বিএনপির প্রতিবাদ মঙ্গলবার

স্টাফ রিপোর্টার : কারাবন্দি দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে মঙ্গলবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা মহানগরের থানায় থানায় এবং দেশব্যাপী মহানগর ও জেলা সদরে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি। সোমবার (২ এপ্রিল) নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ কর্মসূচিরর ঘোষণা দেন।

রিজভী বলেন, জিয়াকে যেভাবে মিথ্যা সাজানো মামলায় বন্দী করে রেখেছেন তেমনি বর্তমান ভোটারবিহীন সরকারকে দীর্ঘস্থায়ী করতে সম্পূর্ণ গায়ের জোরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছেন। তিনি নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন করে নৌকায় ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছেন, গতকালও চাঁদপুরে সরকারি টাকা ব্যয়ে জনসভা করে নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়েছেন যা আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তিনি বলেন, দুদিন আগে গাজীপুর ও খুলনা সিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। দুটি নির্বাচনই দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হবে। ফলে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের যে প্রান্তেই নৌকার পক্ষে ভোট চান না কেন তা ঘোষিত তফসিলের মধ্যে পড়ে। এবং সেটা নির্বাচন আচরণ বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। প্রধানমন্ত্রী যেহেতু বিনা ভোটের প্রধানমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বন্দুকের নলই হচ্ছে তাঁর ক্ষমতার ভিত্তি, তাই তিনি সব কিছুই করতে চাচ্ছেন হুংকার আর ধমক দিয়ে। সকল আইন, নিয়মনীতি ভেঙ্গে নৌকার পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। আমি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলতে চাই-আপনি বলেছেন ভোট চাওয়া আপনার রাজনৈতিক অধিকার তাহলে দলের সভানেত্রী হিসেবে ভোট না চেয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ভোট চাচ্ছেন কেন? প্রধানমন্ত্রী হিসেবে, সরকারি টাকা খরচ করে, সরকারি হেলিকপ্টার নিয়ে সরকারি সার্কিট হাউস ব্যবহার করে এবং গন্তব্যস্থলে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে, সরকারি সকল প্রটোকল নিয়ে ভোট চাওয়া কোন ধরণের রাজনৈতিক অধিকার জনগণ তা জানতে চায়। এটা দেখার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের, কিন্তু ক্ষমতাসীনদের নির্বাচনী আইন ভঙ্গের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন ‘রিপভ্যান উইংকেল’ এর মতো দীর্ঘ নিদ্রায় শায়িত থাকে। যে প্রধানমন্ত্রী মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেয় তাঁর মুখে ভোট চাওয়া জনগণের সাথে তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।