কারাবন্দি খালেদার পাঁচ গ্রেফতারি পরোয়ানার হদিস নেই

বর্তমানে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে হত্যা ও মানহানির আরও পাঁচ মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানার এখনও কোনো হদিস মিলেনি। পাঁচ মামলার মধ্যে ঢাকায় দুইটি মানহানি, কুমিল্লায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুইটি এবং নড়াইলে একটি মানহানির মামলা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পর খালেদা জিয়ার গুলশানের ঠিকানায় তা পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।কিন্তু থানা পুলিশ বলছে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কোনো গ্রেফতারি পরোয়ানার আদেশ তারা পায়নি। পেলে আইনগত ব্যবস্থা নিবেন তারা।

অপরদিকে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা মামলায় ওকালাতনামায় স্বাক্ষর আনতে গেলে কারাকর্তৃপক্ষ তাতে স্বাক্ষর করাতে দেয়নি। এবং মানহানির এক মামলায় খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করলেও আদালত তা দুইবার ফেরত দিয়েছেন।

অন্যদিকে কুমিল্লার একটি হত্যা মামলা ২৮ মার্চ ও ঢাকায় দুর্নীতির একটি মামলায় ২৮ ও ২৯ মার্চ কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে হাজির করার জন্য আদালত নির্দেশ দিয়েছেন।

গ্রেফতারি পরোয়ানার বিষয়ে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু বক্কর সিদ্দিক  বলেন, গুলশান থানায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির কোনো আদেশ আমরা পাইনি। যদি পরোয়ানার জারির কোনো আদেশ আসে তাহলে আমরা আইনগতভাবে প্রদক্ষেপ নেবো।

তিনি আরও বলেন, কিছু দিন আগে কুমিল্লা আদালত থেকে খালেদা জিয়ার নামে একটি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ আমাদের থানায় এসেছিল। আমরা তা তামিল করার জন্য কুমিল্লার আদালতে পাঠিয়ে দিয়েছি। আদালত সে অনুযায়ী আগামী ২৮ মে খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করানোর জন্য কারাকর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।

কুমিল্লার আদালতের আরও দুইটি গ্রেফতারি পরোয়ানা বিষয়ে আদালতের পরিদর্শক (কোর্ট ইন্সপেক্টর) সুব্রত ব্যানার্জি বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কুমিল্লা আদালতে তিনটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর আমরা তা তামিল করার জন্য রাজধানীর গুলশান থানায় পাঠিয়ে দিয়েছি। তিন মামলার মধ্যে ইতোমধ্যে একটি হত্যা মামলায় গুলশান থানা গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল করেছে। এই মামলায় খালেদা জিয়াকে আগামী ২৮ মার্চ আদালতে হাজির করার জন্য আদালত নির্দেশ দিয়েছেন। বাকি দুই গ্রেফতারি পরোয়ানার বিষয় আমরা জানা নেই।

ঢাকার আদালতের দুইটি মানহানি মামলার বিষয় ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু বলেন, মানহানির অভিযোগে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুইটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। গ্রেফাতারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পর তা সংশ্লিষ্ট থানায় তামিল করার জন্য পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। পুলিশ কেন তামিল করছে না তা আমরা জানা নেই। পুলিশের উচিত এই পরোয়ানাগুলো তামিল করা।

নড়াইল আদালতের পরিদর্শক (কোর্ট ইন্সপেক্টর) অজিত কুমার মিত্র বলেন, মানহানির অভিযোগে নড়াইল আদালতে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে একটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর আমরা তা তামিল করার জন্য গুলশান থানার ওসির বরাবার তা পাঠিয়ে দিয়েছি।

মানহানির এক মামলার বাদী জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকী বলেন, খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার দেখানোর জন্য ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে দুইবার আবেদন করেছি। কেন যে আদালত দুইবারই আমার আবেদনটি ফিরিয়ে দিয়েছেন তা আমার বোধগম্য নয়।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেজবাহ বলেন, ঢাকা দুইটি ও নড়াইলের মানহানির একটি মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রয়েছে তার ওকালতনামায় স্বাক্ষর আনতে আমরা কারাগারে গিয়ে ছিলাম। কারাকর্তৃপক্ষ ওকালতনামায় ফেরত দিয়েছেন। তারা বলেছেন, এই মামলাগুলোতে খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার দেখানোর কোনো আদেশ আমরা পাইনি। আদেশ না পেলে আমরা ওকালতনামায় খালেদা জিয়াকে স্বাক্ষর করতে দিতে পারি না।