এখনো মেলেনি জনসভার অনুমোদন, তবু জোর প্রস্তুতি বিএনপিতে

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির জনসভার জন্য প্রশাসনের তরফ থেকে এখনো পর্যন্ত অনুমোদন মেলেনি। তবে, বসে নেই বিএনপিও। দলটি আশা করছে শেষ পর্যন্ত প্রশাসন থেকে তাদের জনসভা করার অনুমতি দেয়া হবে।

দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি, শান্তিপূর্ণ আন্দোলন-প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বাধা ও দলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে আগামীকাল সোমবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভার জন্য জোর প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপি। বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সোমবারের জনসভা ঘিরে সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। এবং তারা আশা করছে, শেষ পর্যন্ত প্রশাসন জনসভার অনুমতি দেবে। গতকাল নয়াপল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনেও তেমনই আশা প্রকাশ করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। যদিও সাম্প্রতিক অতীতে একাধিকবার জনসমাবেশের অনুমতি চেয়েও তা পায়নি বিএনপি। এদিকে ১২ মার্চের ঘোষিত জনসভা ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপি। সমাবেশকে কেন্দ্র করে বেগম জিয়ার মুক্তির দাবির পাশাপাশি বড় ধরনের শোডাউনের মাধ্যমে সরকারের কাছে নিজেদের জনপ্রিয়তা এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনের বিষয়ে বার্তা পৌঁছে দিতে চায় বিএনপি। এজন্য লক্ষাধিক লোকসমাগমের ওপর বিশেষ জোর দেয়া হচ্ছে বলেও জানা গেছে।

ইতোমধ্যে সমাবেশে ঢাকা ও ঢাকার আশপাশের জেলার নেতাকর্মীদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। সারা দেশ থেকেও বিশাল জমায়েত জনসভায় অংশ নেবে বলে ধারণা করছে বিএনপি। এ প্রসঙ্গে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, ‘আমরা আশা করি, আগামীকালের এই জনসভাটি করার জন্য সরকার আমাদেরকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। যদিও এখন পর্যন্ত প্রশাসন আমাদেরকে অনুমতি দেয়নি। কারণ তারা সব সময়ই বলে থাকেন যে, তারা কোনো বাধা দেন না, তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন, মানুষের ও রাজনৈতিক দলগুলোর মত প্রকাশে তারা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন। আমরা আশা করব, সমাবেশের অনুমতি দেয়ার মধ্য দিয়ে তারা তাদের এই কথাগুলোর সত্যতা প্রমাণ করবেন।’ খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জনসভা করার জন্য ঢাকার প্বার্শবর্তী জেলাগুলোর ভূমিকা কেমন থাকবে জানতে চাইলে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ শামসুল আলম তোফা বলেন, ‘১২ মার্চ বিএনপি জনসভার মধ্য দিয়ে প্রমাণ করবে মুক্ত খালেদা জিয়ার চেয়ে বন্দি খালেদা জিয়া আরও বেশি শক্তিশালী। এই জনসভা হবে স্মরণকালের সর্ববৃহৎ জনসভা। জনসভাকে ঘিরে টাঙ্গাইল শহরের বিভিন্ন এলাকায় জেলা বিএনপির উদ্যোগে লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। সরকার আমাদের শান্তিপূর্ণ জনসভায় সহযোগিতা না করে যান চলাচল বন্ধ করে দিলে নেতাকর্মীরা প্রয়োজনে পায়ে হেঁটে জনসমাবেশে যোগ দেয়ার জন্যও প্রস্তুত রয়েছে।’