রোহিঙ্গাদের সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ, জরুরি সহায়তার আহ্বান

ফুলকি ডেস্ক : কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে থাকা রোহিঙ্গাদের জন্য উপযুক্ত সময়ের মধ্যে যথাযথ স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা যাবে কিনা, তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের বিশেষায়িত সংস্থা ডব্লিউএইচও (বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা)।আসন্ন বর্ষায় রোহিঙ্গাদের জীবন ও স্বাস্থ্যক্ষেত্রে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত তহবিল নেই বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। বাংলাদেশের একার পক্ষে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয় উল্লেখ করে, স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জরুরি সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে ডব্লিউএইচও। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তাবিষয়ক সংস্থা (ওসিএইচএ)-এর ওয়েবসাইট রিলিফওয়েবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে। গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্বপরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে পালিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশকরে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা। কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলোতে আশ্রয় নেয় তারা। চলতি বছরের জানুয়ারিতেই আসন্ন ঘূর্ণিঝড় ও মৌসুমী ঋতুতে বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কার কথা জানায় ইউনিসেফ। বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউনিসেফের প্রতিনিধি এডোয়ার্ড বেইগবিদার সে সময়  প্রায় ৫ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি শিশু মারাত্মক স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে সতর্কতা জারি করেন। এইবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকেও একই আশঙ্কা প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াবিষয়ক আঞ্চলিক পরিচালক পুনম খেত্রাপাল বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকটগুলোর একটি এটি। কোনও একক সংস্থা কিংবা বাংলাদেশ সরকারের একার পক্ষে এতো বিপুল সংখ্যক মানুষকে স্বাস্থ্য সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব নয়। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী এমন এক জায়গায় আছে যেটি ঘূর্ণিঝড় প্রবণ। এটি এমন এক এলাকা, যেটি বৃষ্টি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্লাবিত হয়ে যেতে পারে। এ অবস্থায় পানি এবং মশাবাহিত প্রাণঘাতী বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়ার বিপুল আশঙ্কা রয়েছে।’ ঢাকায় সহযোগী সংস্থাগুলোর সঙ্গে এক বৈঠকে এসব কথা বলেন পুনম। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে ১০০টিরও বেশি সহযোগী সংঠনের কার্যক্রমে সমন্বয় করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

এদিকে বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ মহাসচিব সাংবাদিকদের জানান, ‘কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে প্রায় দেড়লাখ রোহিঙ্গা বন্যাঝুকিতে থাকা এলাকায় বাস করছে। জাতিসংঘের মতে, বৃষ্টির সময় কলেরাসহ অন্যান্য রোগের ঝুঁকিতেও রয়েছে তারা। গুয়েতেরেস নিউ ইয়র্কে সাংবাদিকদের বলেন, ‘বৃষ্টির মৌসুম দিয়ে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। এসময় পরিস্থিতি অনেকটা প্রতিকূলে থাকবে। রোহিঙ্গারা মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে।’