রোহিঙ্গা সংকটে বেড়েছে ইয়াবার চোরাচালান, ৩ মাসে জব্দ ৯০ লাখ পিস

ফুলকি ডেস্ক : রোহিঙ্গা সংকট শুরুর পর থেকে বিপুল পরিমাণে বেড়েছে ইয়াবার চোরাচালান। বিপন্ন ওই জনগোষ্ঠীর শরণার্থীরা কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে উপার্জনের সহজ উপায় হিসেবে ইয়াবা চোরাচালানে জড়িয়ে পড়ছেন। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, টিকে থাকার সহজ উপায় হিসেবে এই অবৈধ কর্মে জড়িয়ে পড়ছে তারা। বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওই বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা সংকট শুরুর পর গত তিন মাসে ৯০ লাখ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে। বাংলাদেশি তরুণদের একটা  অংশ ইয়াবার নেশায় আক্রান্ত। দেশের বিভিন্ন স্থানে এর চাহিদাও অনেক। তবে সম্প্রতি বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী নাফ নদীতে অভিযান জোরদারের মাধ্যমে বিপুল পরিমান ইয়াবা জব্দ করা হয়। এএফপি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানিয়েছে, গত তিন মাসে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা শুধুমাত্র টেকনাফ থেকেই ৫১ লাখ ৬০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছেন। আর ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত কোস্টগার্ড আটক করেছে আরও ৩৪ লাখ ৭০ হাজার পিস ইয়াবা। বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আসাদুদ জামান চৌধুরি এএফপিকে জানিয়েছেন, ‘গত ১৫ মার্চ নাফ নদীতে একটি অভিযানে চারটি বস্তা থেকে আমরা ১৮ লাখ ইয়াবা উদ্ধার করি। এটা বিজিবির উদ্ধার করা ইয়াবার সবচেয়ে বড় চালান।’

একজন জেষ্ঠ্য কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এএফপির খবরে বলা হয়, মার্চ মাসে ১১ মাদক পাচারকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে যাদের সাতজনই রোহিঙ্গা। একই মাসে বঙ্গোপসারে টহল দেওয়ার সময় একটি মাছ ধরার নৌকা থেকে তিন লাখ ইয়াবাসহ মিয়ানমারের ৬ নাগরিককে গ্রেফতার করে কোস্টগার্ড। বিজিবি ও মাদকবিরোধী কর্মকর্তারা বলেন, নাফ নদীতে থাকা সীমান্তের ৫৪ কিলোমিটার এলাকায় টহলে সমস্যা থাকায় মাদক চোরাচালান ঠেকানো যাচ্ছে না। ইয়াবা একটি থাই শব্দ যার অর্থ হচ্ছে ‘পাগলা ওষুধ’। এই ওষুধটি সীমান্ত পার হয়ে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য আয়ের একটি সহজ উপায়। সীমান্তে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ছোট ছোট কারখানায় এই ওষুধ তৈরি করা হয়। আর সুযোগ বুঝে তা পাচার করা হয়। পুলিশ জানায়, রোহিঙ্গা শরণার্থীরা ইয়ার বাহক হিসেবে কাজ করেন। তারা ইয়াবা নিয়ে এসে সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক বিক্রেতাদের কাছে হস্তান্তর করে। পরে সেখান থেকে পুরো দেশে তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। সীমান্তে প্রতিটি ইয়াবা ট্যাবলেট ১৭-১৮ টাকায় বিক্রি হলেও ঢাকায় তা আড়াইশ থেকে সাড়ে তিনশ টাকায় বিক্রি হয়। গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো হয়। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় ৭ লাখ মানুষ। তারা এসে আগে থেকে বাংলাদেশে থাকা প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গার সঙ্গে যোগ দেন। বিজিবি কর্মকর্তা আসাদুদ জামান চৌধুরি এএফপিকে বলেন, রোহিঙ্গা জনস্রোতের কারণে ইয়াবার বাহকের সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ বাহকও বেড়ে গেছে। তাদের অনেকেই বেঁচে থাকার জন্য মরিয়া হয়ে এসব কাজ করছেন। এটা টাকা উপার্জনের একটি সহজ উপায়।’ নাম প্রকাশ না করার শর্তে কোস্টগার্ডের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিয়ানমার থেকে ইয়াবা পাচারের বিষয়ে জিরো টলারেন্স দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি সীমান্তে মাদকবিরোধী অভিযান বাড়ানোর নির্দেশও দিয়েছেন।