সাভারে মাংস ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা, নগদ টাকা লুট

স্টাফ রিপোর্টার : সাভারে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এক মাংস ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে প্রতিপক্ষের লোকেরা। এসময় ওই ব্যবসায়ীকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে ও চাপাতি কুপিয়ে তার কাছে থাকা মাংস বিক্রীর নগদ ৫০ হাজার টাকা ও মোবাইলফোন লুট করে নিয়ে গেছে হামলাকারীরা। গতকাল শুক্রবার সকালে সাভারের ভাকুর্তা ইউনিয়নের দুদু মার্কেট এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটেছে।

এ ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় মাংস ব্যবসায়ী মোঃ আমানুল্লাহ মিয়াকে (৪৭) উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসাতালে ভর্তি করেছেন স্থানীয়রা।

আহত আমানুল্লাহ মিয়া ভাকুর্তা ইউনিয়নের শলমাসী বাহেরচর গ্রামের আব্দুল রহিমের ছেলে। সে স্থানীয় দুদু মার্কেট এলাকায় মাংস বিক্রীর ব্যবসা করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন অনুষ্ঠানের অর্ডার নিয়ে মাংস সরবরাহ করেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আমানুল্লাহ জানান, দুুদু মার্কেট এলাকার মাংস ব্যবসায়ী দেলোয়ার একটি গরু কেনার জন্য দাম বলেছিল। কিন্তু গরুর মালিকের সাথে বনিবনা না হওয়ায় গরুটি বিক্রী হয়নি। শুক্রবার অনুষ্ঠানে মাংস সরবরাহের অর্ডার থাকায় আমি এলাকা থেকে সেই গরুটি কিনে স্থানীয় মোতালেবের বাড়িতে দুই মন মাংস সরবরাহ করি। এসময় কিছু মাংস বেশী হলে তা দুদু মার্কেট এলাকায় আমার দোকানে নিয়ে আসি বিক্রীর জন্য।

আমি বাজারে মাংস বিক্রীর সময় দেলোয়ার ও তার লোকজন আমার উপর চড়াও হয়। একপর্যায়ে তারা মরা গরুর মাংস বিক্রী করছি এমন মিথ্যা অপবাদ দিয়ে আমাকে মারধর করতে থাকে। এসময় রিফাত আমাকে ধরে রাখে এবং দেলোয়ার, নিজাম, আকাশ ও আরিফ আমাকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। এঘটনায় আমি বাঁচার জন্য চিৎকার করলে রিফাত চাপাতি দিয়ে আমার মাথায় কোপ দেয়। মারধরের একপর্যায়ে আমি মাটিতে পড়ে গেলে তারা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

আমানুল্লার বোন জাহানারা বলেন, আমরা গরীব বলে দেলোয়ার আমার ভাইকে বাজারে মাংস বিক্রী করতে বাঁধা দেয়। তবুও আমার ভাই মাংস বিক্রী করায় নষ্ট মাংস বিক্রীর মিথ্যা অপবাদ দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করেছে। আমরা প্রশাসনের কাছে এঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডাঃ আমজাদুল হক বলেন, মাথায় ইনজুরি ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন নিয়ে আমানুল্লাহ মিয়া হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাকে কয়েটি পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে এবং স্যালাইন চলছে। পরীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী তার উপযুক্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।

এ ব্যাপারে ভাকুর্তা পুলিশ ক্যাম্পের উপ-পরিদর্শক সুজন বিশ^াস বলেন, এরকম কোন ঘটনা আমার জানা নাই। তবে হামলার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।