সিংগাইরে পুলিশের হস্তক্ষেপে নারী নাট্যশিল্পীদের পারিশ্রমিক আদায়

সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি : সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের আঠালিয়া গ্রামে ৪ দিনব্যাপী নাটকে নারী নাট্যশিল্পদের পারিশ্রমিক ও বাদ্যযন্ত্র ভাড়ার টাকা পুলিশের হস্তক্ষেপে আদায় হয়েছে। সোমবার ভুক্তভোগী নাট্যশিল্পীদের পক্ষ থেকে বাবুল হোসেন স্থানীয় আয়োজককারীদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করলে পুলিশ তাদের পারিশ্রমিকের ১৬ হাজার টাকা আদায় করে দেন। সোমবার বিকেলে সিংগাইর থানার এএসআই মানিকুজ্জামান মুঠোফোন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার মহাদেবপুর থেকে ভাড়া আসায় নাট্যশিল্পীদের নেতৃত্বদানকারী বাবুল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, গত ১৫ মার্চ থেকে ৪দিনের জন্য আমাদের ৪জন নারী শিল্পী, ৪ বাদ্যযন্ত্রম্যান, ১ জন মেকাপম্যান ও ১ একজন পোষাকম্যানকে ৬০ হাজার টাকা চুক্তিতে ভাড়া আনে। চুক্তি ভঙ্গ করে টাকা না দিয়ে আয়োজককারী মাসুদ রানা, ছানোয়ারসহ অন্যান্যরা গা ঢাকা দেন। এ অবস্থায় আমি বাধ্য হয়ে থানায় অভিযোগ করি।
এএসআই মানিকুজ্জামান বলেন, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ওসি স্যারের নির্দেশে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাই। আয়োজকরা সটকে পড়লে গ্রামবাসির সহযোগিতায় শিল্পীদের ১৬ হাজার টাকা তুলে দেই।
আঠালিয়া গ্রামের বাসিন্দা ইউপি মেম্বার আবু বকর সিদ্দিক এ ঘটনার সত্যতা স¦ীকার করে বলেন, একটি মহল এ ধরণের কাজ করে গ্রামের সুনাম নষ্ট করছেন। ধল্লা ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও নাটকের বিশেষ অতিথি মোঃ দেলোয়ার হোসেন খান বলেন, আমার অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও নাট্যানুষ্ঠানে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে আয়োজককারীদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ শুনেছি। অতিথি হিসেবে আমিসহ অন্য অতিথিরাও এ নাটকে যথেষ্ট পরিমাণ আর্থিক সহযোগিতা করেছেন। তারপরেও শিল্পীদের সাথে এমন আচরণ দুঃখজনক।
নাট্যানুষ্ঠান আয়োজক কমিটির অভিযুক্ত মাসুদ রানা বলেন, দু‘গ্রুপের দ্বন্দ্বে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। পুলিশের হস্তক্ষেপে তার সমাধান হয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন।
এ ব্যাপারে ধল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ জাহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, নাটক গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য বহন করলেও একটি মহল প্রশাসনের কাছ থেকে কোন প্রকার অনুমতি না নিয়ে নাটকের আয়োজন করে। আমি যতটুকু শুনেছি ওই এলাকার ওয়াজ মাহফিল বাধাগ্রস্থ করে এমন নাটক আয়োজন করেন তারা। শিল্পীদের পরিশ্রমের টাকা না দেয়ায় আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই।