেন। মাছের দাম এখনও নাগালের মধ্যে। তবে পহেলা বৈশাখ ঘনিয়ে এলে দাম বাড়বে। তাই আগেভাগে কিনে রাখছেন। প্রধানমন্ত্রীর ইলিশ পরিহারের আহ্বান সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ছেলেমেয়েরা ছোট, তারা তো এটা বোঝে না। তাদের আবদার তো ইলিশের। বাবা হিসেবে কীভাবে অ্যাভোয়েড করি বলুন?’  এ বিষয়ে জানতে পিরোজপুরের পাড়েরহাট বন্দরের মাছ ব্যবসায়ী (আড়ৎদার) ইসমাইল মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে জাটকা সংরক্ষণের লক্ষ্যে  নদীতে জাল ফেলা নিষিদ্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় আমরা আড়ৎদাররা ঢাকায় কোনও মাছ সরবরাহ করি না। আমাদের আড়ৎ খালি, কোনও মাছ নাই। নদীতে চুপি চুপি ২-১ জন জেলে হয়তো জাল ফেলে। তাতে যে জাটকা বাদ দিয়ে ইলিশ মাছ ধরা পড়ে তা স্থানীয় বাজারেই বিক্রি হয়। অনেকে জেলেদের নৌকা থেকেও সরাসরি ইলিশ কিনে নিয়ে যায়।’ আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, তবে কোনও কোনও আড়তে হয়তো আগের কেনা মাছ থাকতে পারে। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে একটু বেশি মুনাফার আশায় আগের কেনা মাছগুলো ফ্রিজিং করে রাখতে পারে। সেগুলোই হয়তো সামনের কয়েক দিনের মধ্যে রাজধানীর বাজারগুলোতে বিক্রি হবে। একই তথ্য জানিয়েছেন বরিশাল চাঁন্দ রোডের মাছ ব্যবসায়ী এবাদত হোসেন। তিনি বলেন, ‘এই সিজনে আড়তে মাছ পাবো কোথায়? বর্তমানে আড়তের শ্রমিকেরা তাস ও লুডু খেলে সময় কাটায়। এই যদি মোকামের অবস্থা হয় তাহলে ঢাকার বাজারে বড় ইলিশ আসে কোথা থেকে?’ তিনি আরও বলেন, ‘বিষয়টি তারাই ভালো বলতে পারবে। তবে অনেকেই বৈশাখ উপলক্ষে ইলিশ মাছ মজুত করে রেখেছিল। সেগুলোই এখন বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে।’ জানা গেছে, প্রতিবছরই পহেলা বৈশাখের আগে ইলিশ মাছের চাহিদা ও দাম দুটিই বেড়ে যায়। এ সুযোগে কিছু ব্যবসায়ী ইলিশ মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেন। এতে দাম আরও বেড়ে যায়। চলতি বছরও বেশ কিছু ব্যবসায়ী বাণিজ্য রফতানির জন্য মাছ মজুত করেন। বিষয়টি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নজরে এলে গত বছর ১১টি রফতানিকারী প্রতিষ্ঠানকে মজুত রাখা ১ হাজার ১৫ টন ইলিশ বাজারে ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিল। বর্তমানে ইলিশ রফতানি বন্ধ রয়েছে। মৎস্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর সূত্র জানায়, ২০১২ সালের জুলাই থেকে ইলিশ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। নিষেধাজ্ঞার আগে বাংলাদেশ থেকে ভারত, ইতালি ও যুক্তরাষ্ট্রে ইলিশ রফতানি হতো। ২০১১-১২ অর্থবছরে থেকেই হিমায়িত ইলিশ ৪ হাজার ৭৫ টন, তাজা ইলিশ ৪ হাজার ৪৯৪ টন রফতানি হয়। এ পরিমাণ মাছের তৎকালীন বাজার দর ছিল ২৯৭ কোটি টাকা। অভিযোগ রয়েছে, রফতানি বন্ধ থাকায় ইলিশ চোরাইপথে পাচার হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে। যশোরের বেনাপোল এবং সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্ত হয়ে উঠেছে ইলিশ পাচারের প্রধান রুট।