গ্যাসের দাম ৭০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব

আবারও গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাখরাবাদ গ্যাস বিতরণ কোম্পানি। মঙ্গলবার বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) গ্যাসের দাম ৭০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে কোম্পানিটি। আগামীকাল (বুধবার) গ্যাস বিতরণ কোম্পানি তিতাস দাম বাড়ানোর প্রস্তাব কমিশনে জমা দেবে। বিইআরসি, তিতাস ও বাখরাবাদ সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।  তিতাস গ্যাস বিতরণ কোম্পানির একজন কর্মকর্তা জানান, আবাসিকে ছাড়া অন্য সব খাতেই গ্যাসের দাম বাড়ানো হচ্ছে। তবে আবাসিক গ্রাহকের আশান্বিত হওয়ার কিছু নেই। ওই কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এলএনজি আমদানি আরও বাড়লে আবাসিক গ্রাহকদের গ্যাসের দাম দ্বিগুণ করার প্রস্তাব  দেওয়া হবে। সেই হিসেবে আবাসিক গ্রাহকদের দুই চুলার গ্যাসের দাম এক হাজার ৬০০ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হবে। গতবার সরাসারি দুই চুলার দাম ৬০০ থেকে বাড়িয়ে এক হাজার টাকা করার প্রস্তাব করেছিল বিতরণ কোম্পানি। তখন কমিশন ৯৫০ টাকা যা নির্ধারণ করে দেয়। যদি কমিশনের আদেশের পর উচ্চ আলাদালত দ্বিতীয় ধাপে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করায় এখন ৮০০ টাকাই রয়েছে দুই চুলার গ্যাসের দাম।  নতুন প্রস্তবনায় বিদ্যুৎ, সারকারখানা, শিল্প, ক্যাপটিভে গ্যাসের দাম দ্বিগুণ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সিএনজিতে ২০ শতাংশ দাম বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।  প্রতি ঘন মিটার শিল্পে ১৬, বিদ্যুতে ১০,  সারে ১২ টাকা ৮০ পয়সা সিএনজিতে ৪০ টাকা থেকে ৪৮, ক্যাপটিভে ১৬ টাকা এবং চা শিল্পে ১২ টাকা ৮০ পয়সা নতুন দাম প্রস্তাব করা হয়েছে।  তিতাস গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর মসিউর রহমান জানিয়েছেন, তারা বুধবার গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব বিইআরসিতে পাঠাবেন। এলএনজি আসার পর গ্যাসের যে মূল্য বৃদ্ধি ঘটবে, তা পর্যায়ক্রমে সমন্বয়ের জন্যই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, আবাসিকে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব থাকবে না।  গত বছর ফেব্রুয়ারিতে গ্যাসের দাম গড়ে ২২ দশমিক ৭০ শতাংশ বাড়ানো হয়। মার্চ ও জুলাই থেকে দুই ধাপে তা কার্যকর হয়। বর্তমানে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের গড় মূল্য সাত টাকা ৩৫ পয়সা।  বিইআরসির সদস্য আবদুল আজিজ খান বলেন, কমিশন সব কোম্পানির প্রস্তাব পাওয়ার পর একটি কমিটি গঠন করে প্রস্তাবগুলো যাচাই বাছাই করে গণশুনানির আয়োজন করবে। এরপর তাদের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবে।  আগামী এপ্রিল থেকে থেকে জাতীয় গ্রিডে আমদানি করা তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) যুক্ত হবে। দেশিয় গ্যাসের চেয়ে এলএনজির দাম বেশি বলে লোকসান কমাতে গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ।  এর আগে গত নবেম্বরে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির সময় এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সদস্য মিজানুর রহমান বলেছিলেন, শুরুতে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি বিদ্যুৎ উৎপাদনে দেওয়া হলে গড় বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ বাড়বে না। এতে করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে তেমন প্রভাব পড়বে না।  কিন্তু মঙ্গলবার জ্বালানি বিভাগের নির্দেশনা মেনে গ্যাসের দর বৃদ্ধির যে প্রস্তাব এসেছে, সেখানে বিদ্যুতের ইউনিট প্রতি গ্যাসের দাম দ্বিগুণ করার কথা বলা হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৬০ ভাগই জ্বালানি খরচ হওয়ায় বিদ্যুতের উৎপাদান খরচে তা মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।