নাটোরে ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা, ৩ শিক্ষককে কারণ দর্শাতে নির্দেশ

নাটোর সংবাদদাতা : নাটোরের গুরুদাসপুরে বিলচলন শহীদ সামসুজ্জোহা কলেজ কেন্দ্রে চলতি এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনেই ২০১৮ সালের পাঠ্যসূচির অন্তর্ভূক্ত ১৫ জন পরীক্ষার্থীকে ২০১৬ সালের বহুনির্বাচনী-সৃজনশীল প্রশ্নপত্র বিতরণ করে পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীদের ফলাফলে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সূত্রে জানা যায়, সোমবার বাংলা প্রথমপত্র বিষয়ের পরীক্ষায় বিলচলন শহীদ সামসুজ্জোহা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষায় ৩০১ নং কক্ষে শিকারপুর মুক্তিযোদ্ধা মহসিন আলী কলেজের নিয়মিত পরীক্ষার্থীর মাঝে ২০১৬ সালের অনিয়মিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়। এ সময় ক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্র সচিব অধ্যক্ষ মো. রেজাউল করিমের কাছে বিষয়টি জানায়। কেন্দ্র সচিব বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনসহ রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডে জানালে এসব পরীক্ষার্থীদের নামের তালিকা চেয়ে পাঠান এবং দায়িত্ব পালনে অবহেলা করায় শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেন। পরীক্ষার্থী ও কেন্দ্র সচিব সুত্রে আরো জানা যায়, বিলচলন শহীদ শামসুজ্জোহা সরকারী কলেজের সোমবার ওই ঘটনা ঘটে। এইচএসসি বাংলা ১ম পত্রের পরীক্ষায় ওই কলেজের ৩০১ নম্বর কক্ষে ৫১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এদের মধ্যে অনিয়মিত অর্থাৎ ২০১৪-১৫ সেশনের ২০১৬ সালের পাঠ্যসুচী অনুযায়ী পরীক্ষার্থী ছিল ১৫ জন। আর নিয়মিত অর্থাৎ ২০১৬-১৭ সেশনের ২০১৮ সালের পাঠ্যসুচী অনুযায়ী পরীক্ষার্থী ছিল ৩৬ জন। ওই কক্ষে নিয়মিত পরীক্ষার্থী মুক্তিযোদ্ধা ড. মহসীন কলেজের ৩৬ জন আর অনিয়মিতদের মধ্যে বেগম রোকেয়া স্কুল এ্যান্ড কলেজেরে ২জন, নাজিরপুর ডিগ্রী কলেজের ১ জন, কাছিকাটা স্কুল এ্যান্ড কলেজের ২জন, রোজী-মোজাম্মেল মহিলা কলেজেরে ৪জন এবং খুবজীপুর মোজাম্মেল হক ডিগ্রী কলেজের ৫জন পরীক্ষার্থী ছিল। দায়িত্বরত শিক্ষকরা প্রশ্নপত্র প্রদানের সময় ২০১৪-১৫ সেশনের ২০১৬ সালের ১৫টি প্রশ্ন ২০১৬-১৭ সেশনের ২০১৮ সালের ১৫ জন পরীক্ষার্থীকে বহু নির্বাচনী প্রশ্নপত্র দিয়ে দেয়। বিষয়টি পরীক্ষার ৫মিনিট অতিবাহিত হওয়ার পর পরীক্ষার্থীদের নজরে আসলে কর্মরত শিক্ষকদের জানালে তারা কোন পদক্ষেপ নেননি। তারা বাধ্য হয়েই ওই প্রশ্নে পরীক্ষা দিতে বাধ্য হয়। পরীক্ষা শেষে বিষয়টি পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্র সচিবকে জানালে কেন্দ্র সচিব তাদের কোন সমস্যা হবেনা বলে জানায়। উল্লেখ্য বহুনির্বাচনী প্রশ্নে ২০১৮ সালের ৩০ মিনিট এবং ২০১৬ সালের পরীক্ষার্থীরা ৪০ মিনিট সময় পরীক্ষা দিবে। অধ্যক্ষ মো. রেজাউল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শিক্ষাবোর্ডের নির্দেশ মোতাবেক ওই কক্ষে কর্তব্যরত শিক্ষক পরিসংখ্যান বিভাগের প্রভাষক লুৎফুল হক, ব্যবস্থাপনা বিষয়ের প্রভাষক রীতা মনি ও পদার্থবিদ্যা বিষয়ের প্রদর্শক মো. আখের আলীকে কক্ষ পরিদর্শকের দায়িত্ব হতে অব্যহতি দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবেনা মর্মে শো-কজ নোটিশ ইস্যু করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান, অভিযুক্ত ওই তিন শিক্ষককে সাতদিনের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে পরবর্ত্তীতে ওই শিক্ষকদের পক্ষ থেকে উত্তর পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।