গাজায় ইসরাইলি সহিসংতার স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জাতিসংঘের মহাসচিবের

 গাজায় ফিলিস্তিনি ও ইসরাইলি সেনাদের মধ্যে মারাত্মক সংঘর্ষের একটি স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরস।  অন্যদিকে, সংযম প্রদর্শনের জন্য উভয় পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন নিরাপত্তা পরিষদ সদস্যরা।  শুক্রবার সন্ধ্যায় নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক শেষে সংস্থাটি কোনো পদক্ষেপ বা যৌথ বিবৃতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়নি।   ২০১৪ সালে ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে সীমান্ত যুদ্ধের পর গাজার রক্তাক্ত দিনটির কয়েক ঘণ্টা পর কুয়েতের আহ্বানে নিরাপত্তা পরিষদের এই জরুরি বৈঠক হয়।  ভূমি দিবস উপলক্ষে টানা ছয়দিনের বিক্ষোভের প্রথমদিনে ইসরাইলি দখলদার বাহিনীর গুলিতে ১৭ ফিলিস্তিনি নিহত হন।  শুক্রবার গাজার ইসরাইল সীমান্তের ছয়টি স্থানে এই বিক্ষোভ হয়। ‘গ্রেট মার্চ অব রিটার্ন’ নামের এই বিক্ষোভ চলাকালে ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় আরো কমপক্ষে ১৪০০ মানুষ আহত হয়েছেন। আর নিহতদের স্মরণে শনিবার একদিনের শোক ঘোষণা করেছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ।  গুতেরসের এর মুখপাত্র ফারহান হক বলেন, জাতিসংঘ মহাসচিব এই সহিংসতার একটি স্বতন্ত্র ও স্বচ্ছ তদন্ত চেয়েছেন।  এদিকে, নিরাপত্তা পরিষদ কোনো সমঝোতায় আসতে না পারায় নিজের হতাশা ব্যক্ত করে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মনসুর বলেছেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর ইসরাইলি গণহত্যার ঘটনায় নিন্দা জানাতে নিরাপত্তা পরিষদের একমত না হওয়াটা দুঃখজনক।  তিনি বলেন, ‘ফিলিস্তিনিদের প্রত্যাশা নিরাপত্তা পরিষদ যথাযথভাবে তার দায়িত্ব পালন করুক এবং এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিকে প্রশমিত করতে প্রদক্ষেপ নিক। ইসরাইলের এই কর্মকাণ্ড পরিষ্কারভাবে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে।’  ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, ইসরাইলি সেনাদের হাতে নিহতদের মধ্যে অল্প বয়সী ফিলিস্তিনি শিশু ও কিশোরও রয়েছে।  ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাস এই সহিংসতার জন্য ইসরাইলকে দায়ী করেছে। হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়েহ বলেছেন, তারা এক ইঞ্চি ফিলিস্তিনি জমিও ইসরাইলের কাছে ছাড়বেন না।  তিনি বলেন, ‘ফিলিস্তিনের কোনো বিকল্প নেই এবং আমাদের ফিরে যাওয়ার অধিকার ছাড়া এই সংকটের কোনো সমাধান নেই।’  গাজা-ইসরাইল সীমান্তে সব সময় ইসরাইলের কড়া সামরিক পাহারা থাকে। সেখানে ইসরাইল তাদের সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়িয়েছে।  ফিলিস্তিনিরা প্রতি বছরের ৩০ মার্চকে ‘ভূমি দিবস’ হিসেবে পালন করে। ১৯৭৬ সালের এই দিনে ফিলিস্তিনিরা যখন তাদের জমি দখলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছিল, তখন ইসরাইলি সৈন্যদের গুলিতে ছ’জন নিহত হয়।  ছ’সপ্তাহ ব্যাপী এই বিক্ষোভ শেষ হবে আগামী ১৫ মে, যেদিনটিকে ফিলিস্তিনিরা ‘নাকবা’ কিংবা বিপর্যয় দিবস হিসেবে পালন করে। ১৯৪৮ সালের ঐ দিনে লাখ লাখ ফিলিস্তিনি তাদের বাড়িঘর ফেলে চলে আসতে বাধ্য হয়েছিল ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর।  ফিলিস্তিনিরা বহু দশক ধরে ইসরাইলে তাদের ফেলে আসা বসত বাড়িতে ফিরে যাওয়ার অধিকার দাবি করছে। কিন্তু ইসরাইল এই অধিকারের স্বীকৃতি দেয়নি।  সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান