সাভার বাসস্ট্যান্ডে মলম পার্টি ৩ নারীসহ ৪ ব্যক্তির সর্বস্ব লুট করেছে

স্টাফ রিপোর্টার : সাভার বাসস্ট্যান্ডে আবার মলম পার্টি সক্রিয় রয়েছে। গত ৩দিনে মলম পার্টির সদস্যরা ৩ নারীসহ ৪ ব্যক্তির চোখে মলম লাগিয়ে টাকা পয়সা মোবাইল ফোন স্বর্ণালংকার লুটে নিয়েছে। এ ৪টি ঘটনার একটি নিয়ে সাভার থানায় মামলা হয়েছে। বাকী ঘটনার বিষয়ে থানা পুলিশ অবগত নয়।
সাভার উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মেজবাহউদ্দিন জানান,  মঙ্গলবার উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা সহকারি সাজেদা বেগম অফিস থেকে সাভার বাসস্ট্যান্ড দিয়ে দুর্গাপুর তার কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন। সকাল সাড়ে ৮টারদিকে মনসুর মার্কেটের নিকট পৌঁছলে পেছন থেকে মলম পার্টির দুই সদস্য এগিয়ে এসে কিছু বুঝে উঠার পূর্বেই একটি রূমালের সহায়তায় চোখে মলম দিয়ে তাকে মুহুর্তের মধ্যে তাকে অচেতন করে ফেলে। তার কাছে থাকা মা ও শিশুদের তালিকা, গর্ভধারী তালিকাসহ বিভিন্ন তথ্য সম্বলিতি অফিসের রেজিষ্ট্রার খাতা, তার দুই কানের দুল, মোবাইল ফোন, ব্যাগে থাকা কিছু টাকা নিয়ে চম্পট দেয়। পরে খবর পেয়ে নিকট আত্মীয়রা তাকে উদ্ধার করে সাভার পৌর এলাকার ওয়াপদা রোডে একটি ক্লিনিকে ভর্তি করে। এবিষয়ে সাভার মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এছাড়া সোমবার ২৬ মার্চ সকালে সাভার বাসস্ট্যান্ডে পশু হাসপাতালের সামনে জাতীয় স্মৃতিসৌধগামী একটি বাস থেকে দুই নারীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে বাসযাত্রীরা। রাজাশন এলাকার বাসিন্দা রায়হান শিকদার জানান, দুই যাত্রী মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায় ব্যাংক টাউন থেকে বাসে উঠে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে জাতীয় স্মৃতিসৌধে যাচ্ছিলেন। এমন সময় থানা বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছলে তাদের সাথে দুই যুবক আলাপ চারিতায় মগ্ন হয়। যুবকদ্বয় তাদের সামনে রুমাল ধরে এক ধরনের সুগন্ধি ছড়িয়ে নারীদ্বয়কে অচেতন করে ফেলে। অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা তাদের কাছ থেকে দেড় হাজার টাকা, হাতের আংটি, কানের দুল, এনরয়েড মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান সামগ্রী লুটে নেয়। তাদেরকে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নেয়ার ঘন্টাখানিক পর চৈতন্য ফিরে পান। তবে ওই নারীদ্বয়ের বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি।
এছাড়া গত রবিবার ফজলু মিয়া নামে এক বিদেশ ফেরত ব্যক্তির সাড়ে ৪ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন লুটে নিয়েছে মলম পার্টির সদস্যরা। সাভার বাসস্ট্যান্ডে হকার দুলাল মিয়া জানান, তাকে সাভার বাসস্ট্যান্ডের নতুন ওভারব্রীজের উপর থেকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যায় পথচারিগণ। তার বাড়ী ধামরাইয়ে চরসুঙ্গর গ্রামে।
এ বিষয়ে সাভার থানার ওসি মহসিনুল কাদির জানান, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।