ধামরাইয়ে মাদ্রাসা ছাত্রীর শ্লীলতাহানির সালিশে মারপিট, আহত ৬

ধামরাই প্রতিনিধি : ধামরাইয়ে এক মাদ্রাসার ছাত্রীকে ধর্ষণ করার ঘটনায় স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক বসে বুধবার রাতে। এসময় ধর্ষণকারীর স্বজনরা ধর্ষিতার স্বজনদের উপর হামলা চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে সালিশ বানচাল করে দেয়। এতে আহত হয় ছয়জন। শুক্রবার বিকেলে একই ঘটনায় ফের সালিশ বৈঠক বসে স্থানীয় জাহাঙ্গীর আলমের বাড়ীতে। কিন্তু সেখানে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে কোন সুরাহা ছাড়াই সালিশ মুলতবি রাখা হয়। তবে ধর্ষিতা ও তার পরিবার চরম আতঙ্কে আছে, কখন তাদের উপর হামলা চালায় ধর্ষণকারীর স্বজনরা। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সূয়াপুর ইউনিয়নের ঈশাননগর গ্রামে। ধর্ষণকারী আলামীন (১৮) একই গ্রামের খোরশেদ আলমের ছেলে।

সরেজমিনের গিয়ে ধর্ষিতা, তার স্বজন ও এলাকাবাসীর কাছ থেকে জানা গেছে সূয়াপুর ইউনিয়নের দেলধা দাখিল মাদ্রাসার ছাত্রী (১৩) বুধবার দুপুরে নিজ বাড়ীতে একাছিল। এসময় আলামীন ওই ঘরে ঢুকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এসময় আকস্মিকভাবে ওই ছাত্রীর মা ঘরে ঢুকে। এসময় দৌড়ে পালিয়ে যায় আল আমিন। এ নিয়ে বুধবার রাত নয়টার দিকে সালিশ বৈঠক বসে। এসময় আলামীনের ভগ্নিপতি আক্তার হোসেন, সেলিম হোসেন, চাচা নায়েব আলী, বকস মিয়া, আলামিনের বাবা খোরশেদ আলমসহ তার স্বজনরা ধর্ষিতার স্বজনদের উপর হামলা চালায়। এসময় আহত হয় ইমরান, রফিক, রাজু, ওয়াসিম, সাকিব ও শহিদুল। এতে সালিশে আতঙ্ক সৃষ্টি হলে উপস্থিত গ্রামবাসীরা এদিক সেদিক ছুটাছুটি করে। শুক্রবার বিকেলে এ নিয়ে ঈশাননগর নতুন মসজিদের পাশে জাহাঙ্গীর  আলমের বাড়ীতে সালিশ বসে। এসময় সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে সালিশ মুলতবী রাখা হয় বলে জানান মাতাব্বর আফজাল হোসেন ও সাবেক মেম্বার আনোয়ার হোসেন।

ধর্ষিতার মা জানায়, আমার স্বামী মারা যাওয়ার পর এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে পরের বাড়ীতে কাজ করে সংসার চালাই। এখন আমার মেয়ের ইজ্জত লুটে নেওয়া আলামিন ও তার স্বজনদের ভয়ে আছি কখন হামলা চালায়। আমি গরীব মানুষ মামলা করারও সাহস পাই না। এসময় ধর্ষিতা ভয়ে কান্নাকাটি করছিল। ধর্ষিতা জানায়, আমার মুখ চেপে ধরে ভয় দেখিয়ে আমার সর্বনাশ করে আলামীন।

সূয়াপুর ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার আনোয়ার হোসেন বলেন, সালিশে বৈঠকে ধর্ষণের কথা আলামীন স্বীকার করেছে। তবে ধর্ষণকারীর স্বজনদের উশৃংখলতার কারণে ধর্ষিতার পরিবার আতঙ্কে আছে।