৭ মার্চের শ্লীলতাহানির ঘটনা নারীদেরকে কি রাজনীতি বিমুখ করে তুলবে?

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর বাংলামোটর এলাকায় একজন কলেজ ছাত্রীকে নিপীড়নের অভিযোগের ব্যাপারে পুলিশ এখনও কাউকে চিহ্নিত বা গ্রেপ্তার করতে পারেনি। ওই শিক্ষার্থীর বাবা অজ্ঞাতনামা পনেরো বিশ জনকে অভিযুক্ত করে একটি মামলা করেছেন।  ৭ মার্চ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সমাবেশে যোগ দিতে যাওয়া একটি মিছিলের মধ্যে পড়ে ঐ শিক্ষার্থী একদল যুবকের হাতে নির্যাতিত হন বলে অভিযোগ উঠেছে।  বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করেন, এ ধরনের ঘটনা নারীদের আরো রাজনীতি বিমুখ করে তুলবে। খবর বিবিসির।   নির্যাতিত ঐ কলেজ ছাত্রীর ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে বিষয়টি প্রথমে আলোচনায় এসেছিল। এরপর অনেক নারীই ৭ মার্চ আওয়ামী লীগের জনসভাকে কেন্দ্র করে রাস্তায় যৌন আক্রমণ ও অশ্লীল মন্তব্যের শিকার হওয়ার অভিযোগ তোলেন সামাজিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে। শেষ পর্যন্ত নির্যাতিত কলেজ ছাত্রীর বাবা একটি মামলা করেন।  এধরনের ঘটনা নারীদের মাঝে রাজনীতি সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করছে কিনা, নারীদের আরও রাজনীতি বিমুখ করে তুলবে কিনা—এসব প্রশ্ন এখন উঠছে।    একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী বলছিলেন, রাজনীতি করার একটা চিন্তা তার ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক কর্মসূচির সময় নারী নির্যাতিত হওয়ার ঘটনায় তিনি হতাশ হয়েছেন।এখন তিনি রাজনীতি করার চিন্তা থেকে সরে এসেছেন।  ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে, রাজনীতির উপর যতটুকু ভরসা ছিল বা রাজনীতি করার যতটুকু ইচ্ছা ছিল, এখন নারী নির্যাতিত হওয়ার ঘটনায় আমি হতাশ হয়েছি।’  ‘রাজনীতির প্রতি আমার একটা বিতৃষ্ণা তৈরি হয়েছে যে, রাজনীতি করলে আমার কী নিরাপত্তা থাকবে?আমি নারী হিসেবে কতটুকু নিরাপত্তা পাচ্ছি?’ – প্রশ্ন রাখেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এ ছাত্রী।  রাজনীতিকরাও তাদের অভিজ্ঞতা থেকে মনে করেন, রাজনীতি নিয়ে নারীদের আগ্রহ এমনিতেই অনেক কম।  এখন রাজনৈতিদলগুলোর নিবন্ধনের অন্যতম একটি শর্ত হিসেবে সব পর্যায়ের কমিটিতে এক তৃতীয়াংশ নারী সদস্য রাখার প্রশ্নে বড় দলগুলোই হিমশিম খাচ্ছে।এমন প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক কর্মসূচির সময় নারী নির্যাতিত হওয়ার ঘটনা রাজনীতি সম্পর্কে নারীদের নেতিবাচক ধারণা দেবে বলে রাজনীতিকদেরই অনেকের ধারণা।  আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক অপু উকিলও মনে করেন, এ ধরনের ঘটনা নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।কিন্তু আদর্শ নিয়ে রাজনীতি করেন, এমন কেউ নারী নির্যাতনের এসব ঘটনার সাথে জড়িত থাকতে পারে না বলে তিনি বিশ্বাস করেন।  আরেকটি প্রধান দল বিএনপির একজন নেত্রী রুমিন ফারহানা বলছিলেন, এমন ঘটনা শুধু নারীদের উপরই নয়, গোটা তরুণ সমাজের উপরই নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।  ‘আগে ভাল ছাত্ররা রাজনীতি করতো।এখন সেটা হয় না।রাজনৈতিক কর্মসূচির সময় নারী নির্যাতনের ঘটনাগুলো ভাল ছাত্র ছাত্রীকে আরও রাজনীতি বিমুখ করবে।’  নারী অধিকার নিয়ে আন্দোলনকারী সংগঠন মহিলা পরিষদের সভানেত্রী আয়শা খানম ব্যাখ্যা করেন ভিন্নভাবে।তিনি মনে করেন, সুযোগ এবং পরিবেশ পেলে রাজনীতির প্রতি নারীদের আগ্রহ আছে। কিন্তু ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার না হলে, সেটি আরও বেশি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।  যদিও ঘটনার দায় সরকারের উপর বর্তায় বলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বক্তব্য দিয়েছেন।  কিন্তু এর দায় আওয়ামী লীগের নয় বলে তিনি যে মন্তব্য করেছেন, তা নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছে।আওয়ামী রীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ বলেছেন, ‘সেদিন এটি দুঘর্টনা ঘটেছে। এরফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আমি মনে করি না।’  এদিকে. স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানও বলেছেন, ঘটনা ভিডিও ফুটেজ পুলিশের হাতে এসেছে এবং তা দেখে অপরাধীদের চিহ্নিত করা হবে।  তবে এ ঘটনা যে আওয়ামী লীগ এবং সরকারকে বিব্রত করেছে, সেটা দলটির নেতাদের অনেকে মনে করছেন।