দেশে এখন কেউ অভাবের কারণে ভিক্ষা করে না: অর্থমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার : দেশে ছয় লাখ ভিক্ষুক রয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, ‘তারা কেউ অভাবের কারণে ভিক্ষা করে না। তারা পেশাদার। সরকারিভাবে চেষ্টা করেও তাদের পুনর্বাসন করা সম্ভব হচ্ছে না। দেশে যেন কোনও ভিক্ষুক না থাকে, এ ব্যাপারে সরকার চেষ্টা করে যাচ্ছে।’ বৃহস্পতিবার (২৯ মার্চ) শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা অডিটোরিয়ামে ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের শ্রেষ্ঠ জেলা ও উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্যদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। দুর্নীতি প্রতিরোধ সপ্তাহ-২০১৮-এর চতুর্থ দিনে এ আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমার শৈশব, কৈশর এমনকি যৌবনের শুরুতে শুধু খাবারের অভাবে মানুষের মৃত্যু দেখেছি। তবে এখন আর অভাবের কারণে কেউ মারা গেছে, এমন কোনও ঘটনা এখন শোনা যায় না। অভাবের কারণে কেউ আর মিথ্যা কথা বলে না। এখন আর বাংলাদেশে ঝুপড়ি ঘর দেখা যায় না। দেশের গ্রামগুলো এখন সিলভার রং ধারণ করেছে। গ্রামের এই দৃশ্য আমাকে বিমোহিত করে।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্নীতি প্রতিরোধে ও জাতীয় শুদ্ধাচার বিকাশে  দীর্ঘমেয়াদি শুদ্ধাচার কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। এই জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল আমাদের আদর্শ। এটি বাস্তবায়ন করা সহজ বিষয় নয়। আগামী কয়েক বছরে মধ্যেই হয়তো এমন অবস্থার সৃষ্টি হবে, তখন দেশটি দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছেÍএ মন্তব্য করার সুযোগ থাকবে না।’  তিনি বলেন,  ‘দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলা করার ক্ষেত্র কমে আসবে। তখন কমিশনকে শুদ্ধাচার বিকাশে প্রচার-প্রচারণায় অধিকতর গুরুত্ব দিতে হবে।’

সরকারি কর্মচারীরা দুর্নীতি করে অভ্যাস ও লোভের কারণে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে কোনও সরকারি কর্মচারী ১৬ হাজার টাকার নিচে বেতন পান না। এখন যারা দুর্নীতি করে এটা তাদের অভ্যাস ও লোভ। মানুষের এই অনৈতিক অভ্যাস বা লোভ পরিবর্তন করা প্রায় অসম্ভব। তবে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।’ অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘দেশ অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের বিভিন্ন সূচকে এগিয়ে যাচ্ছে, এটা সত্য। তবে এও সত্য, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা গেলে আরও এগিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল। দুর্নীতির বিরুদ্ধে  গণসচেতনতা বৃদ্ধি, জনগণকে সংবেদনশীল করা, সর্বোপরি দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানুষকে সোচ্চার হওয়ার জন্যই দুর্নীতি প্রতিরোধ সপ্তাহ পালন করে দুদক।’ বাংলাদেশে কিছু দুর্বৃত্তের সীমাহীন লোভের কারণে যে দুর্নীতি হচ্ছে, তা প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। কমিশনে এসেছে এমন একটি অভিযোগের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘কোনও কোনও অসাধু ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান একই বছরে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য সংবলিত আর্থিক বিবরণী প্রস্তুত করে, তা বিভিন্ন সংস্থায় ব্যবহার করছে।’ তিনি বলেন, ‘আয়কর বিভাগে যে আর্থিক বিবরণী দেওয়া হয়েছে, তার সঙ্গে আইপিওর জন্য সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে জমা দেওয়া আর্থিক বিবরণী কিংবা ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার জন্য জমা দেওয়া আর্থিক বিবরণীর কোনও মিল নেই। এটা কিভাবে সম্ভব? ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের প্রতি বছরের প্রতিটি আর্থিক বিবরণী অবশ্যই একই হতে হবে।’

 

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, এই ধরনের অভিযোগ অসত্য। তবে যদি সত্য হয়, তাহলে দুর্নীতি দমন কমিশন অবশ্যই বিষয়টি আমলে নেবে। ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর অবশ্যই একটি নৈতিক মানদ- আছে বা থাকতে হবে। তাদের অবশ্যই একটি পরিশুদ্ধ আর্থিক বিবরণী তৈরি ও ব্যবহার করতে হবে।’ অনুষ্ঠানে শ্রেষ্ঠ জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি হিসেবে ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগে যথাক্রমে  নরসিংদী ও ময়মনসিংহ জেলাকে শ্রেষ্ঠ দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি হিসেবে পুরস্কৃত করা হয়।  একইভাবে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটিকে প্রথম, জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটিকে ২য়, সরিষাবাড়ী ও গফরগাঁ উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটিকে য়ৌথভাবে তৃতীয় শ্রেষ্ঠ উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি হিসেবে পুরস্কৃত করা হয়েছে। ঢাকা বিভাগের সাভার উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটিকে প্রথম, কালিহাতী উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটিকে ২য়;  মনোহরদী ও রাজৈর উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটিকে যৌথভাবে ৩য় শ্রেষ্ঠ উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি হিসেবে পুরস্কৃত করা হয়। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দুদক কশিনার এ এফ এম আমিনুল ইসলাম, মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. জাফর ইকবাল, সাভার উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. সালাউদ্দীন নাইম প্রমুখ। এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টায় দুদক মিডিয়া সেন্টারে দুদকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।