ধামরাইয়ে ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা  নিয়ে রহস্য, লাশ ৬ মাস পর কবর থেকে উত্তোলন 

ধামরাই প্রতিনিধি : ধামরাইয়ে দাফনের ছয়মাস পর ব্যবসায়ী দানেজ আলীর লাশ  সোমবার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে কবর থেকে উত্তোলন করা হয়। নিহত দানেজ আলীর আত্মহত্যা নিয়ে দুটি মামলার একটির তদন্ত কর্মকর্তার কাছে মৃত্যুটি রহস্যজনক মনে হওয়ায় আদালতের কাছে পুনরায় ময়না তদন্তের জন্য আবেদন করেন। এ প্রেক্ষিতে  সোমবার লাশটি কবর থেকে উত্তোলন করে ময়না তদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।  আদালতে দুটি সিআর মামলার একটির বাদী নিহতের মেয়ে ডালিয়া আক্তার। অপর মামলার বাদী নিহতের বাবা হোসেন আলী। বাবার মামলায় কবর থেকে লাশ উত্তোলন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। নিহত দানেজ আলী উপজেলার ভাড়ারিয়া ইউনিয়নের বৈষ্টবদিয়া গ্রামের হোসেন আলীর ছেলে। দানেজ আলীর লাশ গত বছরের ২৬ অক্টোবর কুশুরা ইউনিয়নের বাউজা গ্রামের সৈয়দ আলী মেম্বারের বাড়ীর দক্ষিণে রাস্তার পাশে মেহগনি গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ।
ঢাকার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ৩৮৭/১৭ নং সিআর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধামরাই থানার পরিদর্শক (অপারেশন) জাকারিয়া হোসেন জানান, দানেজ আলী আত্মহত্যার বিষয়ে আমার কাছে সন্দেহ হলে কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে পুনরায় ময়না তদন্তের জন্য আবেদন করা হয়। এ প্রেক্ষিতে সোমবার সকালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাহিদ হাসানের উপস্থিতিতে কবর থেকে দানেজ আলীর লাশ উত্তোলন করা হয়। তিনি বলেন, গাছ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় দানেজ আলীর লাশ উদ্ধার করা হলেও তা যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, মাটি থেকে লাশের পা ছুই ছুই অবস্থা দেখা গেছে। এছাড়া লুঙ্গি পড়ে গাছে উঠে রশি দিয়ে গলায় আত্মহত্যা করতে গেলে অবশ্য লু্িঙ্গ কাছা দেওয়া থাকতো। এতে যথেষ্ট পরিমাণ সন্দেহ রয়েছে, এটা আত্মহত্যা না হত্যা।

গত বছরের ২৫ অক্টোবর দানেছ আলীর মৃত্যুর ঘটনায় গত বছরের ২২ নভেম্বর ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক প্রদীপ বিশ্বাস ময়না তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন’।
এ রিপোর্টের পর নিহতের স্কুল পড়–য়া মেয়ে ডালিয়া আক্তার (১৫) বাদী হয়ে ঢাকার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে একটি সিআর মামলা করে। এ মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, দাদার জমিজমা ও সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা ও নিহতের নানীর বাড়ী থেকে প্রাপ্ত ওয়ারিশ সম্পত্তি বিক্রয় করে ৪ লাখ টাকার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে দানেজ আলীকে তার বোনজামাই আজম খান (৪৫) ও তার অপর বোনের ঘরে ভাগ্নে মোহাম্মদ আলী এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য সোলাইমানের সহায়তায় পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়। মামলাটি তদন্ত করছেন অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এর কিছুদিন পর নিহতের বাবা হোসেন আলী (৭০) বাদী হয়ে ঢাকার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি সিআর মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-৩৮৭/১৭)। এ মামলার তদন্ত করছেন ধামরাই থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশ) জাকারিয়া হোসেন। এ  মামলার ভিত্তিতে গতকাল সোমবার দানেজ আলীর লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়। এ মামলায় দানেজ আলীর সাথে তার সমুন্ধির স্ত্রীর পরকিয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সমুন্ধির তিন শ্যালক ও ছেলে দানেজ আলীকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে গলায় রশি দিয়ে গাছে ঝুলিয়ে রাখে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এ মামলায় হোসেন আলী নিহত দানেজ আলীর স্ত্রী জ্যোৎস্না বেগম ও ডালিয়া আক্তার (১৫) নামের এক কন্যা সন্তান রয়েছে বলে উল্লেখ করলেও নিহতের ৬ বছরের এক পুত্র সন্তানের কথা গোপন করেছেন। এছাড়া ডালিয়াকে এ মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে অনুসন্ধানে জানা গেছে, দানেজ আলী বাঙ্গালপাড়ায় অবস্থিত একটি বোর্ড মিলের মালিক ছিলেন। সেখানে তার দুলাভাই আজম খানকে অংশীদার নিয়ে ব্যবসা করতেন। মনোমানিল্য সৃষ্টি করে ব্যবসা থেকে পৃথক হয়ে যান আজম। নিহতের নানার বাড়ী থেকে ওয়ারিশ বাবদ প্রাপ্ত চার লাখ টাকা নিয়েও তাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। নিহতের বাবা হোসেন আলী বলেন, আগে জানতাম না আমার ছেলের সমুন্ধির বউয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তবে তিনি বলেন, মামলায় আমার নাতীর কথা উল্লেখ করতে ভুলে গিয়েছিলাম।
অপরদিকে দানেছের সঙ্গে সমুন্ধির স্ত্রীর পরকিয়ার ঘটনায় দানেজকে হত্যা করা হয়েছে বলে উল্লে¬খ করে মামলা করে দানেজের বাবা। এ মামলায় অনুসন্ধান করতে গিয়ে দানেছের স্ত্রীর সাথে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তিনি বলেন, আমার শ্বশুর যে মামলা করেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমার স্বামী যদি আমার ভাবীর সাথে পরকিয়া থাকতো তাহলে আমিই সর্বপ্রথম জানতাম। প্রকৃত পক্ষে আমার ছেলে-মেয়েকে তার দাদার সম্পত্তি-জমিজমা থেকে বঞ্চিত করার জন্য আমার ননাসের জামাইসহ একটি চক্র উঠে পড়ে লেগেছে। তারাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে।