বিমান দুর্ঘটনাআহতরা আশঙ্কামুক্ত, তবে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত

বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনার আহতদের চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের সমন্বয়কারী ডা. সামন্ত লাল সেনকে প্রধান করে ১৩ চিকিৎসককে নিয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করেছে সরকার।

শনিবার (১৭ মার্চ) ঢামেকের প্রশাসনিক ব্লকের সভাকক্ষে এ বোর্ড গঠনের পর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) আবুল কালাম আজাদ।

বোর্ডের অন্য সদস্যরা হলেন- ঢামেকের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম, বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সাজ্জাদ হোসেন খন্দকার, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. ফারুক আলম, ঢামেকের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের অধ্যাপক ডা. রায়হানা আউয়াল, রেসপিরেটোরি মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মহিউদ্দিন আহমেদ, সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. এজেডএম মোস্তাক হোসেন তুহিন, অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. শামসুজ্জামান, অ্যানেসথেসিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মোজাফফর হোসেন, মানসিক ও স্বাস্থ্য বিভাগের অধ্যাপক ডা. আবদুল্লাহ আল মামুন, অ্যানেসথেসিওলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. জাহাঙ্গীর কবির, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জহির উদ্দিন ও সাইকিয়াট্রিক জামাল হোসেন।

সভা শেষে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক বলেন, আহতদের মধ্যে শারীরিকভাবে কেউ আশঙ্কাজনক অবস্থায় নেই এখন, তবে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তাই মেডিকেল বোর্ডে মানসিক চিকিৎসকও রাখা হয়েছে। তারা আজ থেকেই চিকিৎসা শুরু করেছেন। সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢামেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসিরউদ্দিন ও বার্ন ইউনিটের সমন্বয়কারী ডা. সামন্ত লাল সেন।

গত ১২ মার্চ ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় বিধ্বস্ত হয় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিএস-২১১। এতে প্লেনের ৭১ আরোহীর মধ্যে ৫১ জনের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে ফ্লাইটটির পাইলট, কো-পাইলট, ক্রুসহ ২৬ বাংলাদেশি আরোহী ছিলেন।

দুর্ঘটনায় আহত হন ১০ বাংলাদেশি। তাদের উদ্ধার করে প্রথমে নেপালের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর ডা. রেজওয়ানুল হক শাওন নামে একজনকে নিয়ে যাওয়া হয় সিঙ্গাপুরে। শাহরিন আহমেদ, কামরুন নাহার স্বর্ণা, আলমুন নাহার অ্যানি ও মেহেদী হাসান নামে চারজনকে গত দু’দিনে বাংলাদেশে এনে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শনিবার নিয়ে আসা হচ্ছে মেহেদী রাশেদ রুবায়েত নামে আরও এক যাত্রীকে। সে হিসেবে নেপালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন চার বাংলাদেশি।