পাট ২ লাখ টন কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে

স্টাফ রিপোর্টার : প্রতি মৌসুমে পাট ফসল বাতাস থেকে বছরে প্রায় ২ লাখ মেট্রিক টন কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ এবং ৮৫ হাজার মেট্রিক টন অক্সিজেন নিঃসরণ করে থাকে। যা গ্রীন হাউজ গ্যাসের কারণে বেড়ে যাওয়া তাপমাত্রা কমিয়ে পরিবেশ রক্ষায় সহায়তা করে। বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক(কৃষি) কৃষিবিদ ড. চন্দন কুমার সাহা বলেন, প্রতি হেক্টর জমির পাট ও পাট জাতীয় ফসল ১০০ দিনে ১৪.৬৬ মেট্রিক টন কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ এবং ১০.৬৬ মেট্রিক টন অক্সিজেন নিঃসরণ করে। বর্তমানে দেশে ৮০ লাখ হেক্টরেরও বেশি জমিতে পাট ফসলের (পাট, কেনাফ ও মেস্তা) আবাদ হয়ে থাকে।

পাটকে নবায়নযোগ্য পরিবেশ বান্ধব ফসল উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাটি ও পরিবেশের স্বাস্থ্য রক্ষায় এর গুরুত্ব অপরিসীম। পাট ও পাট জাতীয় ফসলের মূল ১০ থেকে ১২ ইঞ্চি বা তার বেশি গভীরে প্রবেশ করে কঠিন স্তর ভেঙ্গে মাটির নীচের তরল খাদ্য উপাদান সংগ্রহ করে উপরের স্তরে নিয়ে আসে। এতে অন্যান্য অগভির মূলী ফসলের পুষ্টি উপাদান গ্রহণ এবং ভৌত অবস্থার উন্নয়ন সহজ হয়।মাটিতে পানি চলাচল সহজ ও স্বাভাবিক থাকে। পাট ফসল উৎপাদনের সময় প্রতি হেক্টরে ৫ থেকে ৫.৫ মেট্রিক টন পাতা মাটিতে যোগ হয়। পাটের পাতায় প্রচুর নাইট্রোজেন, সোডিয়াম, পটাশিয়াম ও ক্যালশিয়াম থাকে। এছাড়া কাটার পর মাটির মধ্যে থাকা পাট গাছের গোড়াসহ শিকড় পঁচে মাটির সঙ্গে মিশে জৈব সারে পরিণত হয়। এতে পরবর্তী ফসল উৎপাদনে সার কম লাগে। এই জমিতে অন্যান্য ফসলের ফলনও ভাল হয়। জাগ দেয়ার পর ছালের আঁশ ভিন্ন অন্যান্য নরম পঁচে যাওয়া অংশ, জাগের ও ধোঁয়ার তলানী এবং পাট পঁচা পানি উৎকৃষ্ট জৈব সার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। দেশে উৎপাদিত প্রায় ৩০ লাখ মেট্রিক টন পাট কাঠি বিকল্প জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার হওয়ায় বন উজাড়ের হাত থেকে কিছুটা হলেও পরিবশে রক্ষা পায়। বনের গাছ না কেটে পাট ও কেনাফ কাঠি দিয়ে স্বল্প খরচে পেপার পাল্প তৈরী করা যায়। পাট বৃষ্টির পানি নির্ভর ফসল এবং উৎপাদনে সার ও কীটনাশক ব্যবহার অন্যান্য ফসলের চেয়ে তুলনামূলক কম।