চালের দাম স্বাভাবিক : খাদ্যমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার : দেশের সব পণ্যের দামই বেড়েছে। এর ধারাবাহিতকায় চালের দামও বেড়েছে। তবে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে চালের দাম খুব একটা বেশি না। যে মূল্যে বর্তমানে চাল বিক্রি হচ্ছে তা স্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্যমন্ত্রী মো. কামরুল ইসলাম।

 

বুধবার রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় আয়োজিত চার দিনব্যপী খাদ্যপণ্য এবং কৃষিজাত উপকরণের প্রদর্শনী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। কামরুল ইসলাম বলেন, দেশে কৃষিজমি অনেক কমেছে। তারপরও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ। এর প্রধান কারণ কৃষক এখন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও সময়মত সার পাচ্ছে। কৃষকদের জন্য যা যা করার দরকার সরকারের পক্ষ থেকে তা করা হচ্ছে। কৃষক কৃষিপণ্য উৎপাদনে উৎসাহিত হচ্ছেন। চালের দামের প্রসঙ্গে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের সব পণ্যের দামই বেড়েছে। এর ধারাবাহিতকায় চালের দামও বেড়েছে। তবে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে চালের দাম খুব একটা বেশি না। বর্তমানে চালের দাম স্বাভাবিক আছে। আমরা চাল আমদানি শুরু করেছি চালের দাম সামনে আরও কমবে। চালের দাম বেশি কমলে সমস্যা আছে উল্লেখ করে কামরুল ইসলাম বলেন, দেশের প্রধান খাদ্যশস্য হলো ধান। আর এ ধান দিয়েই কৃষকরা তাদের জীবিকা নির্বাহ করে। তারা যদি ঠিকমত চালের মূল্য না পায় তাহলে তারা ধান উৎপাদন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। এতে করে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়াবে। প্রদর্শনীর উদ্বোধন ঘোষণার পর খাদ্যমন্ত্রী মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। চার দিনব্যাপী এ প্রদর্শনীতে তৃতীয় ফুড অ্যান্ড এগ্রো বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো-২০১৮, তৃতীয় এগ্রোক্যাম বাংলাদেশ এক্সপো-২০১৮ এবং তৃতীয় ইন্টারন্যাশনাল পোল্ট্রি অ্যান্ড লাইভস্টক বাংলাদেশ এক্সপো-২০১৮ একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ ছাড়াও থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, য্ক্তুরাষ্ট্র, শ্রীলঙ্কা, চীন, রাশিয়া, ভিয়েতনাম ও ভারতের খাদ্যপণ্য, কৃষিজাত উপকরণ উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের খ্যাতনামা প্রায় ১৩০টি দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ১৮০টি স্টল অংশ নিয়েছে।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে খাদ্যশিল্প খাতকে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে আয়োজিত এ প্রদর্শনীতে ক্রেতা, পরিবেশক ও উদ্যোক্তারা কৃষির আনুষঙ্গিক উপকরণ এবং নতুন নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হতে পারবেন। উৎপাদক ও ভোক্তার সরাসরি সাক্ষাৎ ও আলাপচারিতায় প্রদর্শনীটি একটি ওয়ান স্টপ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে, যা বাংলাদেশের খাদ্যশিল্পের বাজার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

২১ মার্চ শুরু হওয়া এ প্রদর্শনী চলবে আগামী ২৪ মার্চ (শনিবার) পর্যন্ত। প্রদর্শনী প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফুড সেইফটি অথরিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহফুজুল হক, সেমস গ্লোবালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেহরুন এন ইসলাম প্রমুখ।