কর্মকর্তার উদাসীনতায় এমপিও হাতছাড়া হতে যাচ্ছে দেড় হাজার শিক্ষকের

স্টাফ রিপোর্টার : এমপিও আবেদন যাচাই-বাছাইয়ে উদাসীনতার কারণে মার্চ মাসের বিশেষ এমপিও থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রংপুর অঞ্চলের প্রায় দেড় হাজার শিক্ষক। দীর্ঘদিন বিনা বেতনে চাকরির পর প্রথমবারের মতো এমপিও পেতে গিয়েও তা হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন শিক্ষকরা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ক্ষুব্ধ শিক্ষকদের পক্ষে সোমবার (১৯ মার্চ) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব বরাবর একটি আবেদন করা হয়েছে।

ওই আবেদনে বলা হয়, রংপুর অঞ্চলের উপ-পরিচালকের উদাসীনতার কারণে দেড় হাজার শিক্ষক (আইসিটি, বিজ্ঞান শিক্ষক ও শ্রেণি শাখা) মার্চ মাসের বিশেষ এমপিও বঞ্চিত হচ্ছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে  মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব (মাধ্যমিক) সালমা জাহান বলেন, ‘রংপুর অঞ্চলের একজন শিক্ষক এ অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ পাওয়ার পরপরই রংপুরের অঞ্চলিক পরিচালককের কাছে জবাব চাওয়া হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে ব্যাখ্যা চেয়ে ফাইল উপস্থাপন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট শাখাকে।

’ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার ফকিরহাট স্মৃতিসৌধ স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক মতলুবুর রহমান পলাশ শিক্ষকদের পক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব বরাবর এ অভিযোগ করেছেন।

রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার বরাবরও একই অভিযোগ করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। তবে অভিযোগকারী শিক্ষক মাতলুবুর রহমান পলাশ বলেন,

‘বিষয়টি অভিযোগ আকারে নয়, অবহিত করার জন্যই মন্ত্রণালয় ও বিভাগীয় কমিশনার বরাবর পাঠানো হয়েছে।’

মাতলুবুর রহমান পলাশসহ অন্য শিক্ষকরা জানান, এমপিওভুক্তির জন্য ফাইলটি উপ-পরিচালক ফেলে রেখেছিলেন। তিনি কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের নামে সময়ক্ষেপণ করেছেন।

আবেদন যাচাই-বাছাই করে তালিকা পাঠানোর শেষদিন ১৮ মার্চেও ফাইল দেখেননি ওই কর্মকর্তা।

তবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) এমপিও আবেদনের সময় ২০ মার্চ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়ায় শিক্ষকরা আশায় বুক বাঁধেন।

কিন্তু রবিবার ও সোমবার শত শত শিক্ষক উপ-পরিচালকের সঙ্গে দেখা করতে গেলেও তিনি দেখা দেননি। এমনকি কোনও ফাইল ছাড় করেননি।

রংপুর অঞ্চলের শিক্ষকরা জানান, বছরের পর বছর শিক্ষকরা বিনা বেতনে চাকরি করে আসছেন। ২০১১ সালের পরিপত্র বাতিল করে আইসিটি, বিজ্ঞান ও শ্রেণি শাখা শিক্ষকদের এমপিও দিতে ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর আবার পরিপত্র জারি করে সরকার। ওই পরিপত্র অনুযায়ী সাত হাজার ১৪৬ জন শিক্ষক এমপিও আবেদনের সুযোগ পান। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষকরা এ সুযোগ পেলেও রংপুরের প্রায় দেড় হাজার শিক্ষক বঞ্চিত হতে চলেছেন। শিক্ষকরা আরও বলেন, ফেব্রুয়ারিতে এমপিও আবেদন করেছেন তারা। শিক্ষকরা প্রথমবারের মতো মার্চ মাসের এমপিও পাওয়ায় আশায় অপেক্ষা করতে থাকেন। কিন্তু এমপিও আদেনপত্র যাচাই-বাছাইয়ের নামে দেরি করছেন ওই উপ-পরিচালক। আগামী ২০ মার্চের মধ্যে যাচাই-বাছাই করে তালিকা পাঠানোর নির্দেশনা রয়েছে। এ সময়ের মধ্যে না পাঠানো হলে মার্চ মাসের এমপিও না পাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। এসব অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে রংপুরের উপ-পরিচালক মোস্তাক হাবিব বলেন, ‘সময় বাড়িয়ে দেওয়ায় দুদিন সময় পাওয়া গেছে, আমরা দেখতে পারবো।’ আগের নির্ধারিত সময় ১৮ মার্চের মধ্যে যাচাই-বাছাই সম্ভব না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে উপ-পরিচালক বলেন, ‘ফাইলগুলো জটিল।’