সরকার পাশে অাছে, থাকবে : কাদের

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নেপালে মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে সরকার আছে ও থাকবে। সোমবার বিকেলে আর্মি স্টেডিয়ামে দুর্ঘটনায় নিহতদের জানাজা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, দুর্ঘটনার পরপরই প্রধানমন্ত্রী তার সিঙ্গাপুর সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরেছেন। এরপর থেকেই তিনি সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর রাখছেন।

এ সময় তিনি এ দুর্ঘটনায় নিহতদের স্বজন ও পরিবারের উদ্দেশ্যে বলেন, এ ঘটনা গোটা জাতিকে মর্মাহত করেছে। আমাদের হৃদয় ভেঙে গেছে। কোনো মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ আসলে অর্থের মাধ্যমে হয় না। প্রধানমন্ত্রী দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক পরিবারে সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং যথোপযুক্ত সাহায্য করবেন।

এখন পর্যন্ত যাদের মরদেহ শনাক্ত হয়নি তাদের ব্যাপারে মন্ত্রী বলেন, ডিএনএ পরীক্ষাসহ সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের লাশ দেশে ফেরত আনা হবে।

সোমবার বিকেল ৫টা ২৩ মিনিটে আর্মি স্টেডিয়ামে নিহতদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা পড়ান সেনাবাহিনীর কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা মো. মাহমুদুল হক।

এর আগে ২৩ জনের মরদেহের কফিন ১৯টি মরদেহবাহী ফ্রিজিং গাড়িতে করে বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে যায়। বিকেল ৫টায় আর্মি স্টেডিয়ামে পৌঁছায়।

সোমবার বিকেল ৩টা ৫৫ মিনিটে মরদেহগুলো নিয়ে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি কার্গো বিমান। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ১ নম্বর ভিভিআইপি টার্মিনালে অবতরণ করে মরদেহবাহী ৬১-২৬৪০ নম্বর বিমানটি।

মরদেহ আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তার সঙ্গে ছিলেন বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী শাহজাহান কামাল। জানাজা শেষে রাষ্ট্রপতির পক্ষে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে ওবায়দুল কাদের এবং স্পিকার শ্রদ্ধা জানান। এরপর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

যাদের মরদেহ আনা হয়েছে তারা হলেন- আঁখি মনি, বেগম নুরুন্নাহার, শারমিন আক্তার, নাজিয়া আফরিন, এফএইচ প্রিয়ক, উম্মে সালমা, বিলকিস আরা, আখতারা বেগম, মো. রকিবুল হাসান, মো. হাসান ইমাম, মিনহাজ বিন নাসির, তামারা প্রিয়ন্ময়ী, মো. মতিউর রহমান, এস এম মাহমুদুর রহমান, তাহারা তানভীন শশী রেজা, অনিরুদ্ধ জামান, রফিক উজ জামান, পাইলট আবিদ সুলতান, কো-পাইলট পৃথুলা রশিদ, খাজা সাইফুল্লাহ, ফয়সাল, সানজিদা ও নুরুজ্জামান।