সিংগাইরে ৬ টি সেতু জরাজীর্ণ, অনেকগুলোর বেহালদশা

মাসুম বাদশাহ্, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) থেকে : সিংগাইর উপজেলার অভ্যন্তরে সড়কগুলোয় নির্মিত ৬টি সেতু জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। সেই সাথে ১৫-২০ বছর আগে নির্মিত সেতুগুলোর বেশিরভাগই বেহালদশায় পরিণত হয়েছে। ফলে, ঝূঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন, যাত্রীসাধারণসহ পথচারীরা। সেতু অতিক্রম করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার ধল্লা বাস্তা-মানিকনগর সড়কে হাতনী গ্রামের পান্নু মাতব্বরের বাড়ির মোড়ে সেতুটি অনেক আগেই হারিয়েছে যান চলাচলের উপযোগিতা। সেতুর একাধিক স্থানে  জোড়াতালি দিয়ে চলছে পারাপার। একাধিকবার ওই সেতুস্থলে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে অনেকে পুঙ্গত্ববরণ করে জীবন কাটাচ্ছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভের সাথে জানান। একই অবস্থা দেখা যায়, ওই সড়কের হাতনী চকের খালের উপর সেতুটির। দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত ঝুকিপূর্ণ ওই সেতুটির ওপর দিয়ে ৪টি ইটভাটার ট্রাক-ট্রলি বেপরোয়াভাবে চলাচল করায় দু‘পাশের রেলিং ভেঙ্গে পড়েছে। মাঝখানে সৃষ্টি হয়েছে একাধিক গর্তের। হাতনী গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রহমান (৬০) অভিযোগ করে বলেন, এলাকাবাসির পক্ষ থেকে মাঝে-মধ্যে জোড়াতালি দিয়ে ব্যবহার করলেও ইটভাটার গাড়ীগুলো চলাচলে তা সহজে ভেঙ্গে যায়। সেতু দু’টি দ্রুত পুন:নির্মাণের দাবী করেন সড়কে চলাচলকারী পরিবহণ চালক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

অনুরূপ জার্মিত্তা-চান্দহর শাখা সড়কের বেল্লকপাড়া সেতুর মাঝখানে ঢালাই ভেঙ্গে বৃত্তাকারে ফুটো হয়ে গেছে। সেতুটি চান্দহর ও জামির্ত্তা ইউনিয়নের সংযোগস্থল হওয়ায় এ দু’ইউনিয়নের মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। চরমাধবপুর গ্রামের জামির্ত্তা সত্য গোবিন্দ উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র সুমন অভিযোগ করে বলেন, ভয় ও বিপদ মাথায় রেখে অনেক সতর্কতা নিয়ে সেতু পার হতে হচ্ছে তাদের। সেতু পার হতে গিয়ে পা ফুঁসলে খাদে পড়ে বড় ধরণের দুর্ঘটনার আশংকা করেন ওই স্কুল ছাত্র। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সেতুটির উপর দিয়ে যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে। একই দৃশ্য দেখা যায়, মানিকনগর-সিরাজপুর সড়কের কানু খালি সেতুর। ওই সেতুর মাঝখানের পিচঢালাই ওঠে গেছে। ফলে, বড় আকারের ফুটো হওয়ায় সেতুর উপর দাঁড়িয়ে নিচের খাদ দেখা যায়। এতে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করছে।

এ ব্যাপারে স্থানীয় চান্দহর ইউপি চেয়ারম্যান শওকত হোসেন বাদল বলেন, আমি যতটুকু জানি হাতনীর চকের দু’টিসহ ৪টি সেতুর পুন:নির্মাাণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তবে সংস্কার করে যান চলাচলের কাজ চলছে।

এদিকে, হেমায়েতপুর-সিংগাইর-মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের জায়গীর-আঠালিয়া সংযোগ সেতুটির মাঝখানে ঢালাই ভেঙ্গে রড বের হয়ে গেছে। উঁকি মারলে দেখা মিলে গভীর খাদ। এ সেতুর ১ কিলোমিটার পশ্চিমে ভূমদক্ষিণ বাসস্ট্যান্ডের দক্ষিণ পাশে শাখা সড়কের সংযোগস্থলে সেতুটির প্রবেশ পথের একটি অংশ ভেঙ্গে যান চলাচলে বিঘœ ঘটছে। ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন  ভূমদক্ষিণ, আঠালিয়া, কাঞ্চননগর ও কউচা গ্রামের লোকজন।

এ প্রসঙ্গে ধল্লা ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ জাহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, আমার ইউনিয়নের জায়গীর ও ভূমদক্ষিণ সেতু ২টি ঝুঁকিপূর্ণ বলে উপজেলা প্রকৌশলীকে জানিয়েছি।

এ ছাড়া জয়মন্টপ পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, কিটিংচর, আজিমপুর ও বাইমাইল বাসস্ট্যান্ডে মূল সড়ক থেকে শাখা সড়কের সংযোগস্থলে সেতুগুলোর রেলিং ভেঙ্গে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে। সাহরাইল-নিলাম্বরপট্টি সড়কের চঙ্গোমোড়া ও মোসলেমাবাদের সেতু ২টির অবস্থাও নাজুক। অনেক আগেই হারিয়েছে যান চলাচলের উপযোগিতা। এসব সেতুগুলোর রেলিং না থাকায় যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে ঘটছে সম্পদসহ প্রাণহানির ঘটনা।

এ ব্যাপারে সিংগাইর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মোঃ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সেতুগুলো পুন:নির্মাণের কাজ অব্যাহত আছে। আগামীতে কালভার্ট কিংবা ব্রীজ প্রকল্পে এগুলো অগ্রাধিকার দেয়া হবে।