ধামরাইয়ে নিখোঁজ ঝর্ণার স্বামী আটক, দুই দিনের রিমান্ডে

ধামরাই প্রতিনিধি : ধামরাইয়ে যৌতুকের দাবি মেটাতে না পারায় মারপিটের পর নিখোঁজ হওয়া গৃহবধূকে উদ্ধার করতে না পারলেও পালিয়ে থাকা অবস্থায় ঝর্ণার স্বামী শাহাতদ হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ। শাহাদাৎ হোসেনকে তার ভগ্নিপতি নাটোর জেলার সিংড়া থানার বলিয়াবাড়ী গ্রামের রেজাউল হকের বাড়ী থেকে আটক করা হয়। মামলাটি গত দুই মাস আগে পিবিআইতে স্থানান্তর করা হয়েছে।
মামলাটি তদন্ত করছেন পিবিআই’র উপপরিদর্শক (এসআই) নূরুনবী সরকার।  বৃহ্স্পতিবার সন্ধ্যায় তদন্ত কর্মকর্তা নূরুনবী সরকার বলেন, মামলার প্রধান আসামী ঝর্ণার স্বামী শাহাদাত হোসেনকে দুই দিনের রিমান্ডে আনা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাকে নিয়ে বিভিন্নস্থানে অভিযান চলছে। এর আগে ঝর্ণার দেবব সাইদুল ও তার শ্বশুর মোস্তফাকে রিমান্ডে আনা হয়েছিল। তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। কিন্তু মামলার কোন অগ্রগতি না হলেও চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন ধামরাই থানার এস আই শেখ সজিব। তিনি মামলার বাদী ঝর্ণার বাবা রওশন আলমকে আপোষ হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু তা প্রত্যাখান করায় তাকে মারপিট করেছেন বলে অভিযোগ করেন বাদি রওশন আলম।
রওশন আলম জানান, আসামীদের সাথে এস আই শেখ সজিবের নিয়মিত যোগাযোগ থাকার কারণে ঝর্ণা নিখোঁজ হয়েছে না তাকে হত্যা করা হয়েছে এর আসল রহস্য উদঘাটন কিংবা আসামীদের গ্রেফতার করেনি। শেখ সজিব ঝর্ণাকে উদ্ধার ও আসামী আটক করতে কোন সময়ই তৎপর ছিল না। এছাড়া তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, মামলার স্বাক্ষী আবুল হোসেনকেও মারপিট করেছে এস আই শেখ সজিব। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এস আই শেখ সজিব বলেন, ‘মামলার বাদী আমার সাথে যোগাযোগ করেনি। মামলার বাদী যখনই আমার কাছে আসতেন তখনই কাউকে না কাউকে সাথে নিয়ে আসতেন। কোন সময় সাংবাদিক নিয়ে আসতেন আবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দিয়ে ফোন করান। তিনি কখননো একা আমার কাছে আসত না। এটা রহস্যজনক’।
এ প্রসঙ্গে রওশন আলম বলেন, মামলার আসামী মোস্তফার শ্যালক মিজান আমাকে মাইরা ফালাইব, যেখানে পাবে সেখানেই আমাকে হত্যা করবে বলে হুমকি দিয়েছে। ফলে একা কখনো থানায় যাইনি। এতেও দোষারূপ করেন শেখ সজিব।
ঝর্ণা আক্তারের কাছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ীর লোকজন যৌতুক দাবি করে না পেয়ে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর ঝর্ণাকে বেদম মারপিট করে। ওই রাতেই ঝর্ণাকে আর পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় ঝর্ণার বাবা রওশন আলম বাদী হয়ে গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর থানায় জিডি করেন। জিডি নং-১১১৮। এরপর থেকেই বাড়ী সবাই গা ঢাকা দেয়। পরবর্তীতে গত বছরের ১০ অক্টোবর রওশন আলম বাদি হয়ে ঝর্ণার স্বামী শাহাদ হোসেন, শাশুড়ি হালিমা বেগম, শ্বশুর আবদুস সাত্তার, দেবর সাইদুল ইসলাম, ননদ আমেনা, সাইদুলের শ্বশুর মোস্তফাসহ সাতজনকে আসামী করে মামলা করেন। মামলা নং-১০। এতে সাইদুল ও আমেনাকে আটক করে পুলিশের এস আই আতিয়ার রহমান। আমেনা জামিনে মুক্ত হয়।
ঝর্ণার বাবা রওশন আলম বলেন, আমার মেয়ের মৃতদেহ উদ্ধার করে দিলেও শান্তি পেতাম। আমি নিজে খবর রেখে প্রধান আসামী শাহাদতকে নাটোরের পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করিয়েছি। পরে পিবিআই’র কাছে শাহাদাতকে সোপর্দ করা হয় গত বরিবার।
গত বছরের ১৩ মার্চ গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার রাঙ্গামাটি গ্রামের রওশন আলমের মেয়ে ঝর্ণার আক্তারের বিয়ে দেওয়া হয় ধামরাই উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের কাইজারকুন্ড নাটুয়াপাড়ার আবদুস সাত্তারের ছেলে শাহাতদ হোসেনের সঙ্গে (শাহাদাত হোসেন সাভারের হেমায়েতপুরে একটি গ্রীলের দোকানের কর্মচারী)। বিয়ের পর থেকেই এক লাখ টাকা যৌতুক দাবী করে আসছিল স্বামী ও শশুড়বাড়ীর লোকজন।
উল্লেখ্য, ঝর্ণা আক্তারকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুমকারীদের গ্রেফতার এবং নিখোঁজ ঝর্ণাকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে গত ২৭ জানুয়ার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে ঝর্ণা আক্তারের পরিবার ও এলাকাবাসী। এছাড়া পাষন্ড খুনী স্বামী শাহাদাত হোসেন গং কর্তৃক স্ত্রী ঝর্ণা আক্তারের হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উল্লেখ করে এলাকায়  বৃহস্পতিবার পোস্টার টানিয়ে দেওয়া হয়েছে।