সিংগাইরের সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ে গাওয়া হয় না জাতীয় সংগীত

সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি : আড়াই হাজার শিক্ষার্থীর বিদ্যাপীঠ সিংগাইর উপজেলার সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ে মহান স্বাধীনতার মাসেও গাওয়া হচ্ছে না জাতীয় সংগীত। স্কুলটিতে নেই জাতীয় সংগীতের চর্চা। হয় না শরীর চর্চা ক্লাশ। ওই বিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী জাতীয় সংগীত গাইতে বা বলতে পারে না। ফলে দেশ প্রেমের মূলমন্ত্র ও নৈতিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে অভিভাবক মহলে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

সারাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শুদ্ধভাবে জাতীয় সংগীত প্রতিযোগিতা শুরু হলেও ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা গেছে এ প্রতিষ্ঠানটিতে। চলতি বছরের  শুরু থেকে দীর্ঘ অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিদ্যালয়টিতে পাঠদান শুরু হওয়ার আগে কখানো হয় না শারীরিক চর্চা  ক্লাশ ও জাতীয় সংগীত। এতে শিক্ষার্থীরা এলামেলা ঘুরাফেরা করার ফলে প্রতিদিনেই সৃষ্টি হচ্ছে বিশৃঙ্খলা। ঘটছে অপ্রীতিকর ঘটনা। এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টরা। সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী হ্নদয় হোসেনকে জাতীয় সংগীত গাইতে বলা হলে সে অপারগতা প্রকাশ করে। এ  সময় তার সহপাঠি সিদ্দিক অভিযোগ করে  জানায়. স্যারেরা আমাদের শিখান না , তাই আমরা পারি না। এ রকম অভিযোগ একাধিক শিক্ষার্থীর। এ প্রতিবেদক ওই বিদ্যালয়ের ২০-২৫ জন শিক্ষার্থীর সাথে কথা বললে একই  রকম উত্তর মিলে। শিক্ষার্থীদের মত অনুরুপ অভিযোগ অভিভাবক মহলেরও। একাধিক অভিভাবক  ক্ষুব্ধ হয়ে এর জন্য  শিক্ষকদের প্রাইভেট বাণিজ্য ও পরিচালনা পরিষদের দায়িত্বহীনতাকেই দায়ী করলেন। সাইরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক এ কে এম নজরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, অতিরিক্ত শিক্ষার্থী হওয়ায় মাঠ সংকটের কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তার পরেও শ্রেণী ভিত্তিক কভার করার চেষ্টা করি। বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ হাবীবুর রহমানের মুঠো ফোনে একাধিক বার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে সিংগাইর উপজেলা সহকারি মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় সংগীতসহ শরীর চর্চা ক্লাশ বাধ্যতামূলক। সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের বিষয়টি খতিয়ে দেখব।