বেশিসংখ্যক নারী বিচারপতি নিয়োগে প্রধান বিচারপতির আশ্বাস

উচ্চ আদালতে বেশিসংখ্যক নারী বিচারপতি নিয়োগে সচেষ্ট থাকার প্রতিশ্রুতি দিলেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। পাশাপাশি নিম্ন আদালতেও নারী বিচারক নিয়োগের বিষয়টি ভাবা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। শনিবার (১০ মার্চ) রাজধানীর বিচার প্রশাসন ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিটিউশনে তার কাছ থেকে এসব প্রতিশ্রুতি মিলেছে। সেখানে তাকে সংবর্ধনা দিয়েছে বাংলাদেশ উইম্যান জাজ অ্যাসোসিয়েশন।  প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, ‘উচ্চ আদালতে বেশিসংখ্যক নারী বিচারপতি নিয়োগে আমরা সচেষ্ট থাকবো। জেলা ও দায়রা জজ এবং চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নারীদের নিয়োগের বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হবে।’  বিভিন্ন জেলায় আবাসন বরাদ্দের ক্ষেত্রে নারী বিচারপতিদের অগ্রাধিকার দিতে সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। তার ভাষ্য, “একই পরিবারের স্বামী-স্ত্রী দু’জন বিচারক হলে তাদের কর্মস্থল একই জেলায় রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা থাকবে। তবে সঙ্গত কারণে তা সম্ভব না হলে পাশের জেলায় পদায়ন করা হবে।”  প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘বিচারাঙ্গনে যে নারীরা কাজ করছেন, তাদের জন্য সুযোগ-সুবিধার বিষয়টি প্রধান বিচারপতির দৃষ্টিতে আনতে চাই।’  স্পিকার মনে করেন, সংবিধান অনুযায়ী গণতন্ত্র পদ্ধতিতে শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য বিচার বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ ও আইন বিভাগকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সুবিচার নিশ্চিত করতে আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও তার বাস্তবায়ন করা জরুরি বলেও মন্তব্য তার। নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে বিচার বিভাগ দৃঢ় ভূমিকা রাখবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।  বাংলাদেশ উইম্যান জাজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তানজিনা ইসমাইলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন প্রধান বিচারপতির স্ত্রী সামিনা খালেক, সংগঠনের উপদেষ্টা আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী, বিচারপতি জিনাত আরাসহ বিচারিক আদালতের নারী বিচারকরা।