স্বর্ণদ্বীপ বাংলাদেশের সিঙ্গাপুর হতে পারে: রাষ্ট্রপতি

 রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার অন্তর্ভুক্ত স্বর্ণদ্বীপের বিপুল উন্নয়ন সম্ভাবনা রয়েছে যা জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারে।

রাষ্ট্রপতি শনিবার এখানে নারিকেল বাগান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি স্বর্ণদ্বীপ দেখে অভিভূত। বাংলাদেশের মূল ভূখ- থেকে আলাদা একটা দ্বীপ। পরিকল্পিতভাবে সাজিয়ে তোলার জন্য এটা সেনাবাহিনীকে দেয়া হয়েছে। এটির আয়তন প্রায় সিঙ্গাপুরের সমান। ভবিষ্যতে এটি বাংলাদেশের সিঙ্গাপুর হতে পারে।’ খবর বাসসের।

রাষ্ট্রপতি হামিদ এ দ্বীপটিতে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে বলেন, ‘এ দ্বীপে যাতে ঘনজনবসতি না হয় সে পরিকল্পনাও রাখা দরকার। সরকার বা সেনাবাহিনীর হাতে থাকলে এটিকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা যাবে।’ রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এ স্বর্ণদ্বীপ বিরাট সম্ভাবনাময়। ভবিষ্যতে এটি আমাদের অর্থনীতিতে বিরাট রাখতে পারে।’ সেনাবাহিনী এটিকে সারাবছর তাদের প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহার করতে পারে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এরকম ফাঁকা জায়গা এক হাওর অঞ্চল ছাড়া আর কোথাও নেই। প্রশিক্ষণের জন্য এটি খুব সুন্দর জায়গা।’

রাষ্ট্রপতি একসময় ‘জাহাইজ্জার চর’ নামে পরিচিত এ দ্বীপে সার্বিক অবকাঠামো ও আর্থ-সামাজিক কর্মকা-সহ বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রশংসা করেন।

এর আগে রাষ্ট্রপতি একটি হেলিকপ্টারে করে দ্বীপে অবতরণ করলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক তাকে অভ্যর্থনা জানান।

পরে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদকে এখানে সেনাবাহিনী গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড সম্পর্কে অবহিত করা হয়।

এরপর রাষ্ট্রপতি ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এ হাসপাতালটি ১৮ মাসের মধ্যে নির্মিত হবার কথা রয়েছে।

রাষ্ট্রপতি এখানে সেনাবাহিনীর খামারও পরিদর্শন করেন। এ সময় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক এবং নৌ-বাহিনী প্রধান এডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এখানে দু’টি বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করেছে। আরো একটি আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে।