পাঁচ সিটিতে ভোট নির্বাচনে জয় পেতে যে কৌশলে আ’লীগ

স্টাফ রিপোর্টার : শুরু হয়েছে পাঁচ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের দিন গণনা, চলছে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তুতিও। গতবারের মত এবার সিটিগুলো হাতছাড়া করতে রাজি নয় ক্ষমতাসীনরা। তাই নতুন কৌশল আঁকছে দলটি। সূত্র জানায়, রংপুর সিটি নির্বাচনের পরাজয় থেকে শিক্ষা নিয়ে গাজীপুর, খুলনা, সিলেট, বরিশাল সিটিতে এগোবে ক্ষমতাসীন দলটি। প্রার্থী বাছাই থেকে শুরু করে সব ধরনের পদক্ষেপে সতর্কভাবে পা বাড়াবে দলটির নীতিনির্ধারকরা। ডিসেম্বরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে পাঁচ সিটি নির্বাচনে জয় নিয়ে নিজেদের জনপ্রিয়তার প্রমাণ দেবে আওয়ামী লীগ। এ জন্য সিটিগুলোতে নির্বাচনী জনসভা করছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন অনুযায়ী পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার ১৮০ দিন আগে যে কোনো সময় ভোটগ্রহণ করতে হবে। পাঁচ সিটি করপোরেশনের মধ্যে গাজীপুর সিটিতে ভোট হয়েছে ২০১৩ সালের ৬ জুলাই। প্রথম সভা হয় ২০১৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর। আইন অনুযায়ী এ সিটির মেয়াদ পূর্ণ হবে ৪ সেপ্টেম্বর। ৮ মার্চ নির্বাচনের দিন গণনা শুরু হয়েছে। আর ৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। সিলেট সিটিতে ভোট হয়েছে ২০১৩ সালের ১৫ জুন। প্রথম সভা হয় ২০১৩ সালের ৯ সেপ্টেম্বর। আইন অনুযায়ী এ সিটির মেয়াদ পূর্ণ হবে আগামী ৮ সেপ্টেম্বর। ১৩ মার্চ নির্বাচনের দিন গণনা শুরু হবে। আর ৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। খুলনা সিটিতে ভোট হয়েছে ২০১৩ সালের ১৫ জুন।

প্রথম সভা হয় ২০১৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর। আইন অনুযায়ী এ সিটির মেয়াদ পূর্ণ হবে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর। ৩০ মার্চ নির্বাচনের দিন গণনা শুরু হবে। আর ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। রাজশাহী সিটিতে ভোট হয়েছে ২০১৩ সালের ১৫ জুন। প্রথম সভা হয় ২০১৩ সালের ৬ অক্টোবর। আইন অনুযায়ী এ সিটির মেয়াদ পূর্ণ হবে আগামী ৫ অক্টোবর। ৯ এপ্রিল নির্বাচনের দিন গণনা শুরু হবে। আর ৫ অক্টোবরের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। বরিশাল সিটিতে ভোট হয়েছে ২০১৩ সালের ১৫ জুন। প্রথম সভা হয় ২০১৩ সালের ২৪ অক্টোবর। আইন অনুযায়ী এ সিটির মেয়াদ পূর্ণ হবে আগামী ২৩ অক্টোবর। ২৭ এপ্রিল নির্বাচনের দিন গণনা শুরু হবে। আর ২৩ অক্টোবরের মধ্যে করতে হবে নির্বাচন। সূত্রমতে, নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া দুর্নীতি মামলায় জেলে রয়েছেন। জেল থেকে বের হতে আরও সময় লাগতে পারে। আগামী ৮ মে তার জামিন শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। এর মধ্যে দলের শীর্ষ নেতার জামিন নিয়ে বিএনপির নেতারা আদালতে দৌড়াবেন। দলের শীর্ষ নেতার জেল হওয়ায় বিএনপি এখন রাজনৈতিক ও নৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। আওয়ামী লীগ তাদের নির্বাচনী প্রচারণায় দুর্নীতিকে না বলুন স্লোগান দেবে। একদিকে বিএনপির দুর্নীতি, অন্যদিকে সরকারের উন্নয়ন-প্রচারণা সামনে আনবে সরকারি দল। সে কারণে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরাই জয়লাভ করবেন বলে মনে করেন তারা। জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সিটি করপোরেশন নির্বাচনগুলোকে অ্যাসিড টেস্ট হিসেবে দেখছেন ক্ষমতাসীনরা। সিটি নির্বাচনে কী ফলাফল হয়, সে অনুযায়ী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কৌশল ঠিক করা হবে। তবে আসন্ন সিটি নির্বাচনগুলোয় দলীয় মেয়র প্রার্থীদের জেতা যেমন জরুরি, তেমনি নিরপেক্ষতা বজায় রাখাও অপরিহার্য। একদিকে সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষা, অন্যদিকে বিশ্বাসযোগ্যতা অটুট রাখা। দলীয় প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে আগেই রাজশাহী ও সিলেট সিটিতে দলীয় মেয়র প্রার্থীকে মাঠে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জানা গেছে, আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহে গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ৩১ মার্চ তফসিল ঘোষণা করা হবে। এবার দুই ধাপে সিটি নির্বাচনের প্রস্তুতি রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। দুই দফায় সিটি নির্বাচন হলে ক্ষমতাসীনরাই বেশি লাভবান হবেন বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা।