একাদশ সংসদ নির্বাচন বাড়ছে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন

স্টাফ রিপোর্টার : সংসদ নির্বাচনের আগে আবারও বাড়ছে ১৪ লাখ চাকুরের। এ লক্ষ্যে একটি প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়েছে। শিগগিরই এটি মন্ত্রিপরিষদ সভায় তোলা হবে। ডিসেম্বরের আগেই বেতন বাড়ানোর ঘোষণা আসবে বলে জানা গেছে। এখন থেকে মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশের বেশি হলেই তাদের বেতন বাড়বে। শুধু তাই নয়, ১৪ লাখ চাকুরের বেতন বাড়ানোর জন্য বারবার পে-কমিশন গঠন করা হবে না। বিকল্প হিসেবে অর্থ মন্ত্রণালয়ে গঠন করা হচ্ছে সেল।

আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগেই বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করতে চাইছে সরকার। আগামী বাজেট ঘোষণায় এ ব্যাপারে বিস্তারিত বলবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

সরকারি কর্মচারীদের ভবিষ্যৎ বেতন-ভাতা নির্ধারণ ও পরিবর্ধনের বিষয় পর্যালোচনা কমিটির আহ্বায়ক মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) এনএম জিয়াউল আলম বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতার বিষয়ে আমরা আমাদের প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেছি। এটি শিগগিরই মন্ত্রিসভায় তোলা হবে। এর আগে অর্থ মন্ত্রণালয় প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করবে।

জানা গেছে, এখন থেকে প্রতি বছর বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়বে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা। মূল্যস্ফীতি বাড়লেই বাড়বে বেতন। তবে মূল্যস্ফীতি কমলে প্রভাব পড়বে না বাড়তি বেতন-ভাতায়। সরকারি কর্মচারীদের ভবিষ্যৎ বেতন-ভাতা নির্ধারণ ও পরিবর্ধনের বিষয় পর্যালোচনা কমিটি তাদের প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেছে।

কমিটি টি গেল বছরের মে মাসের ৯ তারিখ গঠন করা হয়েছিল। ৯ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার)। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা বিভাগ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, হিসাব মহানিয়ন্ত্রক কার্যালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের একজন করে প্রতিনিধি রয়েছেন কমিটিতে। কমিটি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠাবে শিগগিরই। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ ব্যাপারে মতামত নিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদনটি পাঠাবে। অর্থ মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে মতামত দিলেই তা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় তোলা হবে। কমিটির প্রতিবেদন : চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বেতন বাড়ানোর জন্য মূল্যস্ফীতির ভিত্তি ধরা হয়েছে ৫ শতাংশ। গড় মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশ ছাড়ালেই সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়বে। এরপরও যদি মূল্যস্ফীতি বাড়ে অর্থাৎ ৬ শতাংশ বা ৭ শতাংশ, তখন কত শতাংশ বেতন বাড়বে তাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে কমিটি। চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে অর্থাৎ (অক্টোবর-ডিসেম্বর) দেশের গড় মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৯৩ শতাংশ। এর আগের তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) গড় মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ। সে হিসেবে সরকারি চাকুরেদের বেতন আরেক ধাপ বাড়ছে। কমিটি বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের ব্যাপারে প্রতিবেদনে সুপারিশ করেছে। এ ক্ষেত্রে ইনক্রিমেন্ট ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৮ শতাংশ করা হতে পারে। কমিটি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, প্রতি ৫ বছর পর পর পে-কমিশন গঠন না করে এর বিকল্প ভাবতে হবে। বিকল্প হিসেবে অর্থ মন্ত্রণালয়ে একটি স্থায়ী সেল গঠনের কথা বলা হয়েছে। বেতন-ভাতা বাড়ানোর বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সারসংক্ষেপে অর্থমন্ত্রী নোটে লিখেছিলেন, এবারের বেতন-ভাতা নির্ধারণে লক্ষ্য ছিল এখন থেকে বেতন-ভাতা বাজারের সমতুল্য হবে। এজন্য ভবিষ্যতে ৫ বছর পরপর আর কমিশন নিয়োগ করতে হবে না। এখন থেকে একজন সিনিয়র কর্মকর্তাকে বেতন-ভাতার বিষয়ে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব দেওয়া হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আগামী ডিসেম্বরের আগেই বেতন-ভাতার বিষয়গুলো চূড়ান্ত করতে চাইছেন অর্থমন্ত্রী। এজন্য বেতন-ভাতা বাড়ার কারণে ব্যয় কত বাড়তে পারে, ব্যয় কীভাবে মেটানো হবে, বাজেটের ওপর তা চাপ ফেলবে কিনা, মূল্যস্ফীতি বাড়বে কিনা এসব বিষয় পর্যালোচনা করে একটি প্রতিবেদন দাখিল করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। আগামী অর্থবছরের বাজেট ঘোষণায় সরকারি চাকরিজীবীদের সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে বিস্তারিত বলবেন মন্ত্রী। এ পদক্ষেপের মাধ্যমে ১৪ লাখ সরকারি চাকুরেদের আস্থাভাজন হওয়ার উপায় খোঁজা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অর্থ মন্ত্রণালয়ে হবে স্থায়ী সেল : বেতন বাড়ার জন্য ৫ বছর পরপর পে-কমিশন গঠনের অপেক্ষায় থাকতে হবে না সরকারি চাকরিজীবীদের। এর বিকল্প হিসেবে অর্থ মন্ত্রণালয়ে গঠন করা হবে একটি স্থায়ী সেল। এতে একদিকে যেমন কমিশন গঠনের ঝামেলা পোহাতে হবে না, অন্যদিকে চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতাও ঠিক থাকবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবকে প্রধান করে এ সেল গঠন করা হতে পারে। স্থায়ী এ সেল সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর বিষয়টি দেখভাল করবে। মূল্যস্ফীতিসহ সার্বিক দিক বিবেচনা করে এটি প্রতিবেদন তৈরি করবে। সেলের কাজের সুবিধার জন্য একটি উন্নতমানের সফটওয়্যার তৈরি করা হবে। সফটওয়্যারটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে মূল্যস্ফীতির ওপর ভিত্তি করে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা কত হতে পারে তা জানাবে। শুধু তাই নয়, কোনো কর্মকর্তাকে শাস্তি দেওয়া হলে, বেতন আটকে গেলে তাও সমাধান করবে এ সফটওয়্যার। সেলের কর্তা-ব্যক্তিরা কোনো কর্মকর্তার শাস্তি হলে সে বিষয়ে সফটওয়্যারের মাধ্যমে পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। বিষয়টি জানানো হবে সংশ্লিষ্টদের। এরপরই নেওয়া হবে শাস্তিপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বেতন-ভাতা সংক্রান্ত পদক্ষেপ। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোয় এ ধরনের ব্যবস্থা চালু থাকলেও বাংলাদেশে এ পদক্ষেপ প্রথম।