সৌদি আরবে নারীকর্মীদের জন্য ‘সেফ হাউস’ চেয়েছিল বাংলাদেশ দূতাবাস

ফুলকি ডেস্ক : সৌদি আরবে কাজ করতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হওয়া বাংলাদেশি নারী শ্রমিকদের স্বল্প মেয়াদে আশ্রয় দিতে তিন বছর আগেই ‘সেফ হাউস’ বানাতে ঢাকার অনুমতি চেয়েছিল বাংলাদেশ দূতাবাস। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বিষয়ক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই দূতাবাসের একটি নথির বরাত দিয়ে এখবর জানিয়েছে। বর্তমানে সৌদি আরবে এধরণের সেফ হাউস থাকার বিষয়ে সংবাদমাধ্যমটি নিশ্চিত হলেও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র দফতর এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি।নথির বরাত দিয়ে মিডল ইস্ট আই জানায়, সৌদি আরবে কর্মরত কূটনীতিকেরা ঢাকাকে জানায়, গৃহকর্মী হিসেবে প্রবাসী নারীরা আমাদের কাছে অসুস্থতা, অতিরিক্ত কাজ, মৌখিক হেনস্তা ও নির্যাতনের কথা বলেছেন। তারা নিয়োগকর্তাদের কাছ থেকে পালিয়ে আমাদের কাছে এসে সেফ হাউসে আশ্রয় চাইছে। ওই নথিতে বলা হয়েছে, প্রতিদিন তিন থেকে চারজন নারীকে তারা ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। তাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য নতুন বিছানা ও সিসিটিভি ছাড়াও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরবরাহের অনুরোধ জানানো হয়েছে। এছাড়া এসব নারীদের জন্য একজন পরামর্শক চাওয়া হয়। একই সঙ্গে জানানো হয়, দূতাবাসের আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে কোনও নারী কর্মকর্তা নেই যিনি ওই নারীদের সাহায্য করতে পারবেন। নথি অনুসারে, এসব নারী কর্মীদের ফেরত পাঠাতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করতে ১৫ দিন থেকে একমাস পর্যন্ত সময় লাগে। কখনও কখনও এতে তিন থেকে ছয় মাসও লেগে যায়। এতদিন পর্যন্ত তাদের সেফ হাউসে আশ্রয় দেওয়া প্রয়োজন হয়। ওই নথিতে বাংলাদেশি কূটনীতিকরা উপসাগরীয় দেশগুলোতে আরও বেশি সেফহাউস নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। কারণ হিসেবে বলা হয়, এসব দেশে গৃহকর্মীর বাড়তি চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ থেকে আরও নারী শ্রমিক আসায় সেফহাউসের প্রয়োজনীয়তাও বাড়বে। এই বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত সৌদি আরবে পৌঁছেছে ১৬ হাজার ৬২৪ বাংলাদেশি নারী। এই সংখ্যা ২০১৫ সালে দেশটিতে যাওয়া মোট নারীর সংখ্যা থেকে মাত্র ৪ হাজার কম।

ওই নথিতে সেখানে থাকা সেফ হাউসের সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি। তবে ২০১৭ সালে খবরে প্রকাশ পায় কমপক্ষে ২৫০ নারী জেদ্দা ও রিয়াদে সেফহাউসের সুবিধা নিয়েছেন। সেখানে তারা বাংলাদেশে ফিরে আসার অপেক্ষায় ছিলেন। খবরে বলা হয়েছে, দূতাবাসে পালিয়ে আসা এসব নারীদের বেশিরভাগের কাছেই পাসপোর্ট থাকে না। সৌদি আরবের দূতাবাসে নথিভুক্ত হতে আসা নারীদের বেশিরভাগই দাবি করে থাকেন বাংলাদেশ থেকে যাওয়ার পর তাদের পাসপোর্ট নিয়ে নেয় দেশটির নিয়োগকর্তারা। যাতে করে তাদের দেশ ছেড়ে পালানোর সুযোগ কমে যায়। অবশ্য সৌদি নিয়োগকর্তারা প্রায়ই আদালতে কর্মীদের বিরুদ্ধে সময় মতো বাংলাদেশ থেকে না ফেরার অভিযোগে মামলা দায়ের করে থাকেন। মিডল ইস্ট আই বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে সৌদি আরবের সেফ হাউসের সংখ্যা জানতে চাওয়া হয়েছিল। তবে ৩১ মার্চ প্রতিবেদনটি প্রকাশের আগ পর্যন্ত মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনও জবাব দেওয়া হয়নি।