সাভারে অপহরণের পরিকল্পনায় রাজি না হওয়ায় ফয়সাল হত্যা: খুনীদের গ্রেফতারের দাবিতে মহসড়ক অবরোধ

স্টাফ রিপোের্টোর : সাভারে নিজেকে অপধহরণের নাটক সাজিয়ে পিতার কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেয়ার পরিকল্পনায় রাজি না হওয়ায় বন্ধুরা মাহদুদুর রহমান ফয়সাল (২০) নামে এক কলেজ ছাত্রকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে তার লাশ বালু চাপা দিয়ে রাখে।

নিখোঁজের ১৬ দিন পর মাহমুদুর রহমান ফয়সালের মৃতদেহ বালু চাপা অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। এঘটনায় নিহতের বন্ধু রাজু ও আকাশ নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে সাভারের জোরপুল এলাকার একটি খোলা মাঠের বালু চাপায় দেয়া অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে।

নিহত ফয়সাল সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের জয়নাবাড়ি এলাকার মাসুদ রানা ওরফে ফকির চাঁনের ছেলে।

সে সাভারের ব্যাংক কলোনী এলাকার কলেজেক্স স্কুল এন্ড কলেজের একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিলো।

বুধবার বিকেলে এলকাবাসী ও নিহত ফয়সালের স্বজনরা খুনীদের ফাঁসির দাবিতে হেমায়েতপুরে ঢকা-আরিচা মহসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশ্বাস দিলে তারা অবরোধ তুলে নেয়।

বুধবার বিকাল পৌনে ৪টার দিকে নিহতের এলাকাবাসী ঢাকা-আরিচা মহাড়কের হেমায়েতপুরে অবস্থান নিয়ে মহাসড়কটিতে যানচলাচল বন্ধ করে দেয়।

পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স হেমায়েতপুরে পৌঁছলে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মরদেহ নিয়ে মহাসড়কে মিছিল করে।

এসময় তারা ফয়সালকে খুনের ঘটনায় জড়িতদের ফাঁসির দাবি জানান। অন্যথায় আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিরারী দেন।

পরে সাভার মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দোষীদের শাস্তির আশ্বাস দিলে এলাকাবাসী মহাসড়ক থেকে সড়ে যায়। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মহাসড়ক অবরোধ ও মিছিল করায় এসময় সড়কটিতে এক ঘন্টা যানচলাচল বন্ধ থাকে।

ফয়সাল হত্যার ঘটনায় জড়িত গ্রেপ্তার রাজু ও আকাশ তারা দু’জনই রাজধানীর হাজারীবাগে চামড়া কারখানায় কাজ করতো। রাজু সাভারের হোময়েতপুরের আইয়ুব আলীর ছেলে ও আকাশের গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরের বিরামপুরে।

মঙ্গলবার বিকেলে তেুঁতলঝোড়া ইউনিয়নের জয়ানাবাড়ী এলাকার বৈদ্যনাথের ইটভাটার পাশে হোসেন আলীর বালুরটেক থেকে বালু চাপা অবস্থায় কলেজ ছাত্র ফয়সালের অর্ধগলিত মৃতদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহতের চাচা মো. মিন্টু মিয়া জানান, রাজু ও আকাশ ফয়সালকে হত্যা করে বালু চাপা দেয়। এ ঘটনায় তোফায়েল হোসেন তুহিন নামে আরও এক ব্যক্তি জড়িত রয়েছে। সে পালাতক রয়েছে।

রাজু নিহতের ফয়সালের দুসম্পর্কের মামা। রাজুসহ তার দুই বন্ধু আকাশ ও তুহিন পরিকল্পনা করে ফয়সালকে হত্যা করে। এই হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

এ বিষয়ে সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. খোরশেদ আলম জানান, গত ৫ মার্চ রাতে কলেজ ছাত্র ফয়সাল বাসা থেকে বের হওয়ার নিখোঁজ হয়। এরই ধারাবাহিকতায় পুলিশ তদন্ত শুরু করে।

পরে মুঠোফোনের সূত্র ধরে তার দুই বন্ধুকে দিনাজপুর থেকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

তাদের তথ্যের ভিত্তিতে সাভারের সাভার উপজেলার তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের জোরপুল এলাকায় বালু চাপায় দেয়া অবস্থায় ফয়সালের অর্ধগলিত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

তারা ফয়সালকে নিয়ে অপহরণের নাটক সাজিয়ে ফয়সালের বাবার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা করেছিলো।

কিন্তু ফয়সাল এ কাজে রাজি না হওয়ায় তাকে সেখানেই শ্বাসরোধ করে হত্যা করে বালু চাপা দেয় বলে স্বীকার করেছে গ্রেপ্তারকৃত দু’জন। এ ঘটনায় জড়িত বাকীদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজগর হোসেন জানান, ফয়সাল নিখোঁজের ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়রি দায়ের হওয়ার পর বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ খবর নেয়া শুরু করি।

পরে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার করে অভিযুক্ত রাজু ও আকাশের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং করে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হই।

পরে মঙ্গলবার ভোরে দিনাজপুরের বিরামপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আকাশ ও রাজুকে আটক করা হয়।

পরবর্তীতে তাদের দেয়া তথ্য মতে সাভারের জোরপুল এলাকার বৈদ্যনাথের ইটভাটার পাশে হোসেন আলীর বালুরটেক থেকে বালু চাপা অবস্থায় নিহত ফয়সালের অর্ধগলিত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।