আশুলিয়ায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ডাকাত সর্দার রুবেল নিহত

আশুলিয়া ব্যুরো : আশুলিয়ায় বন্দুক যুদ্ধে রুবেল (২৫) নামে একজন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে দুই ডিবি পুলিশ। পুলিশের দাবি নিহত রুবেল আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সর্দার। আশুলিয়ায় গণপরিবহণে ডাকাতি করে চালককে হত্যা, হেলপার ও সুপারভাইজারকে কুপিয়ে আহত করে আশুলিয়ার শ্রীপুর এলাকায় গাড়িতে ফেলে রেখে যায়। এ ঘটনায় দুই দফায় ১০ ডাকাতকে আটক করে পুলিশ। আটককৃতদের দেয়া তথ্যমতে, আশুলিয়ার কবিরপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে রুবেলকে আটক করে ডিবি পুলিশ।

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ঢাকা জেলা উত্তরের ডিবি পুলিশের ওসি বাশার-এর নেতৃত্বে ডিবি পুলিশ আটককৃত রুবেলকে নিয়ে তার দেয়া তথ্যমতে, আশুলিয়ার টঙ্গাবাড়ি এলাকায় অন্য ডাকাত সদস্য ও তাদের কাছে থাকা অস্ত্র উদ্ধারে যায়। এ সময় পুলিশের অবস্থান টের পেয়ে রুবেলের সহযোগিরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এসময় রুবেল গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এ ঘটনায় ঢাকা জেলা উত্তরের ডিবি পুলিশের দুই কর্মকর্তা আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। নিহত রুবেল টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল থানাধীন লক্ষ্মীনদর এলাকার লাল মাহমুম ওরফে লাল মিয়ার ছেলে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।

ডিবি উত্তরের অফিসার ইনচার্জ আবুল বাশার পিপিএম জানান, ১৩ ফেব্রুয়ারী টাঙ্গাইল থেকে ছেড়ে আসা ধলেশ^রী পরিবহনে আশুলিয়ার নবীনগর-কালিয়াকৈর মহাসড়কের শ্রীপুর এলাকায় ভোর রাতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতরা যাত্রী বেশে গাড়িতে ওঠে প্রথমে বাসটির নিয়ন্ত্রণ নিতে চালককে মারপিট করে। এসময় চালক বাধা দিলে ডাকাতরা চালক শাহজাহান মিয়া (৪২)কে কুপিয়ে হত্যা করে ও  পরিবহণটির সুপার ভাইজার শহিদ খান (৩৬) ও হেলপার বাদশা মিয়া (৩২) কে কুপিয়ে আহত করে। পরে অস্ত্রের মুখে বাসটির যাত্রীদের জিম্মি করে তাদের কাছ থেকে মালামাল লুট করে শ্রীপুর এলাকায় বাসটি ফেলে ডাকাতদল পালিয়ে যায়। পরে এলাকাবাসি বিষয়টি জানালে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বাসটির মধ্য থেকে চালকের মৃত দেহ উদ্ধার করে।  আহতদেরকে গণস্বাস্থ্য মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্যে ভর্তি করে।

নিহত চালক শাহজাহান মিয়া টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চরজানা গ্রামের দিশা মিয়ার ছেলে। গুরুতর আহত বাসের হেলপার বাদশা মিয়া একই জেলা উপজেলার বিশ্বাস বেতকা গ্রামের মৃত ছানোয়ার মিয়ার ছেলে। সুপারভাইজর শহিদুল খান একই জেলার নাগরপুর থানাধীন পাছিতা গ্রামের মৃত ইবাদত খানের ছেলে।

এ ঘটনায় ওই দিনই নিহতের ভাই আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করে। ঘটনায় পুলিশ আধুনিক তথ্য প্রযুুক্ত ব্যবহার করে ডাকাত দলের ১০ সদস্যকে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৮ ফেব্রুয়ারী আটক করে। এসময় ডাকাতদের কাছ থেকে নিহত চালক শাহজাহান, সুপারভাইজার শহিদ খান ও হেলপার বাদশার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করে পুলিশ। ১০ ডাকতকে আটক করার পর তাদের দেয়া তথ্যানুযায়ী ডাকাত সর্দার রুবেলকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আশুলিয়ার বাড়ইপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে আটক করে ঢাকা জেলা উত্তর ডিবি পুলিশ।

পরে ডাকাত সর্দার রুবেলের দেয়া তথ্যানুযায়ী বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটায় টঙ্গাবাড়ি এলাকায় সহযোগি ডাকাত সদস্যদের ধরতে অভিযান চালাতে গেলে পূর্ব থেকে ওৎপেতে থাকা ডাকাতরা ডিবি পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি বর্ষণ করে। এসময় পুলিশ ডাকাতদের ওপর পালটা গুলি ছোঁড়ে। এতে ডাকাত সর্দার রুবেল নিহত হয়। এ ঘটনায় আহত হন এসআই তানভীর ও সেলিম মিয়া।

ওদিকে পুলিশের একটি সূত্র জানায়, নিহত ডাকাত সর্দার রুবেলের নেতৃত্বে ওইদিন ডাকাতির সময়ে অনেকের মধ্যে হিন্দু পরিবারের মা ও মেয়ে দু’জন যাত্রী ছিল। এসময় রুবেলের নেতৃত্বে মা’কে ধর্ষণ করতে গেলে তার মেয়ে বলে তার সামনে তার মা কে নয়। তারা তাকে ব্যবহার করতে পারে। পরে ওই মেয়েটিকে ডাকাতরা ধর্ষণ করে। তবে মেয়েটির পরিচয় ও তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন পুলিশ এখনও উদ্ধার করতে পারেনি।