নিবন্ধন বাতিল হচ্ছে নাগরিক আন্দোলনের

স্টাফ রিপোর্টার : ইসির ডাকে সারা না দেওয়ায় নিবন্ধন বাতিল করা হচ্ছে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নাগরিক আন্দোলনের। সোমবার (১৯ মার্চ) রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে কমিশন সভায় এই বিষয়ে আলোচনা হয়। কমিশন সভা শেষে ইসির সচিব মো. হেলালউদ্দীন আহমদ বলেন, নিবন্ধিত ৪০টি দল রয়েছে তাদের কাছে কাগজপত্র চাওয়া হয়। এরমধ্যে ৩৮টি দল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাগজপত্র জমা দিয়েছে। তবে গণফোরাম ও নাগরিক আন্দোলন তাদের কাগজপত্র জমা দেয়নি। গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল কাগজপত্র জমা দেয়ার জন্য ৬ মাস সময় চেয়েছেন। তাকে ৩ মাস সময় দেয়া হয়েছে। তবে নাগরিক আন্দোলন কোনো সময় না চাওয়ায়, তারা কেন কাগজপত্র জমা দেবে না তা জানতে চেয়ে নোটিশ দেয়া হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তারা নোটিশের জবাব না দিলে দলটির নিবন্ধনও বাতিল করা হবে। হেলালউদ্দীন বলেন, নতুন করে ৭৫টি রাজনৈতিক দল নির্বাচন কমিশন থেকে নিবন্ধন নেয়ার জন্য আবেদন করেছে। এরমধ্যে ১৯টির কাগজপত্রে ভুল ও তথ্যে গরমিল থাকায় তাদের নিবন্ধন না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বাকিদের অনেকের কাজপত্রে ভুল আছে। তাদের ১৫ দিন সময় দেয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে সঠিক কাগজপত্র জমা না দিলে তাদেরও নিবন্ধন দেয়া হবে না। আগামী নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে কি-না সে বিষয়ে জানতে চাইলে কমিশন সচিব বলেন, জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। তবে স্থানীয় নির্বাচনে কোনো কোনো জায়গায় পরীক্ষামূলকভাবে ইভিএম ব্যবহার করা হতে পারে। এদিকে ৩১ মার্চ গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশনের তফসিল দিয়ে মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের নির্বাচন করার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন। সে ক্ষেত্রে ঐ মাসের ১৩ অথবা ১৪ তারিখ ভোট গ্রহণের দিন রেখেছে সাংবিধানিক এ প্রতিষ্ঠানটি। সূত্র জানায়, এইচএসসি পরীক্ষা শেষে হচ্ছে ৪ মে, রোজা শুরু হবে ১৭ মে এর মাঝখানে ১৩ অথবা ১৪ তারিখে গাজীপুর ও খুলনা সিটিতে নির্বাচন করার পরিকল্পনা করছে ইসি। রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশনের ঈদের পর জুলায়ে ভোট করবে ইসি। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন অনুযায়ী পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার ১৮০ দিন আগে যেকোনো সময় ভোট গ্রহণ করতে হবে। পাঁচ সিটি করপোরেশনের মধ্যে গাজীপুর সিটিতে ভোট হয়েছে ২০১৩ সালের ৬ জুলাই। প্রথম সভা হয় ২০১৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর। আইন অনুযায়ী এ সিটির মেয়াদ পূর্ণ হবে আগামী ৪ সেপ্টেম্বর। ৮ মার্চ নির্বাচনের দিন গণনা শুরু হয়েছে। আর ৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। সিলেট সিটিতে ভোট হয়েছে ২০১৩ সালের ১৫ জুন। প্রথম সভা হয় ২০১৩ সালের ৯ সেপ্টেম্বর। আইন অনুযায়ী এ সিটির মেয়াদ পূর্ণ হবে আগামী ৮ সেপ্টেম্বর। ১৩ মার্চ নির্বাচনের দিন গণনা শুরু হবে। আর ৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। খুলনা সিটিতে ভোট হয়েছে ২০১৩ সালের ১৫ জুন। প্রথম সভা হয় ২০১৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর। আইন অনুযায়ী এ সিটির মেয়াদ পূর্ণ হবে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর। ৩০ মার্চ নির্বাচনের দিন গণনা শুরু হবে। আর ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। রাজশাহী সিটিতে ভোট হয়েছে ২০১৩ সালের ১৫ জুন। প্রথম সভা হয় ২০১৩ সালের ৬ অক্টোবর। আইন অনুযায়ী এ সিটির মেয়াদ পূর্ণ হবে আগামী ৫ অক্টোবর। ৯ এপ্রিল নির্বাচনের দিন গণনা শুরু হবে। আর ৫ অক্টোবরের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। বরিশাল সিটিতে ভোট হয়েছে ২০১৩ সালের ১৫ জুন। প্রথম সভা হয় ২০১৩ সালের ২৪ অক্টোবর। আইন অনুযায়ী এ সিটির মেয়াদ পূর্ণ হবে আগামী ২৩ অক্টোবর। ২৭ এপ্রিল নির্বাচনের দিন গণনা শুরু হবে। আর ২৩ অক্টোবরের মধ্যে করতে হবে এ সিটিতে নির্বাচন। কমিশন সভা শেষে ইসির সচিব মো. হেলালউদ্দীন আহমদ আরও বলেন, আগামী ৩১ মার্চ খুলনা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। এছাড়া রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার তারিখ পরে জানানো হবে। তিনি বলেন, খুলনা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনে সবশেষ নির্বাচনের পর প্রথম সভা আগে হওয়ায় এই সিটি করপোরেশন দুটিতে আগে নির্বাচন দেয়া হবে। এ দুটিতে আগে নির্বাচন করার আইনি বাধ্যবাধকতাও রয়েছে।