ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা আমার অভিপ্রায় না: মোশাররফ করিম

‘চ্যানেল ২৪-এর আমার উপস্থাপিত একটি অনুষ্ঠানের একটি অংশে আমার কথায় অনেকে আহত হয়েছেন। আমি অত্যন্ত দুঃখিত। আমি যা বলতে চেয়েছি তা হয়তো পরিষ্কার হয়নি। আমি পোশাকের শালীনতায় বিশ্বাসী এবং তার প্রয়োজন আছে। এই কথাটি সেখানে প্রকাশ পায়নি।’ কথাগুলো নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে লিখেছেন অভিনেতা মোশাররফ করিম।

মোশাররফ করিম আরো বলেন, ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা আমার অভিপ্রায় না। এ ভুল অনিচ্ছাকৃত। আমি অত্যন্ত দুঃখিত। দয়া করে সবাই ক্ষমা করবেন ।’

‘জাগো বাংলাদেশ’ শিরোনামে চ্যানেল টোয়েন্টিফোরে একটি টিভি অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করছেন মোশাররফ করিম। সমাজের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয় এই অনুষ্ঠানে। সম্প্রতি অনুষ্ঠানটির দ্বিতীয় পর্ব প্রচারিত হলে সেখানে মোশাররফ করিমের একটি কথা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক বির্তক ও সমালোচনা হয়।

অনুষ্ঠানে মোশাররফ করিম বলেছিলেন, ‘একটা মেয়ে তাঁর পছন্দমতো পোশাক পরবে না? আচ্ছা পোশাক পরলেই যদি প্রবলেম হয়, তাহলে সাত বছরের মেয়েটির ক্ষেত্রে কী যুক্তি দেব, যে বোরকা পরেছিলেন তাঁর ক্ষেত্রে কী যুক্তি দেব?’

মোশাররফ করিমের মন্তব্যে কেউ যাতে ভুল না বুঝেন এ কারণেই ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি।

গত ১১ মার্চ থেকে সপ্তাহের প্রতি রোববার রাত সাড়ে ৮টায় ‘জাগো বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানটি চ্যানেল টুয়েন্টিফোরে প্রচারিত হচ্ছে। বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা যেমন সড়ক দুর্ঘটনা, যানজট, বাল্যবিবাহ, শিশু ধর্ষণ ও অন্য আরো বিষয় নিয়ে নির্মিত হচ্ছে অনুষ্ঠানটির প্রতিটি পর্ব। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করছেন আরিফ এ আহনাফ।

গাজী রাকায়েতের বিরুদ্ধে পর্নগ্রাফি আইনে মামলা করলো গৃহবধূ

পর্নগ্রাফি সরবরাহের দায়ে ‘মৃত্তিকামায়া’ ছবিতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে দেশে ইতিহাসে সর্বাধিক (১৭) ক্যাটাগরিতে পুরস্কারপ্রাপ্ত নির্মাতা গাজী রাকায়েতের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এক গৃহবধূ।

শুক্রবার রাজধানীর শ্যামপুর থানায় মামলাটি করেন শ্যামপুর পোস্তগোলা এলাকার কানিজ ফাতিমা সুমাইয়া (৩০) নামের ওই গৃহবধূ। মামলায় তিনি ইন্টারনেট সংযুক্ত মোবাইলফোনের মাধ্যমে পর্নগ্রাফি সরবরাহের অভিযোগ করেছেন।

মামলায় বাদী অভিযোগ করেছেন, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে ‘গাজী রাকায়েত টুকু’ ফেসবুক আইডি থেকে তাকে ‘অশ্লীল, অনৈতিক, ধর্মীয় অনুভূতি পরিপন্থি, ইঙ্গিতপূর্ণ ও যৌন উত্তেজক’ বার্তা পাঠানো হয়। এতে ব্যক্তিগত ও সামাজিকভাবে তার সম্মানহানি হয়েছে।

ফেসবুক মেসেঞ্জারে ওই কথোপকথনের স্ক্রিনশট একটি ক্লোজড গ্রুপে পোস্ট করেন ওই গৃহবধূ। তার সেই পোস্টের পর ৬ মার্চ গাজী রাকায়েত বলেন, তার দুটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ‘হ্যাকড’ হয়েছে।

পরে অপরাজিতা সংগীতা নামে একজন অধিকারকর্মী ওই স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন। তখন গাজী রাকায়েত একটি সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করেন, তার কয়েকজন শিক্ষার্থীর কাছে ওই ফেসবুক অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড ছিল, তারা এই ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে।

টেলিভিশন নাটক নির্মাতাদের সংগঠন ডিরেক্টরস গিল্ডের সভাপতি গাজী রাকায়েত। একইসঙ্গে তিনি টেলিভিশন প্রযোজক সমিতি, শিল্পী সমিতিরও সদস্য।

পরে বিষয়টি নিয়ে ডিরেক্টরস গিল্ড, টেলিভিশন প্রযোজক সমিতি এবং শিল্পী সমিতি নিকেতন অফিসে আলোচনা হয়। ওই তিনটি সংগঠন বিষয়টি তদন্ত করবে বলে আশ্বাস দেয়।

কিন্তু ১০ মার্চের পর থেকে তদন্তের নামে কালক্ষেপণ করে আপোষ-মীমাংসার নামে বিভিন্ন প্রস্তাব দেয়া হয়। এসব বিষয় উল্লেখ করে ১৭ মার্চ শ্যামপুর থানায় সাধারণ ডায়েরী (জিডি) এবং ১৩ মার্চ সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম ডিভিশনে অভিযোগ করেন সুমাইয়া।

এদিকে অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় গাজী রাকায়েত বাদী হয়ে ১৬ মার্চ সুমাইয়ার বান্ধবী অপরাজিতা সঙ্গিতার বিরুদ্ধে ত্যথ-প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় একটি মামলা করে। পাশপাশি অভিযোগ প্রত্যাহার করার জন্যে তাকে চাপ প্রয়োগ করেন।