এইচএসসিতে প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে ১০ শিক্ষা বোর্ডের যত প্রস্তুতি

স্টাফ রিপোর্টার : প্রশ্নপত্র ফাঁসের আশঙ্কার মধ্যেই সোমবার (২ এপ্রিল) থেকে শুরু হচ্ছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সরকারের মাঠ প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের প্রস্তুতির পাশাপাশি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে ও সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা নিতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে দেশের ১০ শিক্ষাবোর্ড। এরই মধ্যে পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢোকার নির্দেশনা জারিসহ অন্যান্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের মন্ত্রণালয়ের আদেশ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছে বোর্ডগুলো। প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে ট্রেজারি থেকে প্রশ্নপত্র কেন্দ্রে পরিবহনে মন্ত্রণালয়ের আদেশ বাস্তবায়নে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সূত্রগুলো বলছে, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে প্রত্যেক কেন্দ্রের জন্য একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট/দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নিয়োজিত থাকবেন। ট্রেজারি বা থানা থেকে কেন্দ্রসচিবসহ পুলিশ পাহারায় কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র পৌঁছানো হবে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বা দায়িত্বশীল কর্মকর্তা, কেন্দ্রসচিব ও পুলিশ কর্মকর্তার উপস্থিতিতে বিধি অনুযায়ী প্রশ্নপত্রের প্যাকেট খোলা হবে। এসব দায়িত্ব যথাযথ পালনে কেন্দ্রসচিবদের নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। কেন্দ্রসচিব ছাড়া কেউ মোবাইল ফোন বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করতে পারবেন না। শিক্ষার্থীরা যাতে নকল করতে না পারে সেজন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রসচিবদের। কেন্দ্রসচিবরা পরীক্ষা সংশ্লিষ্টদের গাইডলাইন দিয়েছেন। ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সব ধরনের প্রস্তুতি আমরা শেষ করেছি। জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়েছে। উত্তরপত্রও কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষাকেন্দ্রে আনুষঙ্গিক যে নিরাপত্তা, তা নিশ্চিত করেছি। সব মিলিয়ে আমাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। পরীক্ষার দিন সকালে লটারি করে প্রশ্নপত্রের কোন সেটে পরীক্ষা হবে তা নির্ধারণ করা হবে। পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে জেলা প্রশাসককের জানিয়ে দেওয়া হবে। তিনি কেন্দ্রে সচিবদের জানিয়ে দেবেন।’ তবে নিরাপত্তার স্বার্থে কোথায় কেন্দ্রীয় লটারি করা হবে তা তিনি জানাননি। রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের সচিব অধ্যাপক তরুণ কুমার সরকার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ও এর বাইরেও যত ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া দরকার, আমরা নিয়েছি। পরীক্ষার আধাঘণ্টা আগে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’ যশোর শিক্ষাবোর্ডের সচিব ড. মোল্লা আমির হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ মোতাবেক সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি। সিকিউরিটি টেপ দিয়ে খাম আটকানোসহ বিশেষ ব্যবস্থায় প্রশ্নপত্র সর্টিং করা হয়েছে। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।’ মন্ত্রণালয়ের আদেশ অনুযায়ী কেন্দ্রসচিবদের শিক্ষা বোর্ডগুলো থেকে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এমন মোবাইল ফোন ব্যবহার করবেন, যাতে ছবি তোলা যায় না এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা নেই। মোবাইল ফোনসহ অন্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস পাওয়া গেলে তাকে আটক করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরীক্ষা চলার সময় পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ছাড়া কেন্দ্রে কেউ কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না। পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট পর কোনও পরীক্ষার্থী কেন্দ্রে এলে তার নাম, রোল নম্বর, প্রবেশের সময় ও দেরিতে আসার কারণ রেজিস্টারে লিখে রাখতে হবে। পরীক্ষার দিনই তা সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবোর্ডকে জানাতে হবে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী এরই মধ্যে প্রত্যেক কেন্দ্রের জন্য প্রতি পত্রের প্রতিটি সেট খাম সিকিউরিটি টেপ দিয়ে আটকানো হয়েছে। জেলা প্রশাসকরা ট্রেজারিতে এ কাজ সম্পন্ন করেছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার/নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সিকিউরিটি টেপ লাগানো হয়েছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর, বরিশাল, সিলেট ও দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ড, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ডে সোমবার (২ এপ্রিল) থেকে একযোগে পরীক্ষা নেওয়া হবে।