আবিদের কাছেই চলে গেলেন স্ত্রী টপি

স্টাফ রিপোর্টার : নেপালে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ বিধ্বস্তে স্বামী মারা যাওয়ার পর বলেছিলেন যা হারিয়েছি তা অপূরণীয়। কোনো কিছুতে তা আর পূরণ হওয়ার নয়। বেঁচে থাকাটা তাই হয়তো নিরর্থক হয়ে উঠেছিল আকষ্মিক দুর্ঘটনায় প্রিয়তমকে হারানো আফসানা খানম টপির জন্য। শুভ্র মেঘ ছুঁয়ে এসে নেপালের ত্রিভুবন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে বিধ্বস্ত হওয়া ইউএস বাংলার ফ্লাইটের ৫০ যাত্রী ও ক্রুর সঙ্গে প্রাণ হারিয়েছিলেন ওই উড়োজাহাজের ক্যাপ্টেন ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতানও। এ দুর্ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যে স্ট্রোক করেন টপি। এরপর থেকে চিকিৎসাধীন ছিলেন আগারগাঁওয়ের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স অ্যান্ড হাসপাতালে। বিমান দুর্ঘটনায় নিহত যাত্রীদের জন্য একদিকে সারা দেশে যখন চলছিল শোক, তখন হাসপাতালে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়ছিলেন আফসানা খানম টপি। টপির অবস্থার উন্নতি হয়েছে- স্বজনরা এমন খবরের অপেক্ষায় থাকলেও চিকিৎসকরা ভালো খবর দিতে পারছিলেন না। ২০ মার্চ ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স অ্যান্ড হাসপাতালের যুগ্মপরিচালক প্রফেসর ড. বদরুল আলম মন্ডল বলেছিলেন, ক্যাপ্টেন আবিদের স্ত্রী বেঁচে আছেন। তবে তার অবস্থা সঙ্কটপূর্ণ। তবে তার কিডনি, হার্ট লিভার সব সচল রয়েছে। তার রক্ত চাপ ১২০/৮০। কিন্তু তার ব্রেন স্বাভাবিক রেসপন্স করছে না। যন্ত্রের সাহায্যে তার শ্বাস-প্রশ্বাস চলছে।

২২ মার্চ তিনি আরও খারাপ খবর জানান। বলেন, টপির শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। তার কিডনি রেসপন্স কম করছে। ব্লাড প্রেসারও কমে গেছে। উন্নত যা চিকিৎসা দেশেই সম্ভব। বিদেশে নিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থাতেই নেই টপি। এরপর শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় এল সবচেয়ে খারাপ খবরটি। এই পৃথিবী ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন টপি। প্রফেসর ড. বদরুল আলম মন্ডল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। টপির মৃত্যুর খবর শুনে হাসপাতালে ভিড় করেছেন তার স্বজনরা। গত ১২ মার্চ দুপুর ১২টা ৫১ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইউএস বাংলার বোম্বার্ডিয়ার ড্যাশ ৮ কিউ৪০০ মডেলের এস২-এজিইউ বিমানে ৭১ জন আরোহী নিয়ে কাঠমান্ডুর উদ্দেশে রওনা করেন পাইলট আবিদ। বিমানটি কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে এবং আগুন ধরে যায়। এতে বিমানে থাকা ৫১ জন নিহত হন। ঠিক কী কারণে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ইউএস বাংলার দাবি পাইলট আবিদের কোনো দোষ ছিল না। বরং ত্রিভুবন বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল রুম (এটিসি) থেকে পাইলট আবিদকে বিভ্রান্তিমূলক নির্দেশনা দেয়া হয়। দুর্ঘটনার পর ইউএস বাংলার কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেছিলেন, ‘কন্ট্রোল টাওয়ারের সঙ্গে পাইলটের কথোপকথনের যে অডিও বের হয়েছে, সেখানে কন্ট্রোল টাওয়ারের কিছু মিস গাইডেন্স দেখেছি আমরা। আমরা তদন্তের পর সঠিক কারণ পুরোপুরি বলতে পারবো। প্রাথমিকভাবে আমরা বুঝতে পেরেছি ক্যাপ্টেনের এখানে কোনও দোষ নেই। কারণ, তার ৭০০ ঘণ্টারও বেশি ফ্লাইট পরিচালনা এবং এই এয়ারপোর্টে শতাধিক ল্যান্ডিং এর নজির আছে।’