জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতিমালার খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

স্টাফ রিপোর্টার : জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতিমালা ২০১৮-এর খসড়ার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গণমাধ্যমের সঙ্গে সামরিক বাহিনীর সম্পর্ক বিষয়ে এ নীতিমালায় বেশকিছু বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, সচেতন নাগরিক সশস্ত্র বাহিনীর ভালো বন্ধু। জাতীয় নিরাপত্তা সম্পর্কিত অনুমোদিত তথ্য দায়িত্বশীল প্রচারণার মাধ্যমে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

সুতরাং একটি বন্ধুপ্রতীম গণমাধ্যম সামরিক সম্পর্ক অপরিহার্য। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে উদ্ধৃত এ মূল্যবোধ সংবলিত রাষ্ট্রের মৌলিক উদ্দেশ্য ও আদর্শিক রূপরেখা গঠন করে। যা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও বৈদেশিক নীতি এবং সার্বিক জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে মূলভিত্তি প্রদান করে।

নীতিমালার কয়েকটি অধ্যায়ের মধ্যে রয়েছে-মুখ্য জাতীয় মূল্যবোধসমূহ, জাতীয় লক্ষ্য বা প্রতিরক্ষার উদ্দেশ্য, জাতীয় স্বার্থ, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষার মূলনীতিসমূহ বা মৌলিক বিষয়সমূহ।

শফিউল আলম বলেন, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা অর্থাৎ সশস্ত্র বাহিনীর মূল সক্ষমতা কী হবে, সশস্ত্র বাহিনীর যুদ্ধকালীন মোতায়েন কীভাবে হবে, সামরিক ও অসামরিক সম্পর্ক কী হবে, সশস্ত্র বাহিনী ও নাগরিকদের সাথে কী সম্পর্ক বজায় থাকবে-এ বিষয়গুলোও বিস্তারিত বলা হয়েছে এ নীতিমালায়।

তিনি বলেন, নিরাপত্তা বিষয়ক জাতীয় কমিটি, মন্ত্রিসভা কমিটি কীভাবে হবে তাও এখানে পরিষ্কার করা হয়েছে।

নিরাপত্তা বিষয়ক জাতীয় কমিটি বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী প্রধান থেকে পরিচালিত হচ্ছে, সেটা এভাবেই থাকবে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের যিনি মন্ত্রী থাকবেন, তার নেতৃত্বে পরিচালিত হবে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। প্রতিরক্ষা বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি বরাবরই সংসদ কর্তৃক গঠন করা হয়, সেভাবে এখনও থাকবে।

আধা সামরিক ও সহায়ক বাহিনী যুদ্ধকালীন সময়ে অপারেশনাল কমান্ডে থাকবে সামরিক বাহিনীর আওতায়। যেমন বিজিবি, কোস্টগার্ড, বিএনসিসি, পুলিশ বাহিনীসহ অন্যান্য প্রতিরক্ষা বাহিনী যারা আছে, তারা সেনাবাহিনীর অপারেশনাল কমান্ডে থাকবে।

তিনি আরো বলেন, প্রতিরক্ষা নীতিমালার উপসংহারে বলা হয়েছে, রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ৭ মার্চ ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সকলকে প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলার এ আহ্বান জানিয়ে বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার ডাক দিয়ে জনসাধারণকে নিয়ে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েন। এই ধারা অব্যাহত রয়েছে।