আশুলিয়ায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে উইনি ইলেক্ট্রো ট্রেডের প্রায় কোটি টাকার মালামাল ডাকাতি, থানায় চুরি মামলা

আশুলিয়া ব্যুরো : আশুলিয়ায় উইনি ইলেক্ট্রো ট্রেড লিমিটেড নামে একটি ব্যাটারী তৈরির কারখানায় দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতিকালে কারখানাটির নিরাপত্তা কর্মী ও ডিউটিরত শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে কারখানার অভ্যন্তরে একটি কক্ষে আটকিয়ে রেখে প্রায় কোটি টাকা মূল্যের সীসা বাট, তৈরিকৃত ব্যাটারী, নগদ টাকাসহ প্রায় কোটি টাকা মূল্যের মালামাল ২টি অজ্ঞাত নম্বরের ট্রাকে ভর্তি করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় থানায় একটি চুরি মামলা গ্রহণ করেছে।

গত ২৬ মার্চ সোমবার, সন্ধ্যা সোয়া ৭টারদিকে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকার হা-মীম গ্রুপের বিপরীতে উইনি ইলেক্ট্রো ট্রেড লিমিটেড নামে একটি ব্যাটারী নির্মাণ কারখানায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনায় পরেরদিন মঙ্গলবার আশুলিয়া থানায় একটি চুরি মামলা দায়ের হয়েছে।

কারখানার ডেপুটি ম্যানেজার এডমিন এন্ড সিকিউরিটি ইনচার্জ সাফিকুর রহমান বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করলে সেটি চুরি মামলা (নং-৮৭)  পেনালকোড ১৭০/৪১৯/৩৪২/৩৮০/৩২৩ রুজু করা হয়।

এ ব্যাপারে এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, তিনিসহ তার অপর ডেপুটি ম্যানেজার ইউসুফ আলী পাটোয়ারি, সহকারি স্টোরকিপার মহিম উদ্দিন, শিফট অফিসার আনিছুর রহমানসহ থানায় লিখিত অভিযোগে বলেন, মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে কারখানাটি বন্ধ ছিল। ওইদিন সন্ধ্যা সোয়া ৭টারদিকে তিনি বাসায় অবস্থান করছিলেন। তখন কারখানার মেইন গেটে নিরাপত্তা প্রহরী সামাসুল হক আটিয়া ও মিজান হোসেন দায়িত্বরত ছিল। অপর নিরাপত্তা প্রহরী নাজিম গাজী, হাবিবুল্লাহ ও পিয়ন আব্দুর রহিম কারখানার দোতলায় ঘুমাইতেছিল। ফ্যাক্টরীর ভিতরে ফরমেশন অপারেটর সাকিম উদ্দিন ও হেলপার সুমন মিয়া বি শিফটে কাজ করতেছিল। তিন তলায় শিফট অফিসার মাকসুদুর রহমান ঘুমাচ্ছিল। শ্রমিক জাকারিয়া আবাসিক শ্রমিক রুমে ছিল। এসময় অজ্ঞাত নম্বরের একটি নোহা মাইক্রোবাস ফ্যাক্টরীর গেটের সামনে এসে থামে। মাইক্রোবাস থেকে ৬/৭ জনের একটি দল নেমে নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে গেট খোলার জন্য বলেন। তখন নিরাপত্তা প্রহরী মিজান হোসেন ও সামসুল হক আসিয়া তাহাদের গেটের ভিতর হইতে কথা বলা অবস্থায় পকেট গেট দিয়ে কৌশলে ৫/৬ জন কারখানার ভিতরে ঢুকিয়া পরে। পরে কারখানা চেক করবেন বলে নিরাপত্ত প্রহরী দু’জনকে কারখানার অভ্যন্তরে জেনারেটর সাব স্টেশনে রুমে আটক করেন। তাহাদের মধ্য হতে একজন সিকিউরিটি সুপারভাইজারের পোশাক পরে ডিউটিতে মোতায়েন হন। পরে ভিতরে ঢুকে কারখানায় অবস্থানরত অন্যান্যদের বিভিন্ন কক্ষ থেকে ধরে এনে জেনারেট সাব স্টেশন কক্ষে আটক করে রাখা হয়। এসময় কারখানা গেটে আরো ২টি অজ্ঞাত নম্বরের খালি ট্রাক এসে থামে। ওই ট্রাকে আরো ২০/২৫ অজ্ঞাত অস্ত্রধারী কারখানার ভিতরে প্রবেশ করে। এরা স্টোর রুমের চাবি চায়। তখন কারখানায় অবস্থানকৃত লোকজন বুঝতে পারেন অস্ত্রধারীরা ডিবি পুলিশ নয় এরা ডাকাত। এসময় তারা আর্তচিৎকার করার চেষ্টা করলে তাদেরকে মারধোর করা হয় এবং হত্যা করার হুমকি দেয়া হয়। এসকল অস্ত্রধারীরা কারখানার লোকদের মোবাইল নিয়ে জমা রাখে। এরপর ডিবি পরিচয়দানকারিরা কারখানার নিচ তলার স্টোর রুম থেকে ৩১ হাজার ৪শ’ ৪৬ পিস সীসারবাট যার মূল্য আনুমানিক ৭৫ লাখ ৪৭ হাজার ৪০ টাকা, ৩৫ পিস ব্যাটারী যার মূল্য ১ লাখ ২২ হাজার ৫ শ’ টাকা ও নগদ ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকাসহ সর্বমোট ৮৩ লাখ ১৯ হাজার ৫ শত’ ৪০ টাকার মালামাল ট্রাক দু’টো ভর্তি করে নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় দুষ্কৃতকারিরা মালামাল চালান এর কপি ও সিসি ক্যামেরার ডিভিআরও নিয়ে যায়।

জানতে চাইলে, আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল আউয়াল বলেন, কারখানায় ভুয়া সরকারি কর্মচারী বলে পরিচয় দিয়ে অপরের রূপ ধারণ করে অন্যায়, আটক ও চুরি করার অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। ঘটনায় দুষ্কৃতকারিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে।