আওয়ামী লীগ হলো প্রতারণার চ্যাম্পিয়ন: মওদুদ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের মন্তব্য, বর্তমান সরকারের নৈতিকতা নেই। তার ভাষ্য, ‘একদিকে সরকার বলছে বিএনপি নির্বাচনে আসুক, আবার কোথাও সভা-সমাবেশ করতে দেওয়া হয় না। আমরা ন্যূনতম অধিকার থেকে বঞ্চিত। তারপরও তারা বলে, বিএনপি নির্বাচনে আসুক। আওয়ামী লীগ হলো প্রতারণার চ্যাম্পিয়ন।’ শুক্রবার (১৬ মার্চ) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে তিনি এসব কথা বলেন। খালেদা জিয়ার কারাবাস দীর্ঘায়িত করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে আলোচনা সভা হচ্ছিল সেখানে। সরকারের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে বিএনপিকে দুর্বল করে দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন মওদুদ। তার কথায়, ‘নির্বাচন নিয়ে সরকার প্রতারণা করছে। তারা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায় না। তারা চায় না বিএনপি নির্বাচনে আসুক। কারণ, তাদের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি। আমরা তাদের বলতে চাই, কৃত্রিম বিরোধী দল সৃষ্টি করে লাভ হবে না। বিএনপি একমাত্র দল, যারা নির্বাচন করে জয়লাভের ক্ষমতা রাখে।’ মওদুদ আহমদ মনে করেন, বিএনপি টিকে আছে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের ওপর নির্ভর করে। কিন্তু তিনি ক্ষোভের সুরে বললেন, ‘মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের হাত-পা বেঁধে বিএনপিকে সাঁতার কাটতে বলা হচ্ছে। বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মী এখন জেলখানায়। যারা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেবে তাদের মামলা দিয়ে কারাগারে রাখা হয়েছে। বিএনপির গ্রামপর্যায়ের কোনও কর্মী রাতে বাড়িতে থাকতে পারে না। ঈদ করবে, বোনের বিয়েতে থাকবে; তাও পারে না।’ নির্বাচন কমিশনেরও (ইসি) কঠোর সমালোচনা করেছেন মওদুদ— ‘এই নির্বাচন কমিশনের কোমরে কোনও জোর নেই। তাদের ন্যূনতম সাহস নেই। একটি দল সরকারি খরচে বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে প্রচারণা করে, আর এই কমিশনের কিছুই করার থাকে না।’ ভোট চাওয়ার জন্য যেকোনও প্রতিশ্রুতি দেখানোই নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন মওদুদ। তার চোখে, এটি নির্বাচনি আইনের পরিপন্থী। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী দলের সভানেত্রী হিসেবে ভোট চাইতে পারেন, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সরকারি খরচে নির্বাচনি প্রচারণা করতে পারেন না। সভানেত্রী হিসেবে ভোট চাওয়ার সেই একই অধিকার বিরোধী দলকেও দিতে হবে।’ আলোচনা সভায় আরও ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ, ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান, এলডিপির যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাৎ হোসেন সেলিমসহ অনেকে।