পশ্চিমাদের পাল্টা জবাবে মস্কো থেকে ২৩ দেশের ৫৯ কূটনীতিক বহিষ্কার

: ইউরোপ-আমেরিকা থেকে রুশ কূটনীতিকদের বহিষ্কারের পর পাল্টা পদক্ষেপ নিল রাশিয়া। পোল্যান্ড ও সুইডেনসহ ২৩ দেশের ৫৯ কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে মস্কো। শুক্রবার যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়। আরো চারটি দেশের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে মস্কো হুঁশিয়ারি দিয়েছে। খবর সিএনএনের।  এর একদিন আগে ৬০ মার্কিন কূটনীতিক এবং তারও আগে ২৩ ব্রিটিশ কূটনীতিককে বহিষ্কার করা হয়। ক্রেমলিন বলছে, কূটনীতিক বহিষ্কারে তাদের বাধ্য করা হয়েছে। খবর রয়টার্স ও সিএনএনের  রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের তলব করে। ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যে রাশিয়ার যতজন কূটনীতিক আছেন, রাশিয়ায়ও ততোজন ব্রিটিশ কূটনীতিক অবস্থান করতে পারবেন। এ বিষয়ে যেন লন্ডন পদক্ষেপ নেয়।  রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউক্রেনের ১৩ জন, ফ্রান্স, জার্মানি, পোল্যান্ড ও কানাডার ৪ জন করে, চেক রিপাবলিক, লিথুয়ানিয়া ও মালদোভার ৩ জন করে, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস, ইতালি, স্পেন, আলবেনিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার ২ জন করে, এস্তোনিয়া, ক্রোয়েশিয়া, ফিনল্যান্ড, লাটভিয়া, রোমানিয়া, সুইডেন, নরওয়ে, মেসিডোনিয়া ও আয়ারল্যান্ডের একজন করে কূটনীতিক বহিষ্কার করা হয়েছে।  এসব দেশ যুক্তরাজ্যের প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে রাশিয়ারও সমান সংখ্যক কূটনীতিক বহিষ্কার করেছিল। এছাড়া বেলজিয়াম, হাঙ্গেরি, জর্জিয়া ও মন্টিনিগ্রোর কূটনীতিকদেরও বহিষ্কারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসছে বলে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় জানিয়েছে।  পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের চার কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে রাশিয়া। আগামী ৭ এপ্রিলের মধ্যে রাশিয়া ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের এক কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে রাশিয়া। ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় জানায়, মস্কো তাদের দুই কূটনীতিককে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে দেশে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।  মস্কোর পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, পোল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, ক্রোয়েশিয়া, বেলজিয়াম, ইউক্রেন, সুইডেন, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা এবং চেক রিপাবলিকসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের তলব করে। এসব রাষ্ট্রদূতের গাড়ি রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে প্রবেশ করতে দেখা গেছে এবং তাদের অনেককে ত্যাগ করতেও দেখা গেছে। জার্মান রাষ্ট্রদূত রুডিগার ভন ফ্রিতস বলেন, যুক্তরাজ্যে সাবেক রুশ গুপ্তচর সের্গেই স্ক্রিপালও তার মেয়ের ওপর রাসায়নিক বিষ প্রয়োগ নিয়ে রাশিয়ার প্রশ্ন আছে।  তবে বার্লিন তাদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনায় রাজি। বৃহস্পতিবার ৬০ মার্কিন কূটনীতিককে বহিষ্কার করে রাশিয়া এবং একটি কনস্যুলেট বন্ধ করে দেয়। গতকাল কনস্যুলেট বন্ধের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, রাশিয়া পাল্টা পদক্ষেপ নিতে পারে। কিন্তু যেভাবে কূটনীতিকদের তালিকা করেছে তাতে মনে হয় রাশিয়া কূটনৈতিক সম্পর্ক চায় না। তবে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, আমরা যুক্তরাষ্ট্রসহ কারো সঙ্গে কূটনৈতিক বিবাদে জড়াতে চাই না। আমাদের বাধ্য করা হয়েছে। অন্যদিকে ক্রেমলিন জানিয়েছে, রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন গতকাল নিরাপত্তা কাউন্সিলের সঙ্গে পশ্চিমা দেশের পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেছেন।